বাংলাদেশ থেকে কীভাবে সূর্যগ্রহণ দেখবেন?

ওমর ফারুক : রোববার দুপুরে বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে আংশিক সূর্যগ্রহণ। বাংলাদেশের সব জেলা থেকেই দেখা যাবে এই গ্রহণ।

যখন দিনের বেলায় সূর্য আর পৃথিবীর মাঝখানে চাঁদ এসে পড়ে, তখন সূর্যগ্রহণ হয়। আপনারা মাঝেমধ্যে নিশ্চয়ই দেখেছেন, বিকেলবেলা চাঁদ আকাশে দেখা যায়। তবে পূর্ণিমার কাছাকাছি সময় না হলে দিনের বেলায় চাঁদ দেখার তেমন একটা সুযোগ হয় না। এই চাঁদ যখন সূর্যের সামনে চলে আসে, তখন সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে বাধা পায় এবং সূর্যের বেশ খানিকটা অংশ ঢেকে যায়। কখনো কখনো সূর্যের পূর্ণ অংশও ঢেকে যায়, তখন সেটাকে বলে পূর্ণগ্রহণ। কিন্তু যদি চাঁদ সূর্যের একটা অংশকে শুধু ঢেকে দেয়, তখন সেটাকে বলে আংশিক গ্রহণ।

রোববার ঠিক এমনই একটা আংশিক গ্রহণ দেখা যাবে বাংলাদেশ থেকেও। বিশ্বের অনেক দেশে বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা গেলেও বাংলাদেশ থেকে শুধু আংশিক গ্রহণ দেখা যাবে।

টাইম অ্যান্ড ডেট ডট কমের হিসাবমতে, বাংলাদেশে রোববার বেলা ১১টা ২৬ মিনিটে শুরু হয়ে সূর্যগ্রহণ চলবে বেলা ২টা ৫২ মিনিট পর্যন্ত। ঢকায় সূর্যের সবচেয়ে বেশি অংশ ঢেকে যাবে বেলা ১টা ১২ মিনিটে। দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে কাছাকাছি সময়েই দেখা যাবে।

কীভাবে দেখবেন সূর্যগ্রহণ?

সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য প্রয়োজন বিশেষ সোলার ফিল্টারের। সেটি হয়ত আপনার কাছে নেই। অনেকে ভাবেন, এক্স-রে ফিল্ম বা সানগ্লাস দিয়ে সূর্যগ্রহণ দেখা নিরাপদ। একদমই ভুল ধারণা। এতে চোখের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। আর বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ দিয়ে সূর্যের দিকে তাকালে কয়েক মিলিসেকেন্ডের মধ্যেই চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবার আশঙ্কা আছে (শুধু সূর্যগ্রহণের সময়ে নয়, যেকোনো দিনেই)।

আংশিক গ্রহণ দেখার সবচেয়ে নিরাপদ ও সহজ উপায় বলা হয় পিনহোল প্রজেক্টরকে। শক্ত কাগজ কিংবা কার্ডবোর্ড দিয়ে খুব সহজেই এটি বানাতে পারবেন আপনি নিজেই। এটি বানাতে দুটি শক্ত কাগজ নিন (সাদা হলে ভালো হয়)। ছবির মতো করে প্রথম কাগজটির মাঝখানে আলপিন বা কলম দিয়ে একটি ছিদ্র করুন। হয়ে গেল আপনার পিনহোল প্রজেক্টর।

এবার সূর্যের দিকে পেছন ফিরে দাঁড়ান। ছিদ্রযুক্ত কাগজটি এমনভাবে ধরুন, যেন সূর্যের আলো সরাসরি এর ওপর পড়ে (ওপরের ছবির মতো)। এবার অন্য সাদা কাগজটি ছবির মতো করে একটু দূরে স্থাপন করুন যেন সেটির ওপর প্রথম কাগজের ছায়া পড়ে। এখন আপনি চাঁদের দ্বারা অর্ধেক ঢেকে যাওয়া অর্ধেক সূর্যের একটি ছায়া দেখতে পাবেন। কিছুক্ষণ পরপর দেখলে বুঝতে পারবেন, সূর্যের একটি অংশ ধীরে ধীরে ঢেকে যাচ্ছে। আবার বেলা ১টা ১২ মিনিট থেকে সূর্যের ঢেকে যাওয়া অংশ উন্মুক্ত হতে শুরু করবে।

যখন সূর্যগ্রহণ শুরু হবে, তখন সূর্য থাকবে প্রায় মাথার ওপরে। এরপর পশ্চিমে হেলে পড়তে শুরু করবে। সূর্যের দিকে তাকিয়ে সূর্যকে খোঁজা যাবে না। কাগজে পড়া ছায়া দিয়ে সূর্যের অবস্থান বুঝতে হবে। প্রথম কাগজটিকে সূর্যের সমান্তরালে রাখলেও সবচেয়ে সুন্দর করে গ্রহণ হওয়া সূর্যের ছায়া দেখা যাবে।

সূর্যগ্রহণ খুবই স্বাভাবিক একটা প্রাকৃতিক ঘটনা। খ্রিষ্টপূর্ব ১০০০ শতাব্দীতেও পুরোহিতেরা হিসাব করে ঠিকঠাক সূর্যগ্রহণের তারিখ বলতে পারতেন। এটি নিয়ে নানা রকম কুসংস্কার চালু আছে। সেগুলো নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। সূর্যগ্রহণের সময়ে আপনার সব স্বাভাবিক কাজকর্ম চালু রাখতে পারেন।

লেখক: শিক্ষার্থী, পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়