ঢাকা,বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ ঢাকা,মঙ্গলবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯
পাষণ্ড স্বামীর কাণ্ড

নয়াবার্তা প্রতিবেদক : আড়াইহাজার উপজেলায় গর্ভবতী এক নারীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করলেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। রাস্তায় সন্তান প্রসবের পর নিজেকে বাঁচাতে যখন হালিমা বেগম (৩৬) মাটিতে শুয়ে ছটপট করছেন ঠিক তখনি উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তাকে তুলে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। পাষণ্ড স্বামী তাকে উপজেলার স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবনের পেছনে ফেলে চলে যান বলে এমনটাই অভিযোগ করেন তিনি।

মঙ্গলবার সকালে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবনের পেছন থেকে হালিমা বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিব ইসমাঈল ভুইয়া তা নিশ্চিত করেন।

এদিকে হালিমা বেগমের সন্তান রাস্তায় প্রসব হয়। তিনি তার সন্তান খুঁজে না পেয়ে কান্নাকাটি করলেও নবজাতককে কাছে পায়নি। তবে যেখান থেকে হালিমা বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তার একশ গজ দূর হতে পুলিশ এক নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে। নবজাতকের লাশটি হালিমা বেগমের কিনা এলাকাবাসীর মাঝে নানা ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া এলাকার অনেকেই বলছে হালিমা বেগম মানসিক ভারসাম্যহীন। কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিব ইসমাঈল ভুইয়া বলছে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন নয়। তাকে নির্যাতন করে মানসিক ভারসাম্যহীনে পরিণত করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বন্দর উপজেলার লাঙ্গনবন্দ এলাকার হালিমা বেগম। বরিশালের আল আমিন নামের এক যুবক হালিমাকে বিয়ে করে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। হালিমা যখন গর্ভবতী হন তখন তার স্বামী আলামিন তাকে সন্তান নষ্ট করতে বলেন। এতে হালিমা অনিহা প্রকাশ করলে তার উপর অমানবিক নির্যাতন শুরু করেন। একপর্যায়ে হালিমাকে ইনজেকশ দিয়ে তার গর্ভের সন্তান প্রসব করারও চেষ্টা করেন। তাকে মানসিক ভাবে নির্যাতন করায় হালিমা অনেকটাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে মঙ্গলবার সকালে হালিমাকে তার স্বামী তাকে তুলে নিয়ে আড়াইহাজার উপজেলার স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবনের পেছনে ফেলে চলে যান। ঐ সময় সম্ভবত রাস্তায় হালিমা সন্তান প্রসব হয়ে শিশুটি মারা যান। আর হালিমা রক্তাক্ত অবস্থায় ছটপট করতে থাকে এবং নিজেকে বাঁচাতে হাসপাতালের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু হালিমা অসুস্থ হওয়ায় মাটিতে লুটে পড়েন। ঐসময় হালিমা রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে উপজেলার স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাঠকর্মী নজরুল ইসলাম তাকে উদ্ধার করেন। এসময় নজরুল ছুটে যায় ডা. হাবিব ইসমাঈল ভুইয়ার কাছে। তখন সকলের সহযোগিতায় নজরুল হালিমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে হালিমার চিকিৎসা করে বাঁচিয়ে তুলতে সকল দায়িত্ব নেয় ডা. হাবিব ইসমাঈল ভুইয়া। তিনি চিকিৎসার সকল খরচ বহন করে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা. শান্তা ত্রিবিদী জানান, হালিমা বেগমের ৭/৮ মাসে সন্তান প্রসব হয়। তাকে রাস্তা থেকে তুলে এনে অপারেশন করে প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়ে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। হালিমা বেগমের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় তিনি অনেকটাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিব ইসমাঈল ভুইয়া জানান, হালিমা বেগমের স্বামী তাকে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায়। আর রাস্তায় হালিমা বেগমের সন্তান প্রসব হয়। তার সন্তান রাস্তায় মারা গেলে তিনি নিজেকে বাঁচাতে ছটপট করতে থাকেন। তখন তাকে দেখে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাঠকর্মী নজরুল সকলের সহযোগিতা নিয়ে হালিমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তখন আমার নিজের পকেটের টাকা খরচ করে হালিমাকে চিকিৎসা শুরু করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

আড়াইহাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মজিবুর রহমান জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের একটু দূর হতে নবজাতকের লাশ উদ্ধার করা হয়। নবজাতকের পরিচয় পাওয়া না গেলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ বলছে নবজাতকের লাশটি হালিমা নামের নারীর।
তবে ঘটনার তদন্ত করে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *