
নিজস্ব প্রতিবেদক : ধরুন, ঢাকায় একটি বড় পর্দায় ভেসে উঠছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ। কোথাও বাংলা ক্লাস চলছে, কোথাও শিক্ষক বোঝাচ্ছেন গণিতের জটিল সমীকরণ, আবার কোথাও বিজ্ঞান ক্লাস চলছে। একই সঙ্গে দেখা যাচ্ছে শিক্ষক সময়মতো শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করলেন কি না, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কেমন বা পাঠদান ঠিকমতো হচ্ছে কি না, ইত্যাদি।
কেমন হবে ব্যাপারটা? বাস্তবে হতে পারে এমন কিছু? হ্যাঁ, অনেকটা এমন চিত্রই দেখা যেতে পারে কিছুদিন পরে। কারণ, সরকার সারা দেশের স্কুলগুলোর ক্লাস নেওয়া দেখতে একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই উদ্যোগের আওতায় দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে আইপি (ইন্টারনেট প্রোটোকল) ভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ঢাকায় বসেই দেশের যে কোনো বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের পাঠদান ও সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
তবে এ ব্যবস্থা একযোগে সব বিদ্যালয়ে চালু করা হবে না। বাস্তবায়ন হবে ধাপে ধাপে। প্রাথমিকভাবে যেসব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা রয়েছে, সেগুলোকে কেন্দ্রীয় মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সক্ষমতা অনুযায়ী অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্ত হবে।
এ উদ্যোগের প্রথম ধাপ হিসেবে দেশের সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান সিসিটিভি ব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে মাউশি। সম্প্রতি জারি করা এক নির্দেশনায় সরকারি ও বেসরকারি সব বিদ্যালয়কে আগামী ১৩ জুলাই বিকেল ৪টার মধ্যে নির্ধারিত গুগল ফরমে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য না দিলে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষক সময়মতো ক্লাস নিচ্ছেন কি না, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পাঠদানের মান এবং শ্রেণিকক্ষের সামগ্রিক পরিবেশ তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। শিক্ষা কার্যক্রমে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, এটি শুধু ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নয় বরং একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল মনিটরিং অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তুতি। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে। প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
কী এই সেন্ট্রাল অনলাইন মনিটরিং?
বর্তমানে দেশের অনেক সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে নিজস্ব উদ্যোগে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা হলেও সেগুলো আলাদাভাবে পরিচালিত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্যামেরার ভিডিও কেবল বিদ্যালয়ের নিজস্ব মনিটর অথবা ডিভিআর (ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার) ও এনভিআর (নেটওয়ার্ক ভিডিও রেকর্ডার) ব্যবস্থার মাধ্যমে দেখা যায়।
নতুন পরিকল্পনায় এসব বিচ্ছিন্ন ব্যবস্থাকে একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করার চিন্তা করছে মাউশি। এজন্য গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে আইপি-ভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরাকে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আইপি ক্যামেরা এমন একটি ডিজিটাল ক্যামেরা, যা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরাসরি ভিডিও পাঠাতে পারে। ফলে ক্যামেরার অবস্থানে না গিয়েও অনুমোদিত ব্যবহারকারীরা দূরবর্তী স্থান থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ভিডিও দেখতে পারবেন। কেন্দ্রীয় মনিটরিং ব্যবস্থা চালু হলে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের আইপি ক্যামেরা একটি নির্দিষ্ট সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। সেখান থেকে শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।
কর্মকর্তাদের মতে, প্রাথমিকভাবে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে এর পরিধি বাড়ানো হবে। তবে এর জন্য বিদ্যালয়গুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, স্থিতিশীল ইন্টারনেট সংযোগ এবং আইপি-ভিত্তিক ক্যামেরাসহ প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।
প্রথম ধাপে যেসব তথ্য চাইছে মাউশি : কেন্দ্রীয় অনলাইন মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর আগে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যমান প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাই করছে মাউশি। এ লক্ষ্যে নির্ধারিত অনলাইন ফরমে বিভিন্ন ধরনের তথ্য চাওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে— সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের বছর, মোট ক্যামেরার সংখ্যা, সচল ক্যামেরার সংখ্যা, ব্যবহৃত ক্যামেরার ধরন, ক্যামেরার ব্র্যান্ড বা কোম্পানির নাম, সিসিটিভি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য এবং যোগাযোগ নম্বর।
এ ছাড়া এনভিআর বা ডিভিআর মেশিনের মডেল নম্বর, বর্তমান সিসিটিভি ব্যবস্থা অনলাইন মনিটরিংয়ের উপযোগী কি না, ইন্টারনেট সংযোগের সক্ষমতা এবং কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পর্কে তথ্য দিতে বলা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির মাধ্যমিক শাখার ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, এটি একটি বড় পরিসরের প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ। তাই প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সক্ষমতা, ইন্টারনেট সুবিধা, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে আমরা এগোচ্ছি। শুরুতে যেসব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা রয়েছে, সেগুলোকে নিয়েই কার্যক্রম শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্ত হবে।
ঢাকায় বসে কীভাবে চলবে মনিটরিং?
