‘বাংলাদেশে’র আগে নিউজিল্যান্ডের শেষ টেস্ট

নিজস্ব ডেস্ক : নিজেদের ৮৮ বছরের টেস্ট ইতিহাসে এর আগে নিউজিল্যান্ড টানা তিনটি টেস্ট সিরিজ জিতেছে তিনবার। এই প্রথম টানা চার সিরিজ জেতার সুযোগ। এরপর প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ বলে টানা সিরিজ জয়ের কীর্তিটা পাঁচেও নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে নিউজিল্যান্ড।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি লক্ষ্য নিয়ে টেস্ট সিরিজ শুরু করেছিল স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। এক. সিরিজের দুটি টেস্টের দুটিই জিতে টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের দুইয়ে চলে আসা। দুই. ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানকে হারানোর পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও জিতে টানা চারটি সিরিজ জয়ে নিজেদের নতুন রেকর্ড গড়া। ওয়েলিংটনে প্রথম টেস্ট ড্র হওয়ার পর এখন দ্বিতীয়টিতেই চোখ নিউজিল্যান্ডের। ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে দ্বিতীয় বা সিরিজের শেষ টেস্ট শুরু হবে আগামীকাল বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায়।

নিজেদের ৮৮ বছরের টেস্ট ইতিহাসে এর আগে নিউজিল্যান্ড টানা তিনটি টেস্ট সিরিজ জিতেছে তিনবার। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ক্রাইস্টচার্চে জিতলে আগের রেকর্ড ছাপিয়ে নিজেদের নতুন উচ্চতায় তুলবে। এ সুযোগ কি হাতছাড়া হতে দেবে নিউজিল্যান্ড! বছরের শেষ টেস্ট এটি। এরপর ফেব্রুয়ারিতে টেস্ট সিরিজ আছে বাংলাদেশের বিপক্ষে। লঙ্কানদের বিপক্ষে জিতে গেলে ঘরের মাটিতে টানা পাঁচটি টেস্ট সিরিজ জেতার কীর্তি হয়ে যাবে।

দেশের মাটিতে তাদের রেকর্ডও বেশ ভালো। ৪৩০টি টেস্ট খেলে যে ৯৪টি টেস্ট জিতেছে নিউজিল্যান্ড, তার ৫৮টিই ঘরের মাঠে। যে রেকর্ডটির কথা কাল মনে করিয়ে দিয়েছেন দলটির ব্যাটিং কোচ ক্রেগ ম্যাকমিলান, ‘দেশের মাটিতে আমাদের রেকর্ড ভালো। এ নিয়ে আমরা গর্বিতও। তবে আমার মনে হয়, এটা এখন একটা চ্যালেঞ্জও। সিরিজটাও এখন এক টেস্টের হয়ে গেছে। যারা জিতবে সিরিজ তাদেরই। তাই এই টেস্টে অনেক কিছুই করার আছে।’

হ্যাগলি ওভালের পিচ ঐতিহ্যগতভাবে পেস বোলিং সহায়ক। তাই টস জিতে আগে বোলিং করাটা এখানে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ওয়েলিংটনে অপরাজিত ২৬৪ রানের ইনিংস খেলা ওপেনার টম ল্যাথাম যেমন বলেছেন এখানকার উইকেট নিয়ে ভাবার ব্যাপার আছে বোলারদের, ‘সাধারণত এখানে কিছুটা পেস ও বাউন্স থাকে। কিছুটা হলেও সিমাররা সাহায্য পান। তাই কন্ডিশনের সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব মানিয়ে নিতে হবে আমাদের।’

ওয়েলিংটনে পিচ ছিল নিষ্প্রাণ। প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কা ২৮২ রানে অলআউট হলেও পিচের সুবিধা নিয়ে কিউই ব্যাটসম্যানরা তোলেন ৫৭৮ রান। ২৯৬ রানে পিছিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে খেলতে নেমে ২০ রানে ৩ উইকেই খুইয়ে কাঁপছিল শ্রীলঙ্কা। ঠিক তখনই অবিচ্ছিন্ন ২৭৪ রানে জুটি গড়েন কুশল মেন্ডিস ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। দুজনের ব্যাটিংয়ে উইকেটশূন্য একটা দিন কাটে নিউজিল্যান্ডে। শেষ দিনে বৃষ্টির সহায়তায় ড্র হয় ম্যাচটি। এই ড্র থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার কথা বলছেন শ্রীলঙ্কার উইকেটকিপার নিরোশান ডিকভেলা, ‘আগের ম্যাচ এই ম্যাচের জন্য আমাদের জুগিয়েছে আত্মবিশ্বাস। এখানকার উইকেটে যদি টার্ন থাকে আমাদের বোলাররা তাদের কাজটা করতে পারবে। তারা জানে কোন জায়গায় বল ফেলতে হবে। ফুল লেংথে বল করতে হবে।’
এর আগে একবারই হ্যাগলি ওভালে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। তাতে ৮ উইকেটে হেরেছিল শ্রীলঙ্কা।

Print Friendly, PDF & Email