‘ভাবতাম, আমাকে কেন ইউটিউব থেকে টাকা আয় করতে হবে?’

নিজস্ব বার্তা প্রতিবেদক : সালমা, কণ্ঠশিল্পী। সম্প্রতি সানডে মিউজিক স্টেশনের ব্যানারে প্রকাশ হয়েছে তার নতুন গানের ভিডিও ‘শ্যাম পিরিতি’। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি গান নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি। গান ও অন্যান্য বিষয়ে কথা হলো তার সঙ্গে-

‘শ্যাম পিরিতি’ গানটি রেকর্ড করেছিলেন অনেক দিন আগে। মিউজিক ভিডিও হিসেবে প্রকাশ করতে এতটা সময় নিলেন কেন?

শুরুতে অডিওতেই ‘শ্যাম পিরিতি’ প্রকাশের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু গান শুনে অনেকেই জানতে চেয়েছেন, এমন গানের কেন ভিডিও করা হয়নি। তখন আমিও ভিডিও নিয়ে ভেবেছি। দেলোয়ার শাহ নেওয়াজের কথা ও সুরে এবং এমএ রহমানের সংগীতের এই গানের প্রতি নিজেরও এক ধরনের ভালোলাগা আছে। এজন্য দেরিতে হলেও মিউজিক ভিডিওটি প্রকাশ করলাম। চমৎকার লোকেশনে রাধাকৃষ্ণের গল্প নিয়ে চিত্রায়ণ করা হয়েছে। এটি পরিচালনা করেছেন বিপ্লব মিত্রা। আশা করছি, গানের মতোই ভিডিও সবার ভালো লাগবে।
এই তো ক’দিন আগে ‘রঙিলা বাড়ই’ গানের ভিডিও প্রকাশ করেছেন। এই গানটি নিয়ে ভক্তদের প্রতিক্রিয়া কী?

অনেকেই গানটি শুনে প্রশংসা করেছেন। শ্রোতাদের এই ভালো লাগা আমাকে আরও নতুন কিছু করার প্রেরণা জুগিয়ে যাচ্ছে। শাহ নেওয়াজের কথা ও সুরে এই গানটিতে আমার সঙ্গে যৌথভাবে কণ্ঠ দিয়েছেন সোহাগ। গানটির সংগীতায়োজন করেছেন রাফি মোহাম্মদ। গানটি নিয়ে অনেক টিকটক ভিডিও হয়েছে।

লোকগানের শিল্পী হিসেবে আপনি পরিচিত। ইদানীং ভিন্ন ধাঁচের গানও করছেন। কারণ কী?

দীর্ঘদিন ধরে ক্ল্যাসিকাল সংগীতের চর্চা করে আসছি। আধুনিক গানের চর্চাও থেমে নেই। তাহলে ভিন্ন ভিন্ন ঘরানার গান গাওয়ায় ক্ষতি কী? তা ছাড়া শিল্পী হিসেবে নির্দিষ্ট ছকের মধ্যে আটকে থাকতে চাই না। সব ধরনের গান গাইতে ভালো লাগে।

আপনার ইউটিউব চ্যানেল নিয়ে নতুন পরিকল্পনা …

করোনা আমাদের নতুন অনেক কিছু শিখিয়েছে। আর সে কারণেই নিজের ইউটিউব চ্যানেল নিয়ে নতুন করে ভাবছি। নিজের গানের পাশাপাশি এসএস মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে আরও কিছু কাজ করতে চাই। একসময় ভাবতাম, আমাকে কেন ইউটিউব থেকে টাকা আয় করতে হবে? কী দরকার? কিন্তু লকডাউনে মনে হলো, বিশ্বের অনেক বড় শিল্পী ইউটিউব থেকে আয় করছেন। আমি কেন ইউটিউবে সক্রিয় হলাম না? কেন এটাকে উপেক্ষা করলাম। কোনো কিছুকেই ছোট করে দেখা উচিত নয়।

শুনলাম নতুন কিছু গান রেকর্ড করেছেন?

ঠিকই শুনেছেন। অনেক গান একসঙ্গে রেডি হয়েছে। বিরতি দিয়ে গান প্রকাশ করতে পছন্দ করি। হুটহাট করে গান করার পক্ষপাতী নই। বছরে পাঁচ থেকে ১০টা কাজ করা উচিত। ‘ভালোবাসি’, ‘মাটির ঘর’, ‘দাগা’, ‘কবর’সহ কয়েক গান এখন প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। লালন সাঁইয়ের গানের একটি সংকলনের পরিকল্পনা করছি। এর কাজ অনেকদূর এগিয়েছে।