৪ জন মিলে ধর্ষণের পর একজনকে বিয়ের প্রস্তাব অন্তঃসত্ত্বা তরুণীকে

নিজস্ব জেলা প্রতিবেদক : চাঁদপুরে চার যুবকের ধর্ষণের শিকার হয়ে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন এক তরুণী। ওই তরুণীর মা ভিক্ষা করে সংসার চালান বলে জানা গেছে। সালিস ডেকে চার ধর্ষকের একজনকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয় ওই তরুণীকে। জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ গন্ধর্ব্যপুর ইউনিয়নে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেলে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে। পরে রাতে ধর্ষণের শিকার তরুণী বাদী হয়ে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। এ ঘটনায় দুই ধর্ষক যুবকসহ এক ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার ভোর রাতে হাজীগঞ্জ ও চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনালে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলো, হাজীগঞ্জ উপজেলার ডাটরা শিবপুর গ্রামের মো. ইমরান হোসেন, মো. আরফিন এবং গন্ধর্ব্যপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য অহিদুল ইসলাম।

মামলায় অপর অভিযুক্তরা হলো, উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর ইউনিয়নের ডাটরা শিবপুর এলাকার গাজী বাড়ির রাব্বি (১৯), মেরাজ (২২) এবং স্থানীয় শিক্ষক মোস্তফা কামাল বিকম।

জানা যায়, কয়েক দিন আগে ওই তরুণী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে তার মা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর নিশ্চিত করেন চিকিৎসক। তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চার যুবকের নাম।

এরপর ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে এলাকার মাতবর ও প্রভাবশালীরা জোর খাটায়। স্থানীয়ভাবে সালিস করে ধর্ষক চার যুবকের কাছ থেকে প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে তরুণীর ব্যাংকে জামা রাখা হয়।

ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী জানান, বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি ও প্রলোভন দেখিয়ে এই চার যুবক তাকে তাকে ধর্ষণ করে। ভয়ভীতি ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করা হয়।

তরুণীর মা বলেন, আমি ভিক্ষা করে আমার মেয়েকে নিয়ে জীবন চালাই। এই চারজন আমার মেয়েকে বিভিন্ন সময় ধর্ষণ করে। ভয়ে আমার মেয়ে কাউকেই কিছু জানায়নি। পরে তার শরীরের অবস্থা দেখে হাসপাতালে নিলে ডাক্তার আমার মেয়ের গর্ভবতী হওয়ার খবর দেয়।

তিনি জানান, এ ঘটনায় স্থানীয় মাতবররা বিচার সালিসের আশ্বাস দিয়েছিল। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

এদিকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত আরফিনের বাবা বলেন, আমি ঘটনার খবর পরে জানতে পাই। পরে সালিসে আমার ছেলেসহ ৪ যুবকের ১ লাখ ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা ধার্য হয় এবং তরণীর পছন্দমতো একজনের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল।

হাজীগঞ্জ থানার ওসি মো. আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা ধর্ষণের ঘটনার খবর পেয়ে তরুণীকে থানা হেফাজতে নিয়ে আসি। এ ঘটনায় আমরা দুই ধর্ষকসহ অভিযুক্ত ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email