নির্বাচনে অংশ নিতে ১৭০ প্রার্থীর ২০ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ হালনাগাদ করেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : নির্বাচনে অংশ নিতে ১৭০ জন প্রার্থী ২০ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ হালনাগাদ করেছেন। কোম্পানির পরিচালক ও ব্যাক্তি পর্যায়ের এসব ঋণ খেলাপির নিকট থেকে ২০ টির অধিক সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক ২০ সহস্রাধিক টাকার খেলাপি ঋণ হালনাগাদ করতে সক্ষম হয়েছে। নির্বাচনী প্রতিদ্বন্ধিতায় যোগ্যতা অর্জনের জন্য এসব ব্যক্তি তাদের খেলাপি ঋণ হালনাগাদ করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের তপসিল পিছিয়ে যাওয়ায় প্রার্থীরা গতকাল বুধবার পর্যন্ত ঋণ হালনাগাদের সুযোগ পেয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মূখপাত্র এবং নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, গত ৮ নভেম্বর থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত ২০টির অধিক ব্যাংকের ১৭০টি ঋণ হালনাগাদ করা হয়েছে। এ সব ঋণের বিপরীতে খেলাপি অর্থের পরিমাণ কত এবং খেলাপিদের নাম এই মূহুর্তে জানানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে অর্থের পরিমাণ ২০ সহস্রাধিকের উপরে যাবে বলে তিনি ধারনা দেন। সিরাজুল ইসলাম বলেন, মনোনয়ন দাখিল করা প্রার্থীদের ঋণের তথ্য নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হবে। এ জন্য বাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোতে (সিআইবি) ঋণের হালনাগাদ তথ্য দিতে বলা হয়েছিলো। গত ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি বিভাগ থেকে ব্যাংকগুলোকে এ নির্দেশ দেয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সভাও করে সিআইবি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দাখিলকারী প্রার্থীদের খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত তথ্য নির্বাচন কমিশনকে সরবরাহ করতে হবে। এ জন্য নির্ভুল তথ্য প্রদান নিশ্চিৎ ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের হালনাগাদ তথ্য দ্রুত জমা দিতে বলা হয়। ১০ নভেম্বরের মধ্যে ব্যাংগুলোকে সাম্ভাব্য প্রার্থীদের ঋণ তথ্য হালনাগাদ করতে বলা হয়েছিলো। পরে নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে যাওয়ায় ঋণ খেলাপিরা গতকাল পর্যন্ত ঋণ হালনাগাদ করার সুযোগ পেয়েছেন।
নির্বাচনে অংশ নিতে হলে প্রার্থীদের ঋণ নিয়মিত থাকতে হয়। বর্তমানে প্রার্থীদের বেশির ভাগই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ও ব্যাংকে ঋণ রয়েছে। এ জন্য সাম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে যাদের ঋণ খেলাপি হয়ে গেছে, তাঁরা ব্যাংকগুলোতে নিয়মিত ভিড় করছেন। এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গেও দেখা করেন কেউ কেউ।
এদিকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বাড়তি সুযোগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) সংশোধনী আনা হয়েছে। এতে কোম্পানি পর্যায়ের পরিচালকদের মনোনয়নপত্র দাখিলের আগ পর্যন্ত খেলাপি ঋণ পরিশোধের সুযোগ রাখা হয়। সে অনুযায়ী গতকাল পর্যন্ত কেউ কেউ সুযোগ নিয়েছেন। এতোদিন মনোনয়নপত্র দাখিলের ৭ দিন আগে প্রার্থীদের খেলাপি ঋণ পরিশোধ করতে হতো। ব্যক্তি পর্যায়ের প্রার্থীদের অবশ্য ৭ দিন আগে খেলাপি ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে। ১৯৯১ সাল থেকে ঋণখেলাপিদের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। ২০০৮ সাল থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপিদেরও নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।