বিটিভির মহাপরিচালক সপরিবারে করোনা মুক্ত

নিজস্ব বার্তা প্রতিবেদক : বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মহাপরিচালক হারুন-অর-রশীদ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। তার স্ত্রী ও মেয়েরও কোভিড-১৯ পজিটিভ ছিল। সপরিবারে এই অভিনেতা এখন করোনা মুক্ত হয়েছেন।

গত ২ মে হারুন-অর-রশীদের করোনা পরীক্ষা পজিটিভ আসে। তবে তাদের শারীরিক কোনো জটিলতা ছিল না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তারা বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিয়েছেন।

রোববার (১৮ মে) রাতে হারুন-অর-রশীদ সপরিবারে করোনা মুক্ত হওয়ার বিষয়টি ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে জানিয়েছেন। তাদের তিনজনের দ্বিতীয় ফলোআপ টেস্টে করোনা নেগেটিভ এসেছে বলে জানান তিনি। এছাড়া ঘরে থেকে কী কী চিকিৎসা তিনি নিয়েছেন তাও তুলে ধরেছেন।

হারুন-অর-রশীদ ফেসবুকে লেখেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে সবার দোয়ায় আমাদের তিনজনের দ্বিতীয় ফলোআপ টেস্টেও কোভিড-১৯ নেগেটিভ এসেছে। করোনাকে মোকাবিলা করতে আমরা সাহস হারাইনি।

চিকিৎসা প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, বাসায় থেকে ডাক্তারের নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসা নিয়েছি। জ্বর হলে প্যারাসিটামল খেয়েছি। খেয়েছি এন্টিবায়োটিক ‘এজিথ্রেমাইসিন’ (৫দিন, দৈনিক ১টা করে) প্রতিদিন ১টি করে ভিটামিন ডি (২০০০ এমজি), দু’বেলা ২টি করে জিঙ্ক ট্যাবলেট (৬০ এমজি করে) এবং পানিতে গুলিয়ে প্রতিদিন ১ টি করে ভিটামিন সি (CavixC)। আমাদের জ্বর, কাশি এবং ছিল খাবারে অরুচি। সামান্য শ্বাসকষ্ট হলেও হাসপাতালে যেতে হবে। শ্বাসকষ্টের চিকিৎসা বাসায় সম্ভব না। আল্লাহর রহমতে আমাদের ৩ জনের মধ্যে কারোরই শ্বাসকষ্ট এবং ডায়রিয়া ছিল না।
তিনি আরো লেখেন, আমি আমার ব্লাডসুগার কন্ট্রোলে রেখেছি। ব্যায়াম করেছি। এবং রোদ গায়ে মেখেছি। প্রচুর প্রোটিন খাওয়ার চেষ্টা করেছি। সব সময় গরম পানি খেয়েছি এবং খাচ্ছি। গরম পানি দিয়ে দিনে ৩/৪ বার গারগেল করেছি। নানা উপাচার মিশিয়ে নাকেমুখে গরম পানির ভাপ নিয়েছি।

স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে হারুন-অর-রশীদ লেখেন, আমার স্ত্রী নাহীদ সুলতানা নিজের কোভিড-১৯ অসুস্থ্যতাকে উপেক্ষা করে একেবারে একা (আমাদের বাসায় কাজের লোক নেই ২৫ মার্চ থেকে) আমাদের সেবা-যত্ন করেছে। নানা ধরনের মিশ্রণ, ক্বাথ বানিয়ে আমাদের খাওয়াচ্ছে। লেবুপানি, ফল, ফলের জুস, তুলসী পাতা, আদা, কালোজিরা, মধু, ডিম, মাছ, মাংস ইত্যাদি খাইয়ে সে আমাদের ইমিউনিটি সিস্টেম ঠিক রাখতে যা যা করা সম্ভব করেছে, করছে। পরিষ্কার রাখছে ঘরবাড়ি। আমাদের একমাত্র কন্যা নিকিতা নন্দিনী নিজে কোভিড-১৯ রোগী হয়েও বাসার অনেক কাজ করেছে। ঘর জীবাণুমুক্ত রেখেছে।

সবশেষে তিনি লেখেন, দেশে এবং বিদেশে বসবাসকারী আমাদের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীরা নিয়মিত আমাদের খোঁজখবর রেখেছেন। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) যথাসময়ে অতি নিষ্ঠার সঙ্গে আমাদের কোভিড-১৯ টেস্ট, প্রথম ও দ্বিতীয় ফলোআপ টেস্ট করে আমাদেরকে করোনামুক্ত সনদ দিয়েছে। ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই সবাইকে।