ভয়ে কেউ আসেনি, করোনায় মৃত নারীকে গোসল করালেন ইউএনও

নিজস্ব জেলা প্রতিবেদক : রেখা সুলতানা (৪৮) নামের এক নারী করোনায় সংক্রমিত হয়ে গতকাল শুক্রবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। লাশ বাড়িতে নেওয়ার পর গোসলের জন্য পরিচিত ব্যক্তিরা কেউ এগিয়ে আসেনি। বিকেল গড়িয়ে রাত হয়ে যায়। গোসল না হওয়ায় দাফন পিছিয়ে যাচ্ছিল। খবর শুনে রাত আটটার দিকে ওই নারীর বাড়িতে হাজির হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. খালেদা খাতুন। তিনি গোসল করান। তাঁকে দেখে প্রতিবেশী দুই নারীও এগিয়ে আসেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে জানাজা শেষে রেখার লাশ দাফন করা হয়।

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার উজিয়ালখান গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত রেখা সুলতানা উজিয়ালখান গ্রামের সোলায়মান হোসেনের স্ত্রী। সোলায়মান হোসেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সুপারভাইজার। এই দম্পতির দুই ছেলে ও এক মেয়ে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার করোনার উপসর্গ নিয়ে রেখা সুলতানা কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। পরদিন বৃহস্পতিবার তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নমুনা পরীক্ষায় তাঁর করোনা শনাক্ত হয়। গতকাল শুক্রবার বেলা দুইটার দিকে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এরপর পরিবারের লোকজন তাঁর লাশ বাড়িতে নিয়ে যান। লাশের গোসলের জন্য কোনো নারীকে পাওয়া যাচ্ছিল না। করোনায় মৃত্যু হয়েছে শুনে কেউ লাশের কাছে যাচ্ছিলেন না। রাত আটটা পর্যন্ত লাশ বাড়ির উঠানে ছিল। পরে ইউএনও মোসা. খালেদা খাতুন মৃত নারীর বাড়িতে গিয়ে গোসল করান।

মৃত রেখা সুলতানার স্বামী সোলায়মান হোসেন বলেন, ‘আমার স্ত্রী করোনায় মারা যাওয়ার খবর শুনে ভয়ে তাঁর লাশের গোসল করাতে কেউ আসেনি। রাতে ইউএনও মহোদয় এসে গোসল করালেন। আমি তাঁর কাছে চিরকৃতজ্ঞ।’

কাউখালী ইউএনও মোসা. খালেদা খাতুন বলেন, ‘আমি খবর পেলাম, করোনায় মৃত এক নারীর লাশের গোসল করানোর জন্য কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। তখন আমি মৃত নারীর বাড়িতে গিয়ে গোসলের উদ্যোগ নিই। একজন মানুষ হিসেবে এ কাজ করেছি। জনগণের সেবা করার পাশাপাশি দুঃসময় ও সংকটে তাদের পাশে দাঁড়ানো ইউএনও হিসেবে আমার দায়িত্ব।’