
জামালপুর প্রতিনিধি : সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মো. কাজলের লাশ ভ্যান গাড়ির ওপরে প্লাস্টিকের কাভারে মোড়ানো। স্বামীর মুখের কাছে দাঁড়িয়ে স্ত্রী আর্তনাদ করে উঠলেন, ‘চোখ খুইলা দ্যাহো আমি আইছি, তোমার মেয়েও আইছে। একবার চোখ খুইলা দ্যাহো।’ আজ রোববার দুপুরে মেলান্দহ থানা চত্বরে আহাজারি করে এসব কথা বলছিলেন নিহত কাজলের স্ত্রী শান্তা বেগম।
গ্রামীণফোন টাওয়ারের কাজে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানের চালক কাজল টানা সাত দিন যাবৎ গাড়ি চালাচ্ছিলো। আজ সকাল নয়টার দিকে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার বেতমারি এলাকায় জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে পিকআপ ভ্যান ও মালবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহত তিনজনের মধ্যে মো. কাজল একজন।
৩৫ বছর বয়সী যুবক কাজল জামালপুর সদর উপজেলার ফতেপুর এলাকার মো. হানিফ উদ্দিনের ছেলে। তিনি গ্রামীণফোন টাওয়ারের কাজে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানের চালক ছিলেন। স্ত্রী শান্তা বেগম ও দুই বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে কাজলের সংসার ছিল। দুর্ঘটনায় নিহত অন্য দুজন হলেন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার নারিকেল বাড়ি এলাকার নারায়ণ চন্দ্র বর্মণের ছেলে চঞ্চল বর্মণ (২৭) ও জামালপুর সদর উপজেলার বিয়ারা পলাশ ঘর এলাকার আবদুল করিমের ছেলে শাহ্ আলম (৩৫)। তাঁরা দুজনও গ্রামীণফোনের টাওয়ারে কাজ করতেন।
আজ দুপুরে সরেজমিনে মেলান্দহ থানার চত্বরে নিহত তিন যুবকের স্বজনদের আর্তনাদ ও আহাজারি করতে দেখা যায়। লাশ দেখতে আশপাশের লোকজনও সেখানে ভিড় করেন। সেখানে নিহত কাজলের স্ত্রী শান্তা বেগম আহাজারি করছিলেন, আর বলছিলেন, ‘শনিবার রাত ৩টার দিকে আমার সাথে তার শেষ কথা হইছে। তহন জানাইছিল, সে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় আছে। পরে ঘুমে থাকতেই খবর পাই, গাড়ি অ্যাক্সিডেন্ট করছে। এনে (এখানে) আইয়া দেহি স্বামীর নিথর দেহ। এহন আমার মেয়েরে আমি ক্যামনে মানুষ করমু? টানা সাত দিন ধইরা গাড়ি চালাইতেছিল, ঠিকমতো বাড়িতেও আহে নাই।’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেতমারি এলাকায় দেওয়ানগঞ্জগামী ট্রাকের সঙ্গে পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে পিকআপ ভ্যানে থাকা ওই তিনজন ঘটনাস্থলে মারা যান। খবর পেয়ে মেলান্দহ উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা লাশ তিনটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে পুলিশ লাশ তিনটি থানায় নিয়ে রেখেছে। এ ঘটনায় ট্রাকচালক ও তাঁর সহকারী পালিয়ে গেছেন। তবে পুলিশ ট্রাকটি জব্দ করেছে।
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ট্রাকের সঙ্গে পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত তিনজনের লাশ জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা করা হবে।