
নয়াবার্তা ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদরদপ্তরের বাইরে নিজের শরীরে আগুন লাগিয়ে এক ব্যক্তি অত্মহত্যা করেছেন। নিহত ব্যক্তির নাম লোবগা রাংজেন (৫২ বছর)। তিনি পেশায় একজন উবার চালক ছিলেন। বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ফার্স্ট অ্যাভিনিউ এবং ৪২তম স্ট্রিটের সংযোগস্থলে এ ঘটনা ঘটে।
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিটের দিকে এক ব্যক্তির অগ্নিদগ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। গুরুতর আহত ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে বেলভিউ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে।
ঠিক কী কারণে রাংজেন এমন চরম ও আত্মঘাতী পথ বেছে নিলেন, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে নির্বাসিত তিব্বতিদের সংবাদমাধ্যম ‘ভয়েস অব তিব্বত’ জানিয়েছে, ঘটনার সময় রাংজেনের হাতে একটি তিব্বতি পতাকা ও পরনে ছিল তিব্বতীয় সন্ন্যাসীদের ঐতিহ্যগত পোশাক। এছাড়াও আত্মঘাতী হওয়ার এই ঘটনা ফেসবুকে লাইভস্ট্রিমিং করে তিনি তিব্বতের স্বাধীনতা ও ঐক্যের পক্ষে আওয়াজ তোলেন।
রাংজেনের বন্ধু লবসাং পালজোর নামের আরেক উবার চালক বলেন, ‘৪২ বছর বয়সী রাংজেন গত ২০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন, নাগরিকত্বও অর্জন করেছিলেন। নিজ দেশের মানুষের ওপর চীন সরকারের আরোপ করা বিধিনিষেধের কারণে রংজেন প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ছিলেন।’
তিব্বতের স্বাধীনতাকামী সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর তিব্বতের সভাপতি তেনচো গিয়াতসোর জানান, রাংজেন তিব্বতে চীনের অধিগ্রহণ ও জোর করে তিব্বতে ‘জাতিগত ঐক্য ও অগ্রগতি উন্নয়ন আইন’ বা ‘এথনিক ইউনিটি অ্যান্ড প্রোগ্রেস’ আইনের প্রতিবাদে সক্রিয় ছিলেন।
এদিকে রাংজেনই একমাত্র ব্যক্তি নয়, যিনি তিব্বতের স্বাধীনতা ও ঐক্যের পক্ষে আত্মাহুতির পথ বেছে নেন।
ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর তিব্বতের-এর তথ্যমতে, চীনা শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ২০০৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে দেড় শতাধিক তিব্বতি নাগরিক এভাবে নিজের শরীরে আগুন দিয়ে আত্মাহুতি দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, চীন দাবি করে যে তিব্বত শত শত বছর ধরে চীনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। অন্যদিকে, তিব্বতিদের দাবি—তিব্বত সব সময়ই একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ছিল এবং ১৯৫১ সালে চীন অন্যায়ভাবে এটি দখল করে নেয়। সম্প্রতি তিব্বতের মঠ ও ধর্মীয় রীতিনীতির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে চীন সরকার। স্কুলগুলোতে তিব্বতি ভাষার পরিবর্তে ম্যান্ডারিন (চীনা ভাষা) শেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
