প্রবাসীর সিআইপি হতে পাঠাতে হবে এক লাখ ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা সিআইপি মর্যাদা পেতে হলে বছরে কমপক্ষে এক লাখ মার্কিন ডলার দেশে পাঠাতে হবে। যে বছরের জন্য সিআইপি নির্বাচিত করা হবে, তার আগের অর্থবছর বৈধভাবে দেশে এক লাখ ডলারের বেশি পাঠানো অনিবাসী বাংলাদেশিদের তালিকা থেকে নির্দিষ্টসংখ্যক মানুষকে সিআইপি মর্যাদা দেওয়া হবে।

বর্তমান সরকারের আমলে প্রবাসীদের সিআইপি মর্যাদা দেওয়া শুরু হয়। নিয়ম অনুযায়ী, সিআইপি মর্যাদাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তাঁদের কার্ড ব্যবহার করে সচিবালয়ে ঢুকতে পারেন। ব্যবসা-সংক্রান্ত ভ্রমণে বিমান, সড়ক, রেল ও নৌপথে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আসন সংরক্ষণের সুযোগ পান এবং বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ-২ ব্যবহার করতে পারেন।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় গত বুধবার সিআইপি (অনিবাসী) নীতিমালা জারি করে। এর মাধ্যমে আগের প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হয়। নতুন নীতিমালায় বলা হয়, মোট ৯০ জন অনিবাসীকে সিআইপি নির্বাচন করা হবে। এর মধ্যে ৭৫ জন বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারী, ৫ জন অনিবাসী বিনিয়োগকারী ও ১০ জন দেশি পণ্যের আমদানিকারক অনিবাসী বাংলাদেশি সিআইপি মর্যাদা পাবেন।

বিনিয়োগকারী হিসেবে সিআইপি হতে হলে শিল্প খাতে কমপক্ষে তিন লাখ ডলার সরাসরি বিনিয়োগ করতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজ চলমান থাকলে যন্ত্রপাতি পাঠানোর প্রমাণপত্রে (বিল অব এন্ট্রি, ঋণপত্র ইত্যাদি) উল্লিখিত বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ বিবেচনায় নেওয়া হবে।

অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি এ দেশ থেকে পণ্য আমদানি করেন। সিআইপি মর্যাদা পেতে হলে তাঁদের কমপক্ষে তিন লাখ ডলার মূল্যের বাংলাদেশি পণ্য আমদানি করতে হবে। যে বছরের বিবেচনায় সিআইপি নির্বাচন করা হবে, এই আমদানি করতে হবে তার আগের অর্থবছরে। অবশ্য এ ক্ষেত্রে সিআইপি নির্বাচনে দেশে অধিক মূল্য সংযোজন হয়, এমন পণ্য ও পণ্যের আমদানিকারককে বিবেচনায় নেওয়া হবে।

নীতিমালায় বলা হয়, আবেদনকারী ঋণখেলাপি হলে, বাংলাদেশে করখেলাপি হলে, বিদেশি ক্রেতার সঙ্গে বাণিজ্য–বিরোধ থাকলে, সাজাপ্রাপ্ত হলে অথবা মিথ্যা তথ্য দিলে সিআইপি হতে পারবেন না।

সিআইপি নির্বাচনের জন্য বিদেশে বাংলাদেশি মিশন এবং দেশে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করে আবেদন আহ্বান করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইটেও বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে। প্রতিবছর ১ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর পরের ১৬ থেকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সিআইপি তালিকার প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে নীতিমালায়।

বিমানবন্দরে সুবিধা ছাড়াও সিআইপিরা দেশে-বিদেশে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অগ্রাধিকার এবং বিভিন্ন দিবস ও উৎসবের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি মিশনে নিমন্ত্রণ পাবেন। পরিবারের সদস্যসহ নিজে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি হাসপাতালে কেবিন পাবেন।