ঢাকা,শনিবার, ২০ জানুয়ারী ২০১৮, ৭ মাঘ ১৪২৪, ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯ ঢাকা,বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯
ব্রেকিং নিউজ:
উ.কোরিয়ার সঙ্গে নিঃশর্ত আলোচনায় প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র : টিলারসন

নয়াবার্তা ডেস্ক : কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই যে কোনো সময় উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন।মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে আটলান্টিক পলিসি ফোরামে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

টিলারসন বলেন, ‘আসুন একসঙ্গে বসি। আপনারা চাইলে আবহাওয়া নিয়েও কথা হতে পারে।’ টিলারসনের এ মন্তব্য কোরীয় উপদ্বীপের উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের।

উত্তর কোরিয়ার পারমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির জেরে দেশটির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।পাশাপাশি জাতিসংঘও বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে সেসব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই একের পর এক ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে পিয়ংইয়ং। যদিও এই প্রস্তুতি ‘যুদ্ধের নয়, আত্বরক্ষার’ বলে দাবি করে আসছে উত্তর কোরিয়া।

বিবিসি জানায়,সম্প্রতি পিয়ংইয়ং সফর করে আসা জাতিসংঘের রাজনৈতিক প্রধান জিফ্রে ফেল্টম্যানও বলেছেন, ‘যুদ্ধ থেকে বিরত থাকার গুরুত্ব অনুভব করছেন’ উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তারাও।

যুদ্ধ এড়াতে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়ং হো এবং সহকারী মন্ত্রী পাক মিয়ং গুকের সঙ্গে ১৫ ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে জানিয়ে ফেল্টম্যান বলেন, ‘আলোচনার দরজা আধখোলা অবস্থায় এসেছে। মধ্যস্থতার মধ্য দিয়ে আলোচনার দরজা এখন আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করছি।’

ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু পরীক্ষার কারণে ওয়াশিংটন-পিয়ংইয়ংয়ের কূটনৈতিক টানাপোড়েন এখন চরমে। একই সঙ্গে চলছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের কথার লড়াইও।

টিলারসন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই ‘পরমাণু অস্ত্র সজ্জিত উত্তর কোরিয়াকে মেনে নেবে না’। এর পরই তিনি উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নমনীয় করার ইঙ্গিত দেন।

তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি আলোচনায় বসতে রাজি থাকেন তাহলে তা গোল কিংবা চারকোনা যে টেবিলেই আপনারা বসতে বেশি আগ্রহবোধ করবেন সেখানেই বসব। তারপর আমরা একটি রোডম্যাপের রূপরেখা তৈরি শুরু করতে পারি, যা নিয়ে সম্ভবত আমরা একত্রে কাজ করতে রাজি আছি।’

অবশ্য পিয়ংইয়ংয়ের ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার ওপরও মত দেন তিনি।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথম বোমাটি না পড়া’ পর্যন্ত এ চাপ রাখতে হবে। উত্তর কোরিয়াকে ঠেকাতে চীন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ করে আসছেন ট্রাম্প। মঙ্গলবার এ বিষয়েও কথা বলেন টিলারসন।

তিনি জানান, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে চীন পদক্ষেপ নিলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চান বেইজিং পিয়ংইয়ংকে তেল সরবরাহ বন্ধ করুক। যুদ্ধ শুরু হলে উত্তর কোরিয়া থেকে ‘শরণার্থীদের আসার সম্ভাবনা’ নিয়েও চীন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন বলে মন্তব্য করেন টিলারসন।

এদিকে বুধবার কিম জং উন নিজেদের শক্তিশালী পরমাণু অস্ত্র ভাণ্ডার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শক্তি প্রদর্শনের খেলায় বিজয় ছিনিয়ে নেয়ার শপথ নিয়েছেন। একই সঙ্গে তার দেশকে ‘বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক ও সামরিক শক্তিধর দেশে’ পরিণত করার ঘোষণা দেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *