বাসটি সড়কবাতির খুঁটি গুঁড়িয়ে জীবনের বাতি নেভাল

নিজস্ব বার্তা প্রতিবেদক : স্বামী নাজমুল হাসানের মোটরসাইকেলে চড়ে সকাল ৯টার দিকে মহাখালী আসেন ফারহা নাজ। বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ি-আমতলীর মাঝামাঝি মহাখালী উড়ালসড়কের পাশের রাস্তা পার হয়ে ফুটপাতে উঠছিলেন তিনি। ঠিক তখনই দ্রুতগতিতে আসছিল একটি বাস। ক্যান্টনমেন্ট মিনিবাস সার্ভিসের বেপরোয়া গতির বাসটি প্রথমে ধাক্কা দেয় বিদ্যুতের একটি খুঁটিতে। সেখানে দাঁড়ানো এক যুবক ছিটকে পড়ে যান। কিন্তু বাসের গতির তীব্রতায় নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সময় পাননি ফারহা। ফুটপাত ঘেঁষে বাসটি মুহূর্তেই মুচড়ে দেয় আরেকটি সড়কবাতির খুঁটি। বাসের ধাক্কায় বেঁকে যায় খুঁটি। পাশে থাকা ফারহা নাজ পড়ে যান সড়কের ওপর। তাঁর মাথা ফেটে ঝরতে থাকে রক্ত। পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু তখন আর দেহে প্রাণ ছিল না ফারহার। মাত্র ২৮ বছর বয়সে তিনি চলে গেলেন পৃথিবী ছেড়ে।

মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, মহাখালী থেকে বাসটি ইউটার্ন নিয়ে কাকলীর দিকে যাচ্ছিল। ফাঁকা রাস্তায় সেই বাস খুব দ্রুতগতিতে চলছিল। সেই গতিতেই বাসটি একটি ল্যাম্পপোস্টে ধাক্কা দেয়। এ সময় পাশে থাকা এক যুবক ছিটকে পড়ে যান। এরপর ফুটপাত ঘেঁষে বাসটি আরও ২০-৩০ ফুট সামনে এগিয়ে যায়। প্রথম থেকেই পুরো ঘটনা দেখেছিলেন মহাখালীর একটি শোরুমের নিরাপত্তা প্রহরী ফুল মাহমুদ।

ফুল মাহমুদ বলেন, ‘বাসটি আমার সামনে দিয়ে আরেকটি খাম্বায় (সড়কবাতির খুঁটি) ধাক্কা দিয়ে সেটিকে বেঁকে দেয়। খাম্বার পাশে রাস্তায় ছিলেন একজন নারী। বাসের ধাক্কায় পড়ে গিয়ে তিনি মাথায় আঘাত পান। তাঁর মাথা থেকে রক্ত ঝরছিল। আমরা দুজনকে ধরাধরি করে ফুটপাতে এনে দুজনরে পানি খাওয়াই। পরে তাঁদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।’

ফারহা নাজের মামা শফিকুল ইসলাম বলেন, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছিলেন ফারহা। চার বছর আগে বিয়ে হয় পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা নাজমুল হাসানের সঙ্গে। রাজধানীর মিরপুরের মনিপুর এলাকায় থাকতেন তিনি। ফারহা-নাজমুলের সংসারে রয়েছে দেড় বছর বয়সী মেয়ে তাহরিন হাসান ইশরা।

এদিকে ওই ঘটনার পর বাসটির চালক ঘটনাস্থল থেকেই পালিয়ে গেছেন। বাসচালকের সহকারীও পলাতক। ঘটনাস্থল থেকে বাসটিকে আটক করে বনানী পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে।

বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আফজাল হোসেন বলেন, দ্রুতগতিতে ফুটপাতে ধাক্কা দেওয়ায় বাসটির সামনের বাম পাশের নিচের অংশ চ্যাপ্টা হয়ে গেছে। এ ঘটনায় ফারহার পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।