আয়কর আদায়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঘাটতি ১৪ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব বার্তা প্রতিবেদক : চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিশাল রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হলেও আদায় তাল মেলাতে পারছে না। রাজস্বের অন্যতম খাত আয়কর আদায় অন্য দুইটি খাত শুল্ক ও ভ্যাটের চেয়ে কিছু ভালো অবস্থানে থাকলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্টসূত্র জানিয়েছে, অর্থবছরের প্রথম আট মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয়কর আদায়ে ঘাটতি ১৩ হাজার ৯১০ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে ৫৭ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয়কর আদায় হয়েছে ৪৩ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা।

বৃহত্ করদাতা ইউনিটসহ (এলটিইউ) ৩১টি কর অঞ্চলের মাধ্যমে আয়কর আদায় করে থাকে এনবিআর। সূত্র জানিয়েছে, এর মধ্যে ২৪টি কর অঞ্চলই আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। অবশ্য গত আট মাসে পূর্বের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে আদায় বেড়েছে ১৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আয়কর ও ভ্রমণ কর মিলিয়ে আদায় হয়েছিল ৭২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি হয়েছিল প্রায় ১৭ শতাংশ। অথচ চলতি অর্থবছরের জন্য অর্থমন্ত্রণালয় ৫৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে আয়কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত নয়। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, গত কয়েক বছর ধরেই বিশাল রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হলেও বছর শেষে তা অর্জন হচ্ছে না। ফলে মাঝপথে এসে সংশোধন করে কমিয়ে আনতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে সরকারের আর্থিক, রাজস্ব কাঠামো তথা বাজেট নিয়ে আস্থাহীনতা তৈরি হবে। তিনি আয়করসহ রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবভিত্তিক করার তাগিদ দেওয়ার পাশাপাশি এনবিআরের সক্ষমতা আরো বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।

অন্যদিকে অর্থনীতিবিদ ও পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর মনে করেন, এনবিআরকে বর্তমান অবস্থায় রেখে সরকারের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, যারা কর দিচ্ছে, কর বিভাগ কেবল তাদের কাছেই যাচ্ছে। কর বাড়ানোর জন্য যে পুনর্গঠন দরকার, তা নেই।

এদিকে চলমান করোনা ভাইরাস বিশ্ববাণিজ্যে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ড. আহসান এইচ মনসুর মনে করেন, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বাংলাদেশেও আয়করসহ রাজস্ব আদায় কমতে পারে। ফলে সার্বিক বিবেচনায় দেশের রাজস্ব খাতের জন্য দুঃসংবাদই অপেক্ষা করছে।

এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, আয়কর আদায়ে লক্ষ্যমাত্রায় সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে রয়েছে কর অঞ্চল-২। আট মাসে ৮ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এই অফিস আদায় করেছে ৩ হাজার ১৫৯ কোটি টাকা। অর্থাত্ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঘাটতি ৫ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা। এছাড়া লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঘাটতির তালিকায় অপেক্ষাকৃত বেশি পিছিয়ে রয়েছে এলটিইউ ১ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা, কর অঞ্চল-১ এক হাজার ৪৪৭ কোটি ছাড়াও আরো কয়েকটি কর অফিস। অন্যদিকে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের তালিকায় রয়েছে কর অঞ্চল-১০, কর অঞ্চল ময়মনসিংহ, কর অঞ্চল বগুড়া, কর অঞ্চল কুমিল্লা ও কর অঞ্চল-১১। এর বাইরে অন্য সব কর অঞ্চলের ঘাটতি রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email