জাপায় প্রতিযোগিতা আছে, দ্বন্দ্ব নেই : জি এম কাদের

নিজস্ব জেলা প্রতিবেদক : জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের বলেছেন, জাতীয় পার্টির মধ্যে প্রতিযোগিতা আছে, তবে কোনো দ্বন্দ্ব নেই।আজ শনিবার কুড়িগ্রামে বন্যা দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন কাদের।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী কলেজ মাঠে আজ ত্রাণ বিতরণ করেন কাদের। এ সময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এসব কথা বলেন।

এইচ এম এরশাদ মারা যাওয়ার পর দলটির চেয়ারম্যান হন তাঁর ছোট ভাই জি এম কাদের। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তা সর্বসম্মতিক্রমে হয়েছিল বলে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে পরে এরশাদ-পত্নী রওশন এরশাদ এ বিষয়ে আপত্তি জানান। দলের চেয়ারম্যান পদ নিয়ে কাদেরের সঙ্গে রওশনের দ্বন্দ্বের বিষয়টি তখন প্রকাশ্যে চলে আসে।

এরশাদ মারা যাওয়ার পর তাঁর ছোট ভাই জি এম কাদের পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে প্রথম কুড়িগ্রামে প্রথম সফরে এলেন। এ নিয়ে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে। দু’দিন আগে থেকেই বিভিন্ন পর্যায়ে নেতা-কর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানাতে আনন্দ মিছিল ও ব্যাপক প্রচার চালায়। ফলে ঝিমিয়ে পড়া জাতীয় পার্টি যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায়।

কাদের আজ ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। জি এম কাদের বলেন, ক্ষমতাসীন সরকার ডেঙ্গু মোকাবিলায় সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।’

জিএম কাদের বলেন, আমি দেখি ঢাকার মানুষ আতঙ্কিত। মশা দেখলেই ভয় পাচ্ছে। কারণ জ্বর হলে ডেঙ্গু হচ্ছে। ডেঙ্গু হলে মানুষ মারা যাচ্ছে। এই আতঙ্কিত মানুষকে রক্ষা করার দায়িত্ব সরকারের।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, আমরা অসহায় হয়ে থাকব আর প্রতিদিন ডেঙ্গু বাড়বে, আমরা কিছুই করতে পারব না—এটা হতে পারে না। এই মহামারি অবস্থা ঠেকাতে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

জি এম কাদের বলেন, আমরা এসেছি বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শনের জন্য এবং ত্রাণ কার্যক্রম কীভাবে চলছে এগুলো দেখার জন্য। বন্যা দুর্গত এলাকায় জনগণের দুঃখ, দুর্দশা লাঘবে সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে সেগুলো দেখার জন্য।

কাদের বলেন, বন্যা দুর্গতদের সহায়তায় স্থায়ী বন্দোবস্ত করা উচিত। যারা সব সময় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় সে সব এলাকা সার্ভে করে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করতে হবে। যখনই যে এলাকায় বন্যা হবে সেই এলাকাকে বন্যার্ত দুর্গত এলাকা ঘোষণা করে এই তালিকা অনুযায়ী ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা, ভাইস চেয়ারম্যান আহসান আদেলুর রহমান আদেল, জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক সাবেক সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, কুড়িগ্রাম-২ আসনের জাপা সাংসদ পনির উদ্দিন আহমেদ, সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর (অব.) আসাফু উদ দৌলা প্রমুখ। পরে জি এম কাদের পাঁচ শ বন্যার্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।

Print Friendly, PDF & Email