ধর্ষণ মামলার আসামিকে জামিন, বিচারককে সুপ্রিম কোর্টে তলব

নিজস্ব বার্তা প্রতিবেদক : ধর্ষণ মামলার এক আসামিকে জামিন দেওয়ায় ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক মোছা. বেগম কামরুন্নাহারকে তলব করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আগামী ২ এপ্রিল তাকে সশরীরে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে। হাইকোর্টের জামিনের আদেশ স্থগিত থাকার পরেও কোন যুক্তিতে আসামি আসলাম শিকদারকে জামিন দিলেন সেই বিষয়ে তাকে ওইদিন ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের করা এক আবেদনের শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন। এছাড়া আসামি আসলামকে দেওয়া ট্রাইব্যুনালের জামিন আদেশ বাতিল করে দিয়েছে আপিল বিভাগ। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ওই ট্রাইব্যুনালে আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের আদেশের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম।

তিনি বলেন, ‘আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের আদেশে হাইকোর্টের জামিন স্থগিত থাকার পর নিম্ন আদালতের সুযোগ নেই আসামিকে জামিন দেওয়ার। এভাবে জামিন দেওয়া আদালত অবমাননার শামিল।’

একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপক ছিলেন আসলাম শিকদার। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে ২০১৮ সালে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় মামলা করেন এক নারী। মামলার পরই তাকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপরই কারাগারে পাঠানো হয়। গত বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। ১৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য দিন ধার্য হয়। কিন্তু মামলার বাদী রায় হতে উত্তোলনপূর্বক পুনরায় যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য আদালতে আবেদন করেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারক কামরুন্নাহার গত ২ মার্চ এক আদেশ দেন। ওই আদেশে আগামী ১২ এপ্রিল মামলাটির পুনরায় যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। পাশাপাশি আসলামকে জামিন দেন।

জামিন দেওয়ার বিষয়টি আপিল বিভাগের নজরে আনেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি আদালতে বলেন, ‘গত ১৮ জুন হাইকোর্ট আসামিকে জামিন দেয়। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের জামিন স্থগিত করে। স্থগিতাদেশের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ওই আবেদন বিচারাধীন থাকাবস্থায় ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসামিকে জামিন দিয়েছেন। যা তার এখতিয়ারবহিভূত। এটা সর্বোচ্চ আদালতের মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করেছে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ওই জজ জামিন স্থগিত থাকার বিষয়টি জানেন কি? তখন অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, নথি তলব করেই এটা দেখা যেতে পারে। এরপরই ট্রাইব্যুনালে থাকা মামলার নথি তলব করেন প্রধান বিচারপতি। পরে বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে ঢাকার আদালত থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে আনা হয় মামলার নথি। এরপরই বেলা সাড়ে ১২টায় আপিল বিভাগ মামলার নথি পর্যালোচনা করেন। ওই পর্যালোচনায় দেখতে পান যে, ট্রাইব্যুনালের ৩২ নম্বর আদেশে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত কর্তৃক জামিন স্থগিতের আদেশের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। এরপরই আপিল বিভাগ বিচারকে তলব করেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত রায় ও আসামি পক্ষে আব্দুল মান্নান মোহন উপস্থিত ছিলেন।