
নয়াবার্তা প্রতিবেদক : মোটরযানে হাইড্রোলিক হর্ন, হুটার (জরুরি অবস্থা বা নিরাপত্তায় উচ্চ-শব্দ সৃষ্টিকারী সতর্কবার্তা যন্ত্র) ও অন্যান্য অননুমোদিত শব্দযন্ত্র ব্যবহার বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে সরকার। এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আইন লঙ্ঘন করে এসব হর্ন ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজ সোমবার (২০ জুলাই) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) এক বিজ্ঞপ্তিতে একথা বলা হয়।
হাইড্রোলিক হর্ন ও অতিরিক্ত শব্দদূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অতিরিক্ত শব্দ মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, এবং শিশুদের মানসিক বিকাশে ব্যাঘাত ঘটায়। রাজধানী ঢাকায় শব্দের গড় মাত্রা ১১৯ থেকে ১২৫ ডেসিবেল পর্যন্ত পৌঁছায়, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত নিরাপদ সীমা (৫৫ ডেসিবেল) থেকে দ্বিগুণেরও বেশি। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির বৈশ্বিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে শব্দদূষিত শহর। এ অবস্থায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর হলো সরকার।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি-৮১ অনুযায়ী অ্যাম্বুলেন্স, অগ্নিনির্বাপক, উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত যানবাহন কিংবা রাষ্ট্রীয় জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত একই ধরনের মোটরযান ছাড়া অন্যকোনো যানবাহনে পরপর বিভিন্ন সুর প্রদানকারী বহুমুখী হর্ন অথবা তীব্র, কর্কশ, আকস্মিক, বিকট কিংবা ভীতিকর শব্দ সৃষ্টি করে এমন হর্ন বা যন্ত্র স্থাপন, পুনঃস্থাপন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কিছু মোটরযানে হাইড্রোলিক হর্ন, হুটার এবং অন্যান্য অননুমোদিত হর্ন সংযোজন করে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে জনদুর্ভোগ ও গণউপদ্রবের সৃষ্টি হচ্ছে, যা বিদ্যমান আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ।
এ পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্স, অগ্নিনির্বাপক, উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত যানবাহন এবং রাষ্ট্রীয় জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত মোটরযান ছাড়া অন্য কোনো মোটরযানে হাইড্রোলিক হর্ন, হুটার, বহুমুখী সুরের হর্ন কিংবা তীব্র ও বিকট শব্দ সৃষ্টি করে এমন যেকোনো অননুমোদিত হর্ন ও যন্ত্র স্থাপন, পুনঃস্থাপন অথবা ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
হাইড্রোলিক হর্ন ও হুটারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার
বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এ নির্দেশনা অমান্য করে অননুমোদিত হর্ন ব্যবহার অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও যানবাহনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে রোববার (১৯ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ মহানগরের, বিশেষ করে নির্ধারিত নীরব এলাকায় স্পষ্টভাবে সাইনবোর্ড স্থাপন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানো নিরুৎসাহিত করতে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। এরপরই বিআরটিএর বিজ্ঞপ্তি এলো।
