ঢাকা,রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ৬ ফাল্গুন ১৪২৪, ২ জমাদিউস সানি ১৪৩৯ ঢাকা,বৃহস্পতিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ১৯ মাঘ ১৪২৪, ২ জমাদিউস সানি ১৪৩৯
ব্রেকিং নিউজ:
মোবাইল ফোনের বৈধ আমদানির সঙ্গে অবৈধ আমদানিও বাড়ছে

নয়াবার্তা প্রতিবেদক : দেশে প্রতি বছর মোবাইল ফোনের আমদানি বাড়ছে। এক পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি বছর মোবাইল ফোন আমদানির সংখ্যা গড়ে ৫০ লাখ করে বাড়ছে। ২০১৭ সালে দেশে এসেছে ৩ কোটি ৪০ লাখ মোবাইল ফোন। এর আগের বছর এই সংখ্যাটা ছিল প্রায় ৩ কোটি। ২০১৫ সালে এসেছিল ২ কোটি ৬০ লাখ হ্যান্ডসেট। কিন্তু এর বাইরে প্রতি বছর অবৈধ পথে আমদানি হচ্ছে ৫০ লাখের বেশি মোবাইল ফোন। অবৈধভাবে আসা এসব মোবাইল ফোন তৈরি করেছে ‘গ্রে মার্কেট’, যা দিন দিন বড় হয়েই চলেছে।
মোবাইল ফোন আমদানিকারকদের একাধিক সূত্র জানায়, ফিচার ফোনের জায়গা দখল করে নিচ্ছে স্মার্টফোন। বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ মোবাইল ফোন আমদানি হয়, তার প্রায় ২৫-৩০ ভাগ স্মার্টফোন। আর এই স্মার্টফোনের অধিকাংশ আসেই অবৈধ পথে (হাতে হাতে, লাগেজ ইত্যাদি মাধ্যমে)। এসব মাধ্যমে আসা স্মার্টফোনই বিক্রি হয় গ্রে মার্কেটে।
মোবাইল ফোন আমদানিকারক ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিআইএ) সূত্রে জানা যায়, দেশে মোবাইল ফোনের বাজারের আকার আট হাজার কোটি টাকার। এর মধ্যে ২৫ শতাংশের বেশি অবৈধভাবে আসা মোবাইল ফোনের দখলে। এই গ্রে মার্কেটের আকার দুই হাজার কোটি টাকার। এ বাজারের কারণে সরকার প্রতি বছর একহাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
বিএমপিআইএ সূত্র বলছে, অবৈধ পথে দেশে আসে বেশিরভাগই নামীদামি ব্র্যান্ডের ফোন। এ তালিকায় শীর্ষে রয়েছে আইফোন। বিএমপিআইএ-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বলেন, ‘গত বছর দেশে একলাখেরও বেশি আইফোন এসেছে। এর মধ্যে খুবই কম সংখ্যক ফোন এসেছে বৈধ পথে। হাতে হাতে বা লাগেজ পার্টির মাধ্যমে এসেছে বেশি।’ তিনি জানান, সরকার কঠোর না হলে অবৈধ পথে মোবাইল ফোন আসা বন্ধ করা যাবে না। আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি) ডাটাবেজ চালু করা সম্ভব হলে এসংখ্যা অনেকাংশে কমে যাবে বলেও জানান তিনি।
বিভিন্ন সূত্র জানায়, গত বছর দেশে লক্ষাধিক আইফোন এলেও বৈধ পথে এসেছে মাত্র পাঁচ হাজার ৫৪৪টি।
বিএমপিআইএ-এর সভাপতি রুহুল আলম আল মাহবুব বলেন, ‘গ্রে মার্কেটে মোবাইল ফোন অনেক কম দামে বিক্রি করতে পারছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের কারণে আমরা বাজারে টিকতে পারছি না। ফলে আমরা বাজার হারাচ্ছি, আর তাদের বাজার বড় হচ্ছে।’ তিনিও মনে করেন, আইএমইআই ডাটাবেজ একটা বড় সমাধান হতে পারে। তিনি জানান, স্যামসাং মোবাইল ফোনের ৩০ ভাগ গ্রে মার্কেটের দখলে রয়েছে। আর আইফোনের ৯০ শতাংশ দেশে আসে অবৈধ পথে। হাতে হাতে, লাগেজে বা যন্ত্রাংশ আকারেও দেশে ঢুকছে আইফোন। শাওমি, এইচটিসি মোবাইলেরও একই অবস্থা।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানায়, অবৈধ পথে দেশে আসা মোবাইল ফোন ব্র্যান্ডের শীর্ষে রয়েছে স্যামসাং, এইচটিসি, শাওমি, অপো ইত্যাদি। হ্যান্ডসেট আমদানি করতে আমদানিকারকদের শুল্ক বাবদ (মোবাইলের দামের ওপর) পরিশোধ করতে হয় মোট টাকার ৩১ শতাংশ। ফলে অবৈধ পথে আনা মোবাইলে লাভ বেশি হওয়ায় তা আমদানির পরিমাণও বেড়ে গেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ডিসেম্বরে চালু হওয়া সরকারি নিয়মের কারণেও দেশে অবৈধ পথে আসা মোবাইল ফোনের সংখ্যা আরও বাড়বে। নতুন নিয়মে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ব্যক্তিপর্যায়ে মোবাইল ফোন আমদানির সংখ্যা ৫টির পরিবর্তে ৮টি করা হয়েছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে এই নিয়ম কার্যকরও হয়েছে। এর মধ্যে দু’টি সেট আনা যাবে বিনা শুল্কে, আর বাকিগুলো শুল্ক দিয়ে ছাড় করা যাবে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, অনেকেই ঘোষণা না দিয়েই যেকোনও উপায়ে মোবাইল ফোন ছাড় করিয়ে নিয়ে যাবে। ফলে মোবাইল ফোন আসার সংখ্যাও বাড়বে।
দেশে দ্রুত আইএমইআই ডাটাবেজ চালু করতে সরকারকে উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মোবাইল ফোন আমদানিকারকরা। তারা জানান, আইএমইআই ডাটাবেজ চালু করা হলে অবৈধ পথে আসা মোবাইল ফোন চালু করা সম্ভব হবে না। সংশ্লিষ্ট ডাটাবেজে মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর নিবন্ধন করলেই তবে চালু হবে তা। আর আমদানিকারকরা মোবাইল ফোন দেশে আনার আগেই ডাটাবেজে নম্বর অন্তর্ভুক্ত করে রাখবে। ফলে অবৈধ পথে আসা মোবাইল ফোনের সংখ্যাও কমে যাবে।
শাওমি মোবাইল ফোনের বাংলাদেশে অনুমোদিত পরিবেশক এসইবিএল–এর প্রধান নির্বাহী দেওয়ান কানন দাবি করেন, ‘শাওমির প্রায় ৬০ ভাগ স্মার্টফোন অবৈধ পথে দেশে আসছে। এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। এদিকে, আমরা বৈধভাবে মোবাইল ফোন আমদানি করেও বাজার টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেখা গেছে, সিঙ্গাপুর-দুবাই-মালয়েশিয়া থেকে হ্যান্ড-লাগেজে করে মোবাইল ফোন আসছে। অনেকে মোবাইল ফোন খুলে যন্ত্রাংশ হিসেবেও নিয়ে আসছে। আমরা জেনেছি, এসবের কারণে সরকার প্রতি বছর একহাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারাচ্ছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *