সর্বাধিক পরীক্ষায় সর্বাধিক করোনাক্রান্ত সনাক্ত ১৬১৭, মৃত্যু ১৬

নিজস্ব বার্তা প্রতিবেদক : দেশে নতুন করে ১ হাজার ৬১৭ জনের দেহে নভেল করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ রোগের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১১ হাজার ১৩৮টি। নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১০ হাজার ৮৫২টি। করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ পাওয়া গেছে ১ হাজার ৬১৭ জনের দেহে। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২ লাখ ৬ হাজার ৭৩৮টি। এতে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হলো ২৬ হাজার ৭৩৮ জন।

ডা. নাসিমা জানান, মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ১৬ জনের। এ নিয়ে দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৩৮৬ জনের মৃত্যু হলো। তিনি জানান, মারা যাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন- ঢাকা বিভাগে ৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ জন, সিলেট বিভাগে ১ জন এবং রংপুর বিভাগে ১ জন। বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, তাদের মধ্যে ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ১ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৪ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১ জন রয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৩০০ জনকে। বর্তমানে মোট আইসোলেশনে আছেন ৩ হাজার ৮১৬ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১০০ জন, এখন পর্যন্ত ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৮৯৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ৪ হাজার ১১ জনকে। এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৫১ হাজার ৫০২ জনকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্র পেয়েছেন ২ হাজার ২৮৭ জন। এখন পর্যন্ত মোট ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৬১ জন। বর্তমানে মোট কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫২ হাজার ৯৪১ জন।

এদিকে ২৪ ঘণ্টায় সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগে থেকেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা আরও ২১৪ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন জানিয়ে ডা. নাসিমা বলেন, এ নিয়ে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ৫ হাজার ২০৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্তের ঘোষণা আসে। আর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর সিস্টেম সায়েন্সেস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (সিএসএসই) তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর পর্যন্ত বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪৯ লাখ ১ হাজার ৭৭৩ জন। এদের মধ্যে মারা গেছে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৪১৩ জন। আর ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১৭ লাখ ১ হাজার ২৪ জন।