
নয়াবার্তা প্রতিবেদক : বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার বিদ্যুৎখাতে ৫৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রেখে গেছে। ফলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মোকাবিলা করতে না পারলে বিদ্যুৎ খাতের পাহাড় পরিমাণ ঋণের বোঝা থেকে উত্তরণ খুব কঠিন হবে।
আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০) শীর্ষক নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। কন্জুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
জ্বালানিমন্ত্রী টুকু বলেন, ‘বিদ্যুৎ বা জ্বালানির একটা খরচ আছে। আমার দায়িত্ব নাগরিক যাতে কিনতে পারে সেটা নিশ্চিত করা। এটা বোধ হয় পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ। কারণ আমাকে কিনতে হয়, কিনে বিক্রি করতে হয়, নাগরিক সেবা দিতে হয়। আর সেটা কেনার দাম যদি বেশি হয়ে যায়, আর আমি সেই দামই যদি নাগরিকের ওপর (চাপিয়ে) দিতে যাই, তাহলে আমার মনে হয় না যে নাগরিক তাতে সন্তুষ্ট হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের বিদ্যুতের যে মাস্টার প্লান্ট ছিল, সেখানে পরিষ্কার বলা ছিল ৬৫ শতাংশ উৎপাদন থাকবে সরকারের হাতে। উৎপাদন মূল্য যদি সরকার নিয়ন্ত্রণ না করতে পারে, তাহলে ভোক্তাকে সরকার সুলভ মূল্যে বিদ্যুৎ দিতে পারে না। সে জন্যই এটা করা হয়েছিল—৩৫ শতাংশ বেসরকারিতে, ৬৫ শতাংশ সরকারের কাছে থাকবে। কিন্তু এখানে এখন উল্টো হয়ে গেছে। ৮০ শতাংশ উৎপাদন প্রাইভেট এবং সেটা খুব উচ্চ মূল্যে কিনতে হয়েছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সেটা কিনে ভোক্তা পর্যায়ে যে দামে বিদ্যুৎ দেয়, প্রতি মাসেই সরকারকে ভর্তুকি গুনতে হয়।’
বিগত সরকার অর্থ পরিশোধ করেনি উল্লেখ করে টুকু বলেন, ‘এই জিনিসটাকে হালনাগাদ করে দিয়ে যায়নি তারা (আওয়ামী লীগ)। ৫৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া হয়ে গেছে। এখন ৫৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধ করা, সেই সঙ্গে আমি বর্তমানে যে বিদ্যুৎ কিনছি সেই পয়সা শোধ করা, আর আমি যে দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করছি—এগুলোর মধ্যে বিরাট গ্যাপ আছে।’
‘সরকারের ওপর দায় ৫৬ হাজার কোটি টাকা, আর প্রতি মাসে একটা দায় তৈরি হচ্ছে। সেটা আমাকে পরিশোধ করতে হবে। সব মিলিয়ে যে আর্থিক অব্যবস্থা সৃষ্টি করে গেছে গত সরকার, সেই আর্থিক অব্যবস্থাকে একটা পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য আমাদেরকে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।
বিদ্যুৎমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা যদি ঠিকমত পেমেন্ট না করতে পারি, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো জ্বালানি আমদানি করতে পারবে না। আর জ্বালানি আমদানি না করলে বিদ্যুৎকেন্দ্র চলে না। এ রকম একটা পরিস্থিতির মধ্যে আমাদেরকে রেখে যাওয়া হয়েছে। সেই জিনিসটাকে আমাদেরকে পরিচালনা করতে হচ্ছে এখনো।’
তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমরা ভোটে জিতেছি। আমরা সরকার গঠন করেছি, সুতরাং দায়িত্বটা আমাদের। দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি, কিন্তু যে দায়টা আমরা নিয়েছি, সেই দায় পরিশোধ করার জন্য আমাকে তো কোথাও না কোথাও থেকে টাকাটা জোগাড় করতে হবে। বাইরে থেকে ঋণ করে এনে পরিশোধ করলে সেটাও আবার পরিশোধ করতে হবে। সে জন্য আমাদেরকে এখন জিনিসটাকে সমন্বয় করতে হচ্ছে।’
‘আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসছি। আমাদের অন্যান্য প্রকল্প থাকছে। প্রধানমন্ত্রী কিছু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ারের কাজ হাতে নিয়েছেন, যেটাতে প্রচুর টাকা লাগে। যেমন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ড—এটাতে প্রচুর টাকা লাগে। তারপর আবার এগুলো শোধ করতে হবে। সবই তো রেভিনিউ বাজেট থেকে দিতে হয়। খুবই কঠিন একটা পরিস্থিতির মধ্যে আমরা অতিবাহিত করছি,’ যোগ করেন তিনি।
টুকু আরও বলেন, ‘এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার জন্য আমরা একটা পথ দেখলাম যে, আমাদেরকে রিনিউয়েবল এনার্জিতে যেতে হবে। তাহলে জ্বালানি আমদানি কমবে, অর্থ সাশ্রয় হবে। এখান থেকে যেন আমরা আস্তে আস্তে বের হতে পারি।’
‘আপনাদের জানা উচিত, বিগত সরকারের এমন একটি প্রকল্প নাই, যেটা জনগণকে সেবা করার জন্য,’ যোগ করেন তিনি।
