সরিষার নোমে ‘পপির আমদানি’

নিজস্ব বার্তা প্রতিবেদক : সরিষা দানা ঘোষণা দিয়ে মালয়েশিয়া থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা হয়েছে ৪২ টন নিষিদ্ধ মাদক আফিমের কাঁচামাল- পপি বীজ। কাস্টমস কর্মকর্তাদের নজরদারি ও তৎপরতায় মাদক চালানটি বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করতে পারেনি।

সরিষার দানা ঘেষণায় ৫৪ টনের দুটি কন্টেইনার চালান আনা হয়। ওই চালানে সরিষার দানার ভেতর ছিলো ৪২ টন নিষিদ্ধ মাদক আফিমের কাঁচামাল- পপি বীজ।

জানা গেছে, জব্দ করা ৪২ হাজার কেজি পপি বীজের ক্রয়মূল্য ১৫ কোটি টাকা হলেও আমদানিকারক সরিষা ঘোষণায় মাত্র ২২ লাখ টাকা মূল্য পরিশোধ করেছেন। বাকি টাকা অবৈধভাবে পাচার করা হয়েছে বলে ধারণা করছে কাস্টম কর্তৃপক্ষ। অর্থ পাচারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করবে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের অডিট ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিচার্স (এআইআর) শাখার সহকারী কমিশনার রেজাউল করিম বলেন, পপি বীজ দিয়ে নিষিদ্ধ মাদক আফিম তৈরি হয়। পপি বীজ আমদানি আমাদের দেশে পুরোপুরি নিষিদ্ধ। মাদকের কাঁচামালের চালান দেশে আনার সঙ্গে সংঘবদ্ধ কোনো চক্র জড়িত বলে আমাদের ধারণা। এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মামলায় আমদানিকারকের পাশাপাশি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের মালিককে আসামি করা হচ্ছে।

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, দেড় মাস আগে সন্দেহজনক পপি বীজের চালানের খালাস প্রক্রিয়া স্থগিত করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাসায়নিক ল্যাবে পরীক্ষায় নিশ্চিতের পর গত সোমবার প্রতিবেদন পায় কাস্টমস। এর পর গতকাল মঙ্গলবার সকালে সেটি প্রকাশ করা হয়।

জানা গেছে, আজমিন ট্রেড সেন্টার নামে ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান সরিষা বীজ ঘোষণায় মালয়েশিয়া থেকে দুই কনটেইনার পণ্য আমদানি করে। তাদের মনোনীত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হটলাইন কার্গো ইন্টারন্যাশনাল পণ্য চালানটি খালাস নিতে গত ১৮ এপ্রিল বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে কাস্টমসে। সরিষা বীজের শুল্ক বাবদ ১ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৭ টাকা টাকা পরিশোধ করে। কিন্তু সন্দেহজনক উপস্থিতির তথ্য থাকায় কাস্টমস সেটির খালাস স্থগিতের নির্দেশ দেয়। ২২ এপ্রিল কায়িক পরীক্ষা হয়।

সহকারী কমিশনার রেজাউল বলেন, কায়িক পরীক্ষায় পপি বীজের উপস্থিতি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়ে নমুনা বন্দরের কোয়ারেন্টিন অফিসে পাঠানো হয়। তারাও একই মত দেয়, কিন্তু বিষয়টি তাদের এখতিয়ারভুক্ত না হওয়ায় লিখিত কোনো মত দেয়নি। এর পর ঢাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাসায়নিক ল্যাবে নমুনা পাঠানো হয়। গত সোমবার হাতে পাওয়া সেখানের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- সবগুলো পপি বীজ।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের অডিট ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিচার্স (এআইআর) শাখার সহকারী কমিশনার আরও জানান, আমদানিকারকের ঘোষিত ৫৪ টন সরিষা বীজের জায়গায় পণ্য এসেছে মাত্র ১২ টন। বাকি ৪২ টনই আমদানি নিষিদ্ধ পপি বীজ। একই রকমের বস্তায় ওপর সরিষার বীজ রেখে ভেতরে ভরা হয় পপি বীজ।