সৌদির সঙ্গে মিল রেখে দেশের শতাধিক গ্রামে আজ ঈদ উদযাপিত

নিজস্ব বার্তা প্রতিবেদক : সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুর, পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম, সুনামগঞ্জ ও শেরপুরের শতাধিক গ্রামে আজ শুক্রবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে।

চাঁদপুর : জেলার হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, মতলব, কচুয়া ও শাহরাস্তি উপজেলার অর্ধশত গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করছেন। আজ হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরীফ সংলগ্ন বায়তুল মামুর জামে মসজিদে সকাল পৌনে ৮টায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের নামাজে ইমামতি করেন সাদ্রা রহমানিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা কাউছার হামিদ নেছারী। এতে দুই শতাধিক মুসল্লি ঈদের জামাতে অংশ নেন। ভিন্ন ভিন্ন সময়ে হাজীগঞ্জসহ ৫ উপজেলায় বিভিন্ন মসজিদেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বিষয়ে সাদ্রা দরবার শরীফের মাওলানা মুফতি আরিফ চৌধরী বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সময়ের ব্যবধান মাত্র ৬ ঘণ্টা। এ কারণে সাদ্রা দরবার শরীফের পীর মরহুম মাওলানা ইসহাক ১৯৩১ সাল থেকে এই রীতি চালু করেন। বর্তমানে হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা গ্রাম ছাড়াও কয়েকটি গ্রামে ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে।

পটুয়াখালী : জেলার অন্তত ২২টি গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার আজ ঈদ উদযাপন করছেন। পটুয়াখালীর সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের বদরপুর দরবার শরীফ জামে মসজিদে সকাল ৯টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বদরপুর দরবার শরীফে প্রধান ঈদের জামাতে ইমামতি করেছেন দরবার শরীফের ইমাম মাওলানা শফিকুল ইসলাম গনি। নামাজ শেষে দেশ ও জাতি এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। পরে তাঁরা পশু কোরবানি দেন। বদরপুর দরবার শরীফের পরিচালক মোহাম্মদ নাজমুস সায়াদাত আখন্দ বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে তাঁরা এ বছর স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নামাজ আদায় করেছেন। ১৯২৮ সাল থেকে তাঁরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন।

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার দুটি গ্রামসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্ধশতাধিক গ্রামে আজ পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা আজ ঈদ উদযাপন করছেন। সকাল সাড়ে আটটায় আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের তৈলারদ্বীপ ও বরুমচড়া গ্রামে তিনটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সকাল আটটায় মির্জাখীল দরবার শরীফ মাঠে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। আনোয়ারা ও সাতকানিয়ার পাশাপাশি চন্দনাইশ, পটিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, বোয়ালখালীর অর্ধশতাধিক গ্রামে ঈদুল আজহার পৃথক পৃথক জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মির্জাখীল দরবার শরীফের মুখপাত্র মো. মছউদুর রহমান বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে এবার দরবার শরীফে বড় ঈদ জামাত বাদ দেওয়া হয়েছে। অনুসারীরা নিজ নিজ এলাকায় ছোট পরিসরে ঈদের জামাতে অংশ নিয়েছেন।

সুনামগঞ্জ : জেলার সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ধরমপাশা উত্তরপাড়া গ্রামে আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ঈদুল আজহার প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে গত ৮ বছর ধরে এই উপজেলার কিছু মানুষ ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করছেন।

শেরপুর : জেলার তিন উপজেলার পাঁচ গ্রামে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। গ্রামগুলো হলো শেরপুর সদরের বেতমারী ঘুঘুরাকান্দি ইউনিয়নের চরখারচর মধ্যপাড়া ও পশ্চিমপাড়া, নকলার চরকৈয়া ও নারায়ণখোলা এবং নালিতাবাড়ীর নন্নী পশ্চিমপাড়া গ্রাম। পাঁচ গ্রামের প্রায় এক হাজার মানুষ আজ সকালে ঈদের নামাজ আদায় করেন। স্থানীয় ও জনপ্রতিনিধি সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে এসব গ্রামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নকলার চরকৈয়া দক্ষিণপাড়া আহলে হাদিস জামে মসজিদে চরকৈয়া গ্রামের প্রায় দেড় শ মুসুল্লী নামাজে অংশ নেন। এতে ইমামতি করেন মো. সারোয়ার জাহান। বেতমারী ঘুঘুরাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মজিদ আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ‘চারদিকে বন্যার পানি। তারপরও চরখারচর মধ্যপাড়া সুরেশ্বর জিকিরঘর ও পশ্চিমপাড়া সুরেশ্বর খানকাহ শরীফে প্রায় পাঁচ শ মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করেন। এসব গ্রামের মানুষ দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করে আসছেন।’