কারাগারে দগ্ধ আইনজীবীর মৃত্যু, বিচারিক তদন্তের নির্দেশ

নিজস্ব বার্তা প্রতিবেদক : পঞ্চগড়ে কারা হেফাজতে থাকা অবস্থায় আইনজীবী পলাশ কুমার রায়ের অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় বিচারিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেয়।

আগামী ২৩ জুন মামলাটি পরবর্তী আদেশের জন্য আবার আদালতের কার্যতালিকায় আসবে বলে জানান রিটকারী আইনজীবী।

আদেশে পঞ্চগড়ের মুখ্য বিচারিক হাকিমের তত্ত্বাবধানে একটি ম্যাজিস্ট্রেট টিম দিয়ে ঘটনার বিচারিক তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়। আদেশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। অনুসন্ধান কাজে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক, জেলা কারাগারের প্রধান এবং জেলার পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের নির্দেশও দিয়েছে আদালত।

কারাগারে কারাবন্দিকে যথাযথ নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেছে আদালত। স্বরাষ্ট্র সচিব, কারা মহাপরিদর্শক, রংপুর বিভাগের কারা উপ মহাপরিদর্শক এবং পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে আবেদনের পক্ষে রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়েদুল হক সুমন নিজেই শুনানি করেন। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোখলেছুর রহমান।

ঢাকা বারের সদস্য পলাশ কুমার রায় (৩৬) কোহিনূর কেমিকেলসের সাবেক আইন কর্মকর্তা ছিলেন। পরে তিনি চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। কোম্পানির ৩১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৬ সালে তার বিরুদ্ধে ঢাকায় একটি মামলা দায়ের হয়।

ওই মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে গত ২৫ মার্চ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অনশনে বসেন পলাশ। পরে জেলা শহরের শের-ই-বাংলা পার্ক সংলগ্ন মহাসড়কে মানববন্ধন করেন। সেখানে হ্যান্ডমাইকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রশাসন ও পুলিশকে নিয়ে কটুক্তি করার অভিযোগে পলাশকে আটক করে সদর থানার পুলিশ। পরে রাজীব রানা নামে একজন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তির অভিযোগে পলাশের বিরুদ্ধে মামলা করেন৷

কোহিনুরের মামলার শুনানির জন্য গত ২৬ এপ্রিল পলাশকে পঞ্চগড় থেকে ঢাকায় পাঠানোর কথা ছিল। সেদিনই অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় পলাশকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ এপ্রিল দুপুরে মারা যান পলাশ। তার শরীরের ৪৭ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল বলে চিকিৎসকরা জানান।

পরিবারের দাবি পলাশকে কারা হেফাজতে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। অপরদিকে পঞ্চগড় জেলা কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, পলাশ নিজের গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে কারাগারের লোকজন আগুন নিভিয়ে তাকে হাসপাতালে পাঠায়।

পলাশের মৃত্যুর ঘটনায় বিচারিক তদন্ত চেয়ে আইনজীবী সৈয়দ সাইয়েদুল হক সুমন গত সোমবার হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন।

Print Friendly, PDF & Email