ধর্ষণের পর খুন করে ফজরের নামাজে ইমামতি করা সেই মোয়াজ্জিন গ্রেফতার

নিজস্ব জেলা প্রতিবেদক : ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে আলোচিত তাকমীন হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি আশিকুল হককে (১৯) গফরগাঁও থানার অতি নিকট থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রবিবার দুপুর ২টার দিকে গফরগাঁও থানার ৫০ গজ দূরে পৌর শহরের মহিলা কলেজ রোডের অধ্যক্ষ আখতার হোসেন কিন্ডার গার্টেন স্কুলের একটি কক্ষ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আশিকুল নান্দাইল উপজেলার তারাপাশা গ্রামের আইনাল হকের ছেলে।

গফরগাঁও সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলী হায়দার চৌধুরী জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আশিকুল হক তাকমীনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। আশিকুলের সহযোগী পুলিশের হাতে গ্রেফতার মাহফুজ শুক্রবার বিকালে ময়মনসিংহ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইমাম হোসেনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ নিয়ে ৬ দিনের মধ্যে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনের মধ্যে দুইজনকে গ্রেফতার করতে পারলো পুলিশ।

এলাকাবাসী ও গফরগাঁও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি পাড়াভরট বায়তুন নূর জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন আশিকুল সোমবার দিবাগত রাতে তাকমীনকে ধর্ষণের পর খুন করে। পরে তিনি মসজিদে ফজরের আজান দেন এবং ফজরের নামাজে ইমামতি করে। বুধবার জোহর পর্যন্ত আশিকুল বায়তুন নূর জামে মসজিদে অবস্থান করে সকল ওয়াক্তের আজান দেওয়াসহ স্বাভাবিক কাজকর্ম করেন। জোহরের পর তিনি মসজিদ থেকে পালিয়ে পৌর শহরের মহিলা কলেজ রোডের অধ্যক্ষ আখতার হোসেন কিন্ডার গার্টেন স্কুলের একটি কক্ষে অবস্থান করে। এদিকে আশিকুলকে গ্রেফতার করতে ৫ দিন ধরে গফরগাঁওসহ ময়মনসিংহ জেলার বেশ কয়েকটি থানায় অভিযান চালায় ‍পুলিশ।

উল্লেখ্য, উপজেলার পাড়াভরট গ্রামের আব্দুল মতিনের কন্যা তাকমীনকে সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে পালিয়ে বিয়ে করার কথা বলে মোবাইল ফোনে বাড়ি থেকে ১০০ গজ দূরে পাড়াভরট বায়তুন নূর জামে মসজিদের কাছে ডেকে এনে ধর্ষণ করে খুন করে আশিকুল ও তার দুইবন্ধু । গত মঙ্গলবার বিকালে তাকমীনের পিতা অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে গফরগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।