খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার দুর্নীতি, দুদককে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ

নিজস্ব জেলা প্রতিবেদক : সাতক্ষীরার শ্যামনগরে নকিপুর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতে ৪ এপ্রিল মামলা দায়ের করেন উপজেলার মানিকখালী গ্রামের হাজী আবুল হোসেনের ছেলে হুমায়ুন কবির। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে দুদককে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ প্রদান করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, নকিপুর খাদ্য গুদামে আমন মৌসুমে ৮০০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হয়। এই আমন সংগ্রহ কাজে স্থানীয় রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত ডিলারদের নিকট থেকে চাল সংগ্রহ না করে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে কুষ্টিয়ার খাদ্যগুদামের পুরাতন চাল ইস্যুকৃত ডিও ক্রয় করে নকিপুর খাদ্য গুদামজাত করা হয়।

তাছাড়া বাদী মহাপরিচালক খাদ্য অধিদপ্তর ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ দুদকের হটলাইন ১০৬ বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু কোনভাবেই কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা ওই পুরাতন চালগুলো নতুন বস্তায় ভরে পুনরায় গুদামজাত রাখেন।

অপরদিকে চলতি মৌসুমে কাজের বিনিময়ে খাদ্য প্রকল্পে সাধারণ কোটায় ২৬০ মেট্রিক টন ও বিশেষ কোটায় ১০১ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই চালগুলো উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা কার্যালয় থেকে ডি ও ইস্যু করা হয়। ইস্যুকৃত ডি ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ওসি নকিপুর খাদ্য গুদাম ১৮ টাকা কেজি দরে ক্রয় করে ৩৮ টাকা কেজি দরে সরকারের কাছে বিক্রয় দেখিয়ে পুনরায় গুদামজাত করে রাখেন। এই চাল বিতরণের মাস্টার রোল জালিয়াতি করা হয়। এ ধরনের কোন প্রকল্পে কোন লেবারকে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি চাল দেওয়া হয়নি। তা ছাড়া গুদাম থেকে প্রকল্পের সভাপতির কাছে চাল হস্তান্তরের কাগজে জাল সই করে বিতরণ দেখানো হয়।

বাদী তার মামলায় আরও বলেন, চলতি মৌসুমে ত্রাণের চাল হিসেবে গরীব অসহায়দের মাঝে এই পুরাতন খারাপ চাল বিতরণ করা হবে। এগুলো খাওয়ার অনুপযোগী হওয়ায় এলাকার লোকজন এই চাল খেয়ে অসুস্থ হতে পারে তাই জনস্বার্থে বাদী এ মামলা দায়ের করেছেন। বাদী তার মামলায় শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, খাদ্য গুদামের দুইজন নিরাপত্তা প্রহরীসহ ৬ জনকে সাক্ষী করেছেন। বাদীর দায়েরকৃত মামলা আমলে নিয়ে আদালত দুদককে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। বাদী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সাতক্ষীরা জজ কোটের আইনজীবী ড. শেখ ত্বোহা কামাল।

ঘটনার বিষয়ে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনু রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ভেটখালি বাজারে খাদ্য গুদামের জায়গা নিয়ে ৪টি মামালা হয়েছে। এসব মামলা পরিচালনা করার কারণে বাদী শ্যামনগর খাদ্য গুদামে চাল পচা অভিযোগ তুলে আমার নামে আদালতে মিথ্যা মামলা করেছে।

নব নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউল হক দোলন জানান, খাদ্য গুদামের মধ্যে পুরানো চাল নতুন বস্তায় ভরা হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে খাদ্য গুদামে যেয়ে প্রমাণ মেলেনি।

Print Friendly, PDF & Email