তারা কী করতেন, পুলিশ জানে না

নিজস্ব বার্তা প্রতিবেদক : মহাখালীর সেতু ভবনের সামনে গভীর রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই নারী কী করতেন তা এখনো নিশ্চত হতে পারেনি পুলিশ।

তাদের বহনকারী স্কুটিতে ‘প্রেস’ লেখা এবং তাদের কাছে থাকা পার্ল ইন্টারন্যাশনালের আইডি কার্ড দুটিই ভুয়া। এমনকি তাদের পরিবারের স্বজনেরাও কিছু জানেন না বলে পুলিশকে জানিয়েছে।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সৈয়দা কচি ও সোনিয়া আক্তার নামের ওই দুই নারী রাজধানীর মহাখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।

সোমবার বিকেলে বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরে আজম বলেন, ‘দিনরাত তারা স্কুটিতে চড়ে ঘুরে বেড়াতেন। বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে যাতায়াতের প্রমাণ মিলেছে। তবে তাদের পেশা কী ছিল তা এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।’

বনানী থানা পুলিশ জানায়, কচি ও সোনিয়া তাদের স্কুটিতে যে প্রেস স্টিকার ব্যবহার করেছিলেন। তা ছিল ভুয়া। ট্রাফিক পুলিশের মামলার হাত থেকে বাঁচতে ও ক্ষমতা দেখাতেই স্টিকার ব্যবহার করেছিলেন তারা। অথচ তারা কোনোদিনও সাংবাদিকতা করেননি। সাংবাদিক ছিলেনও না।

সেতু ভবনের ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা থেকে ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার সময় সেতু ভবনের গেটটি বন্ধ ছিল। ক্যামেরায় গেট পর্যন্ত দেখা যায়। সড়কে আর কোনো ক্যামেরা নেই। গভীর রাতে কচি ও সোনিয়া ঠিক কোথা থেকে বের হয়েছিলেন তা জানতে এখন বনানীর অন্যান্য সড়কগুলোতে লাগানো সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কাজ চলছে।

আসলেই তারা বনানী থেকে বের হয়ে মূল সড়কে উঠেছিলেন, না কি মূল সড়ক দিয়েই র‌্যাডিসন বা উত্তরার দিক থেকে এসেছিলেন, তা জানতে তদন্ত চলছে। কচির বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। এক ভাই আছেন। তার সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল না। কচির মামা মর্গে গিয়ে লাশ বুঝে নিয়ে গেছেন।

কচির মামা নূরুল আমিন বলেন, ‘কচি ঢাকায় কী করত তা আমরা জানতাম না। বাড়িতে খুব একটা যাতায়াত ছিল না। কিছুদিন পার্ল ইন্টারন্যাশনালে মার্কেটিংয়ে কাজ করেছে। সেই চাকরি ছাড়ারও প্রায় এক বছর হয়ে গেছে। মাঝে মধ্যে ফোনে কথা হতো। টেলিভিশনে লাশের ছবি দেখে কচিকে চিনতে পারি। মিরপুর শাহ আলী এলাকায় একটি রুম ভাড়া নিয়ে দুই বান্ধবী থাকত। তারা দুজন একইসঙ্গেই চলাফেরা করত।’

সোনিয়ার বড় ভাই রুবেল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সোনিয়া আমাকে বলেছিল, সে ঢাকায় চাকরি করে। এরপর বিউটি পার্লারে কাজের কথাও এক সময় জানিয়েছিল। বিয়ের তিন মাসের মাথায় ওর তালাক হয়ে যায়। এরপর আর বিয়ে করেনি সোনিয়া।’

বনানী থানার এসআই আফজাল জানান, কচি ও সোনিয়া একইসঙ্গে থাকতেন। একসঙ্গে ঘুরে বেড়াতেন। বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে মেলামেশা ছিল তাদের। তাদের মোবাইল ফোন কলের সূত্র ধরে কিছু নম্বরে কল করলে এসব তথ্য মেলে।

ঘটনার দিন সোনিয়া সকাল ১১টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত এক যুবকের সঙ্গে ছিলেন। তারা মোটরসাইকেলে ঘুরেছেন, খাওয়া দাওয়াও করেছেন।

সোনিয়ার মোবাইল থেকে একটি নম্বরে ফোন করলে অপর প্রান্ত থেকে এক যুবক জানান, এক বন্ধুর মাধ্যমে তিনি সোনিয়ার নম্বর পান। ওইদিনই সোনিয়াকে ফোন করেছেন এবং ঘুরেছেন। এই একদিনই তারা সময় কাটিয়েছেন। বিনিময়ে তিনি এক হাজার ২০০ টাকা দিয়েছেন।

কচির বাড়ি কিশোরগঞ্জ কুলিয়ারচর পৌরসভার পাচুলিয়া বাজিতপুর এলাকায়। সোনিয়া আক্তারের বাড়ি ভোলা সদর উপজেলায়।