মুখে টেপ পেঁচানো, হাত-পা বাধা ও দুচোখ উপড়ানো লাশ উদ্ধার

নিজস্ব জেলা প্রতিবেদক : আড়াইহাজার উপজেলায় লাল রঙের টেপ দিয়ে মুখ পেঁচানো, রশি দিয়ে হাত-পা বাধা ও দুই চোখ উপড়ানো অবস্থায় এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য চালককে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয় বলে ধারণা পুলিশের। এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার হয়নি।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ব্রাহ্মদী ইউনিয়নের মারুয়াদী এলাকার আড়াইহাজার-মদনপুর সড়কে ঢাল থেকে ওই লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। নিহতের নাম জামান হোসেন (৪৬)। তিনি উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের বগাদি গ্রামের শফিউদ্দিনের ছেলে। তার স্ত্রীসহ এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

জামানের ভাই জাকির হোসেন জানান, গত শুক্রবার সকালে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ক্রয় করেন জামান হোসেন। কিন্তু সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় বের হয়নি। ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিল জামান হোসেন। এ ঘটনায় পরদিন সন্ধ্যায় জাকির হোসেন বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় নিখোঁজের জিডি করেন। পরে মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়রা রাস্তার পাশে লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ ও স্বজনদের জানান। পরে পরিবারের লোকজন গিয়ে লাশ শনাক্ত করে।

আড়াইহাজার থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়রা জানালে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। নিহতের হাত-পা রশি দিয়ে বাধা, দুই চোখ উপড়ানো ও মুখ লাল রংয়ের টেপ দিয়ে পেঁচানো ছিল। এছাড়াও শরীরে একাধিক লাঠি বা কাঠ দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অটোরিকশাটি পাওয়া যায়নি। ধারণা করা যাচ্ছে অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য তাকে এ নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

নিহতের স্ত্রী মারজিয়া বেগম বলেন, ‘অটোরিকশা কেনার পর সংসার চালানোর মতো হাতে কোন টাকা ছিল না। দুইদিন ঘরে বসে থাকে চাল, ডাল নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসও শেষ হয়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে রবিবার সন্ধ্যায় নতুন অটোরিকশা নিয়ে বের হয়। আর যাওয়ার সময় বলে যায় রাতে ফিরে আসবে। কিন্তু সেই যে গেলো আর ফিরে আসলো না।’