আপন জুয়েলার্সের মালিকের বিরুদ্ধে ‘পুত্রবধূর’ নির্যাতনের মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

নিজস্ব বার্তা প্রতিবেদক : আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমসহ দুজনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনে ঢাকার আদালতে মামলা করেছেন ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা নামের এক নারী। ওই নারী নিজেকে দিলদার আহমেদের ছেলে শাফাত আহমেদের স্ত্রী বলে দাবি করেন। এই মামলায় অপর আসামি হলেন আপন রিয়েল এস্টেট কোম্পানির উপদেষ্টা মোখলেছুর রহমান।

সোমবার ঢাকার মহানগর হাকিম মো. তোফাজ্জল হোসেন ওই নারীর অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আরজিতে ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা বলছেন, আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে শাফাত আহমেদের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয় ২০১৫ সালে। বিয়ের পর গুলশানে শ্বশুরের বাসায় স্বামীকে নিয়ে বসবাস করেন। তিনি এখন দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বিয়ের পর শ্বশুর চাননি যে তাঁর স্বামীর সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক অটুট থাকুক। তাঁর শ্বশুর শুরু থেকে তাঁকে মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন। তাঁর স্বামী অনৈতিক কাজে লিপ্ত হলে তিনি বাধা দেন। কিন্তু শ্বশুর কোনো বাধা দেননি। পরোক্ষভাবে অনৈতিক কাজে সহযোগিতা করেছেন শ্বশুর। উল্টো তাঁকে তালাক দেওয়ার জন্য শাফাতকে নানাভাবে চাপ দেন। তাঁকে তালাক না দিলে শাফাতকে ত্যাজ্যপুত্র করারও হুমকি দেন। এমনকি সম্পত্তি থেকেও বঞ্চিত করার হুমকি দেন শ্বশুর দিলদার আহমেদ।

মামলায় ফারিয়া মাহাবুব আরও দাবি করেছেন, তাঁর স্বামী শাফাত আহমদে (বনানীর রেইনট্রিতে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি) একটি মামলায় কয়েক মাস জেলহাজতে ছিলেন। তখন তাঁর শ্বশুর তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। গত বছরের ৩১ নভেম্বর শাফাত ওই মামলায় জামিনে ছাড়া পান। শ্বশুরের নির্যাতনের ঘটনা স্বামীকে বলেন। এ কথা জানতে পেরে তাঁর শ্বশুর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ওই মামলায় স্বামী শাফাত আহমেদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠান আদালত। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর পেয়ে শ্বশুর দিলদার আহমেদ তাঁকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দেন। ৬ মার্চ রাত ১০টার দিকে শ্বশুরের বাসায় প্রবেশের সময় দিলদার ও অপর আসামি মোখলেছুর তাঁকে উদ্দেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তখন তাঁর কাছে থাকা দুই লাখ টাকাসহ স্বর্ণালংকার তাঁরা ছিনিয়ে নেন। শ্বশুর তাঁর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন। বের না হলে হত্যারও হুমকি দেন তিনি।

প্রসঙ্গত, বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে শাফাত আহমেদ এখন কারাগারে। ওই মামলা ঢাকার ৭ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

সোমবার আদালতের কাছে জবানবন্দি দেন শাফাতের স্ত্রী ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা। আদালতে মামলা করার আগে একই অভিযোগ তুলে গুলশান থানায় ৭ মার্চ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ফারিয়া। সাধারণ ডায়েরিতে ফারিয়া বলেন, ‘আমি যদি ওই বাড়িতে প্রবেশ করতে চেষ্টা করি, তবে আমাকে জানে শেষ করে ফেলবে।’

গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুব আলম সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, ফারিয়া মাহাবুব নামের ওই নারী জিডি করলে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানিয়েছেন, ফারিয়া মাহাবুব তাঁদের পরিবারের সদস্য নন। তিনি বাড়ি ভাঙছেন বিধায় অভিযোগকারীর মালামাল নিচে রাখা হয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা বলেন, আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে শাফাতের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয় ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি। বিয়ের পর তাঁর স্বামীর সঙ্গে তিনি বসবাস করে আসছিলেন। শাফাত আহমেদ জামিনে বের হওয়ার পর তিনি তাঁর আসবাব নিয়ে শ্বশুরের বাসায় ওঠেন। সেখানে বসবাস করে আসছিলেন। শাফাত কারাগারে গেলে তাঁর ওপর নির্যাতন করা হয়। তাঁকে ওই বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসার অভিযোগ, নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর বিচার চেয়ে গুলশান থানায় অভিযোগ করেছেন। এখন আদালতে মামলা করেছেন। তিনি বিচার চান। তাঁর অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেওয়ায় তিনি বিচার পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।

তবে ফারিয়া মাহাবুবের অভিযোগ প্রসঙ্গে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের বক্তব্য জানার জন্য তাঁর মুঠোফোনে একাধিক কল করা হয়। কিন্তু মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।