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয়ের আইপি-ভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে একটি কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। সেখান থেকে অনুমোদিত কর্মকর্তারা প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট বিদ্যালয় বা শ্রেণিকক্ষ নির্বাচন করে তাৎক্ষণিকভাবে পাঠদান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।
এর মাধ্যমে শিক্ষক সময়মতো শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হয়েছেন কি না, ক্লাস নিয়মিত হচ্ছে কি না, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং শ্রেণিকক্ষের সামগ্রিক পরিবেশ সম্পর্কে দ্রুত ধারণা পাওয়া যাবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত তদারকির অভাবে অনেক সময় কোথাও কোথাও ক্লাস পরিচালনায় অনিয়ম, শিক্ষক অনুপস্থিতি কিংবা পাঠদানের মানে বৈচিত্র্য দেখা যায়। কেন্দ্রীয় ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু হলে এসব বিষয় দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।
এ ছাড়া বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে ভিডিও তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও এই ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশে বর্তমানে ২০ হাজার ৯৬০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৯৪ লাখ শিক্ষার্থী এবং ২ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি শিক্ষক রয়েছেন। এই বিশাল শিক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকরভাবে তদারকির জন্য কেন্দ্রীয় ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে শিক্ষা প্রশাসন।
তবে প্রকল্পের অর্থায়ন, বাস্তবায়নের সময়সূচি, ক্যামেরা স্থাপনের ব্যয় কে বহন করবে কিংবা কেন্দ্রীয় সার্ভারের প্রযুক্তিগত কাঠামো কী হবে—এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
পরীক্ষাকেন্দ্রে সাফল্যের পর এবার শ্রেণিকক্ষে ‘সিসিটিভি’ : চলতি বছর প্রথমবারের মতো এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে বাধ্যতামূলকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং কেন্দ্রীয়ভাবে তা পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেয় শিক্ষা প্রশাসন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এই উদ্যোগের পর নকল ও অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। চলতি বছর নকলের দায়ে বহিষ্কারের সংখ্যা ২০৮ জনে নেমে এসেছে, যেখানে আগের বছর এ সংখ্যা ছিল ৭২১।
পরীক্ষাকেন্দ্রের ক্যামেরার পাসওয়ার্ড শিক্ষা বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে থাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষা তদারকি সহজ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এবার শ্রেণিকক্ষেও প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দোকার এহছানুল কবির বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি কার্যত একটি ‘ডিজিটাল পাহারাদার’ হিসেবে কাজ করেছে। এতে পরীক্ষার্থী ও কক্ষ পরিদর্শক—উভয়ের মধ্যেই দায়িত্বশীলতা বেড়েছে এবং অসদুপায় অবলম্বনের প্রবণতা কমেছে।
কেন্দ্রীয় অনলাইন মনিটরিং ব্যবস্থাকে কেবল নজরদারির উদ্যোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগের লক্ষ্য শিক্ষা ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক করা। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং শ্রেণিকক্ষে কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সময়ের দাবি। আইপি-ভিত্তিক সিসিটিভি ও সেন্ট্রাল অনলাইন মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে। কোথাও কোনো সমস্যা তৈরি হলে তা দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।
তিনি আরও বলেন, এটি কেবল নজরদারির প্রকল্প নয়। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা বাড়ানো, ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করা এবং তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বাড়ানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। ধাপে ধাপে একটি কার্যকর ও টেকসই ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। শুরুতে এটি সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না। আপাতত যেসব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা রয়েছে, সেগুলোকে নিয়েই কার্যক্রম শুরু করতে চাই।
প্রতিটি ক্লাসরুমে সিসিটিভি চান শিক্ষামন্ত্রীও : কেন্দ্রীয় মনিটরিং ব্যবস্থার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনও।
গত ৬ জুলাই জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) ২১০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে। এজন্য প্রতিটি ক্লাসরুমে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের প্রয়োজন রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গড়ে তুলতে হবে, যেখান থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী দেশের যেকোনো বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ পর্যবেক্ষণ করা যাবে। একইসঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পরিবেশ, বিশেষ করে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন করতে হলে শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং শিক্ষা কাঠামোর আধুনিকায়ন জরুরি। এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আসতে আগ্রহী হন।
বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২০ হাজার ৯৬০টি। এর মধ্যে বেসরকারি বিদ্যালয় ১৯ হাজার ৭৫৭টি, যা মোট বিদ্যালয়ের প্রায় ৯৩ দশমিক ৭ শতাংশ। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৯১টি। এছাড়া ৬৩৮টি আপগ্রেডেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত নিম্ন-মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদান চালু রয়েছে।
মাধ্যমিক পর্যায়ে সারা দেশে বর্তমানে অধ্যয়ন করছে ৯৪ লাখ ৫ হাজার ৭৮৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনায় কর্মরত রয়েছেন ২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৬৮ জন শিক্ষক।
