নদীতে আটকে আছেন সিয়াম–পরীমনিরা

নিজস্ব বার্তা প্রতিবেদক : শুটিং বন্ধ করে সুন্দরবন থেকে ফেরার পথে নদীতে আটকে গেছেন সিয়াম-পরীমনিরা। এখনই তাঁদের ঢাকায় ফেরা অনিশ্চিত। প্রযোজক সমিতির নির্দেশনা অনুযায়ী, শুটিং করতেও পারছেন না তাঁরা। তথ্য মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ঢাকায় ফিরতেও পারছে না ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ ছবির শুটিং ইউনিট।

গত বৃহস্পতিবার শুটিং বন্ধ করে ঢাকার পথে রওনা হয় ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ ছবির শুটিং ইউনিট। মোংলা থেকে রওনা হয়ে বেশ কিছু দূর আসার পর পানখালীতে তাঁদের আটকে দেয় কোস্টগার্ড। তারা জানায়, এত যন্ত্র ও মানুষ নিয়ে ঢাকায় ঢোকার জন্য পথে পথে বারবার অনুমতিপত্র দেখাতে হবে। তখন তাঁরা যোগাযোগ করেন তথ্য মন্ত্রণালয়ে। এই মুহূর্তে নদীতেই থেমে আছে শুটিং দলটির নৌযান।

ছবির অন্যতম প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বঙ্গ বিডির পরিচালক মুশফিকুর রহমান জানান, তাঁরা আর রওনা দেননি। রোববার মন্ত্রণালয় খুলবে। সেখানে আবেদন করার পর তারা অনুমতি দিলে সেটা নিয়ে তাঁরা ঢাকায় রওনা হবেন। পাশাপাশি শুটিং ইউনিটবাহী লঞ্চের মালিকও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি নেবেন।

অভিনয়শিল্পীদের সময় কাটছে লঞ্চে গল্পগুজব করে। সেখানকার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা এক রকম আইসোলেশনেই আছি। কারও সঙ্গে যোগাযোগ নেই। আশা করি এক রাত এক দিন লাগবে অনুমতির জন্য। নিরাপত্তা নিয়ে তেমন অসুবিধা নেই।’

‘‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ ছবির শুটিং ইউনিটে রয়েছেন প্রায় ৭০ জন। মুঠোফোনে মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আমরা শুটিং বন্ধ করে ঢাকার পথে রওনা হয়েছি। যেহেতু গল্প অনুযায়ী বেশির ভাগ শুটিংই লঞ্চে, তাই ফিরতি পথেও মাঝেমধ্যে কিছু কিছু শিল্পীর ইনচার্ট শট নেওয়া হচ্ছে।’

করোনাভাইরাসের আতঙ্কের মধ্যে বিশ্বজুড়ে স্থবির বিনোদন অঙ্গন। বাংলাদেশেও বন্ধ বিনোদন–সংশ্লিষ্ট সব কাজ। চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতি ২২ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সিনেমার সব ধরনের শুটিং, ডাবিং ও সম্পাদনার কাজ বন্ধ রেখেছে। তারপরও খুলনার মোংলা ও সুন্দরবন এলাকায় ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ ছবির শুটিং চলছিল। এ নিয়ে প্রযোজক সমিতি থেকে হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। কয়েক দিন আগে প্রযোজক ও পরিবেশক নেতারা বলেছিলেন, শুটিংয়ে প্রায় ২০টি শিশু আছে। কোনো শিশু যদি করোনায় আক্রান্ত হয়, তার দায়ভার ছবির প্রযোজক ও পরিচালককে নিতে হবে।

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও শুটিং বন্ধ না করা প্রসঙ্গে মুঠোফোনে এই প্রযোজক বলেন, ‘সুন্দরবনের ভেতরের দিকে শুটিং করায় যোগাযোগবিচ্ছিন্ন ছিল। শুটিং বন্ধের সিদ্ধান্তের কোনো সংবাদ আমরা পাইনি। বন থেকে বেরিয়ে পরে বিষয়টি জানতে পেরেছি। এরপর প্রযোজক সমিতি, পরিচালক সমিতির নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। এ ছাড়া আমাদের ইউনিটে জ্যেষ্ঠ অভিনেতারা আছেন এবং প্রযোজক সমিতির নেতা শহীদুল আলম সাচ্চুও আছেন। সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই শুটিং বন্ধ করে ঢাকায় ফিরছি।’

শিশুদের ভ্রমণের কাহিনি নিয়ে এই ছবির গল্প। এর বেশির ভাগ শুটিংই পানিপথে, লঞ্চে। সুন্দরবনে টানা ২৫ দিন শুটিং করে ছবির কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে শুটিং বন্ধের নির্দেশনা থাকায় টানা ১৩ দিন কাজ করে শুটিং বন্ধ হচ্ছে ছবিটির। প্রযোজক জানান, ১৩ দিনে ছবির ৫০ ভাগের মতো কাজ হয়েছে। তবে সুন্দরবনের ভেতরের ছয় দিনের কাজ শেষ করতে পেরেছেন তাঁরা।

একটানা কাজ শেষ করতে না পারায় পরবর্তীকালে শুটিং শেষ করতে আরও লগ্নি বাড়াতে হতে পারে বলে জানান প্রযোজক। তিনি বলেন, ‘টানা কাজ করে শুটিং শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের ভয়াবহতার কারণে আমরা সবাই শঙ্কিত। ইউনিটে প্রায় ২০টি শিশু আছে। যদিও আমরা শিশুদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা রেখেছি। তারপরও তাদের নিয়ে অনেকই চিন্তিত ছিলেন। সবকিছু বিবেচনা করেই টানা কাজ করা গেল না। এখন জুলাইয়ের আগে ছাড়া আর শুটিং করা যাবে না। ফলে পরবর্তীকালে শুটিং করলে কন্টিনিউইটি মেলানো কঠিন হবে। পাশাপাশি ছবিতে লগ্নিও অনেক বেড়ে যাবে।’

এদিকে ঢাকায় ফেরা নিয়েও দুশ্চিন্তা করছে পুরো ইউনিট। এতগুলো মানুষ একসঙ্গে দীর্ঘদিন বাইরে ছিলেন। এখন ঢাকায় ফিরলে তাঁদের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হতে পারে। ছবির পরিচালক আবু রায়হান বলেন, ‘যদিও ফিরতে পারি, লঞ্চ সদরঘাটে ভিড়লে আমাদের কোয়ারেন্টিনেও যেতে হতে পারে।’

শুটিং বন্ধ করে ফেরার বিষয়টি স্বীকার করলেন ছবির রাতুল চরিত্রের অভিনেতা সিয়াম আহমেদও। তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে শুটিং বন্ধ করে ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন ফিরছি। হয়তো ঢাকায় পৌঁছাতে আরও সময় লাগবে।’

ছবিতে আরও অভিনয় করছেন পরীমনি, শহীদুল আলম সাচ্চু, আজাদ আবুল কালাম, কচি খন্দকার, আশীষ খন্দকারসহ প্রায় ২০টি শিশু। শিশুদের ভ্রমণের গল্প নিয়ে মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপন্যাস ‘রাতুলের রাত রাতুলের দিন’ থেকে ছবিটির চিত্রনাট্য করেছেন জাকারিয়া সৌখিন।