স্বামীকে বলাৎকার ও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর ধর্ষক ৪ যুবক কারাগারে

নিজস্ব জেলা প্রতিবেদক : পঞ্চগড়ে এক ব্যক্তি ও তার স্ত্রীকে বলাৎকার ও ধর্ষণের ঘটনায় প্রতিবেশী চার যুবককে কারাগারে পাঠিয়েছেন বিচারক। এর আগে গতকাল সোমবার অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে রোববার রাতে। শুধু বলাৎকার ও ধর্ষণের ঘটনাই নয়, আসামিরা ঘটনার চিত্র মোবাইল ফোনে ধারণ করে এবং ভুক্তভোগীদের কাছে ফোন করে চাঁদাও দাবি করেছে বলে জানা গেছে।

আসামিদের নাম- জগদল দক্ষিণ গোয়ালপাড়া এলাকার বাদশা মিয়ার ছেলে জয়নুল হক (২৫), একই এলাকার এন্তাজুল ইসলামের ছেলে রনী ইসলাম (২৪), শহিদুল ইসলামের ছেলে নুর হোসেন (২১), আব্দুল মালেকের ছেলে শাহিন হোসেন (২১)। তাদের বিরুদ্ধে পৃথক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পঞ্চগড় সদর থানায় দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। আজ মঙ্গলবার তাদের আদালতের মাধ্যম কারাগারে পাঠানোর কথা নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ।

এসআই বলেন, চার যুবকের নামে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হয়েছে। এরমধ্যে ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী বলাৎকারে বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত একজনের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রোববার গভীর রাতে পঞ্চগড় সদর উপজেলার পঞ্চগড় ইউনিয়নের জগদল দক্ষিণ গোয়ালপাড়া এলাকার ওই চার যুবক প্রতিবেশী এক দিনমজুরকে চা পাতা তোলার জন্য ডেকে তোলে। পরে একটি চা বাগানে নির্জন স্থানে নিয়ে ওই চার যুবক তাকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে এবং ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। একপর্যায়ে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে বলাৎকার করে। এরই ফাঁকে জয়নুল ওই দিনমজুরের ঘরে ঢুকে তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকেও ধর্ষণ করে। সোমবার সকালে বিষয়টি তারা পরিবারের লোকজনকে জানালে স্থানীয়রা ওই চার যুবককে আটক করে পুলিশে দেয়।

এ ঘটনার পর অন্তঃসত্ত্বা ওই গৃহবধূকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে তিনি পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু আক্কাছ আহমদ বলেন, ‘এ ঘটনায় চার যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত। তাদের বিরুদ্ধে থানায় দুটি মামলা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে অন্যকোনো যোগসূত্র আছে কি-না তা জানার চেষ্টা চলছে। ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার চার যুবককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।