ময়নাতদন্তে একটি চুমু!

নিজস্ব ডেস্ক প্রতিবেদক : জি সেভেন সম্মেলনের গুরুগম্ভীর সব আলোচনা যেন গুরুত্ব হারিয়েছে একটি ছবির কাছে। সোশাল মিডিয়া এখন ব্যস্ত মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প আর কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর চুমুর ময়নাতদন্ত নিয়ে।

ফ্রান্সের বিয়ারিটজে এই সম্মেলনের শেষ দিনে জোটের নেতারা ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন ফ্যামিলি ফটোর জন্য। নেতাদের কয়েকজনের সঙ্গে তাদের স্ত্রীরাও ছিলেন।

পাশাপাশি দাঁড়ানো ট্রুডো আর মেলানিয়ার বাতাসে চুমু, সেই সময় মেলানিয়ার চাহনি, তার হাত শক্ত করে ধরে থাকা ডনাল্ড ট্রাম্পের থমথমে মুখ আর উপস্থিত বিশ্ব নেতাদের প্রতিক্রিয়া এখন নেটিজেনদের গবেষণার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইউরোপীয় প্রেস ফটো এজেন্সির এক আলোকচিত্রীর তোলা সেই ছবিগুলো সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে রসিকতা করছেন অনেকে। অনেকে আবার খুলে দিয়েছেন কল্পনার লাগাম।

তবে বিষয়টি শুধু রসিকতায় থেমে থাকেনি। মূল ধারার কয়েকটি সংবাদমাধ্যম রীতিমত বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এক্সপার্টদের দিয়ে ছবিগুলো পরীক্ষা করিয়ে ট্রাম্প, মেলানিয়া আর ট্রুডোর ওই মুহূর্তের রসায়ন বোঝার চেষ্টা করেছে।

বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এক্সপার্ট প্যাটি উড এক্সপ্রেস ইউকে-কে বলেছেন, চুম্বনরত মেলানিয়ার হাত ধরে থাকা প্রসিডেন্ট ট্রাম্পের চেহারায় তিনি রাগের চিহ্ন দেখছেন।

উড বলেন, “আপনি যদি খেয়াল করেন, ট্রাম্প যেভাবে তার চিবুক ঝুঁকিয়ে রেখেছেন, যেভাবে নিচের দিকে তাকিয়ে আছেন, যদি খেয়াল করেন, তার ঠোঁটগুলো পরস্পরের ওপর কীভাবে চেপে বসে আছে, কোণগুলো বেঁকে আছে নিচের দিকে…।

“আপনি যদি ট্রাম্পের চোখগুলোতে নজর দেন, দেখবেন ভ্রুগুলোতে টেনশন, আর ওই দৃষ্টি, আমি এটাকে বলি ‘উইকেড লুক’।

“আর দুই ভ্রুর মাঝের অংশ কুঁচকে পেয়েছে ‘ভি’র আকার।… এটা হল রাগের একটা লক্ষণ।”

প্যাটি উডের ধারণা, স্বামীর হাত ধরে ওই রকম মোহিনী চাহনি হেনে ট্রুডোকে ওইভাবে চুমু মেলানিয়া ইচ্ছে করেই দিয়েছেন; আর সেটাই ট্রাম্পের রাগের কারণ।

তবে উডের ওই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে একমত নন আরেক বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বিশারদ জুডি জেমস। তার মতে, ট্রাম্প আর মেলানিয়া তাদের দাম্পত্য জীবনে যথেষ্ট সুখী। ওই ছবিতে ভিন্ন কোনো বার্তা পাওয়ার সুযোগ নেই।

জুডি জেমসের মতে, ক্যামেরার যে ‘অ্যাংগেল’ থেকে ছবিটি তোলা হয়েছে, সেটাই সোশাল মিডিয়ায় এত হই চইয়ের কারণ।

Print Friendly, PDF & Email