নুসরাতের গায়ে আগুন দেন জোবায়ের

নিজস্ব জেলা প্রতিবেদক : সাইফুর রহমান জোবায়ের নিজেই ম্যাচের কাঠি দিয়ে নুসরাত জাহান রাফির গায়ে আগুন দেন। আজ রোববার ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালতে ১৬৪ ধারায় নুসরাত হত্যার ঘটনায় জবানবন্দি দেওয়ার সময় এ কথা বলেন জোবায়ের। সকাল ১০টায় তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। বেলা তিনটায় তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

জবানবন্দি শেষে বিকেলে ব্রিফ করেন চট্টগ্রাম পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ইকবাল। তিনি বলেন, সাইফুর রহমান জোবায়ের জানান, মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ম্যাচের কাঠি দিয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন ধরান তিনি। পপি নুসরাতকে ছাদে ডেকে নিয়ে এলে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নুসরাতকে চাপ দেন জোবায়ের, মণি, পপি, শাহাদাত ও জাবেদ। নুসরাত রাজি না হলে তাঁকে ছাদে শুইয়ে ফেলা হয়। এরপর পপি নুসরাতের পা চেপে ধরেন, শাহাদাত মুখ চেপে ধরেন, মণি বুক চেপে ধরেন, জাবেদ কেরোসিন ঢালেন এবং জোবায়ের দেশলাই দিয়ে গায়ে আগুন ধরান। পরিচয় গোপন করার জন্য জোবায়ের যে বোরকা পরে ছিলেন সেটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে জোবায়েরকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। জবানবন্দি প্রদান শেষে জোবায়েরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহ আলম জানান, গত শনিবার রাঙামাটি থেকে গ্রেপ্তার ইফতেখার হোসেন রানা এবং কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার এমরান হোসেন মাসুমকে আজ রোববার বিকেলে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাঁদের দুজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি পরীক্ষা দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা তাঁর গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। গুরুতর অবস্থায় রাতে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান। এ হত্যাকাণ্ডে এ পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনসহ ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত ৮ জন আসামির সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ১৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পিবিআই।

এর আগে গত ২৭ মার্চ ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা। নুসরাত চিকিৎসকদের কাছে দেওয়া শেষ জবানবন্দিতে বলেছিলেন, নেকাব, বোরকা ও হাতমোজা পরা পাঁচজন তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন।

Print Friendly, PDF & Email