
নয়াবার্তা ডেস্ক : ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে আজ ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ছয় জন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশিসহ মোট ৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। মারা যাওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে কুষ্টিয়ার স্থানীয় সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার দুই বছরের শিশুসন্তান এবং শ্বশুর রয়েছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আজকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কলকাতা অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত ও আহতদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন।
বাংলাদেশে নিহতদের স্বজনরা জানিয়েছেন, অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য গত ৩ আগস্ট ভারতে যান কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আরুয়াপাড়ার বাসিন্দা ও স্থানীয় সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৩৭)। চিকিৎসা শেষে বুধবার তাদের বাংলাদেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই মধ্যরাতের এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড কেড়ে নেয় তাঁদের প্রাণ।
ঘটনাস্থলে নিহত দেবাশীষ দত্তের সঙ্গে মারা গেছেন তার দুই বছরের শিশুপুত্র শর্ণশিষ দত্ত এবং কুষ্টিয়ার থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা শ্বশুর মো. আকরাম আলী (৬৪)। এছাড়া দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫)-ও এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
নিহত ৯ জনের মধ্যে আরও রয়েছেন ঢাকার সাভারের বেগুনবাড়ি এলাকার বাসিন্দা শিশু আহমেদ বাবু (২) এবং ভারতের ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার বাসিন্দা সন্দীপ পাসওয়ান (১৯)।
কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া বাকি ৩ জনের নাম-পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। মর্মান্তিক বিষয় হলো, নিহতদের শরীরে বড় ধরনের পোড়ার ক্ষত ছিল না; প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে আটকে পড়ে বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়েই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য অনুযায়ী অগ্নিদগ্ধ হোটেল ভবনে ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আত্মরক্ষার্থে অনেকেই বাথরুমে আশ্রয় নিয়েছিলেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ল্যাডার (উঁচু মই) ব্যবহার করে ভবনের বিভিন্ন ঘর ও বাথরুম থেকে আটকে পড়াদের উদ্ধার করেন।
ঘটনায় আরও অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।
উপ-হাইকমিশন থেকে নিহত বাংলাদেশিদের পরিবারের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডে আহত আরও ছয় জন বাংলাদেশি নাগরিককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে হাসপাতাল ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। এ বিষয়ে সহায়তা ও তথ্য দেওয়ার জন্য উপ-হাইকমিশন ইতোমধ্যে একটি সার্বক্ষণিক হেল্পলাইন চালু করেছে।
পরিস্থিতি সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
