ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’


নয়াবার্তা প্রতিবেদক: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি লঘুচাপটি ঘনীভূত হতে শুরু করেছে। এই লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

আজ শনিবার সকালে এটি পূর্বমধ্য ও দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে অবস্থান করছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগোবে ও ঘনীভূত হবে।

অক্টোবরের শুরুতেই পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছিল, চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে দুটি বা তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। যার মধ্যে একটির ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আজই নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে গভীর সাগরে বিচরণ করা থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

সাগরে একটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির আগে চারটি ধাপ অতিক্রম করে: প্রথমে লঘুচাপ, এরপর সুস্পষ্ট লঘুচাপ, নিম্নচাপ, গভীর নিম্নচাপ এবং তার পরে আরও শক্তি নিয়ে এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়।

আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, আগামী সোমবার এটি গভীর নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। নাজমুল বলেন, ‘এটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে গতিপথ বাংলাদেশের দিকে হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। যদিও আমরা আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেই না।’ ‘ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে এটি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ দিয়ে উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি,’ যোগ করেন তিনি।

এই আবহাওয়াবিদ আরও বলেন, ‘২৭ অক্টোবর বা তার পর থেকে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে শুরু করবে।’ ‘২৯ অক্টোবর থেকে খুলনা, রাজশাহী ও রংপুরে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে,’ বলেন তিনি।

নাম কী হবে
বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নাম ঠিক করে এই অঞ্চলের ১৩টি দেশ। জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) প্যানেল সদস্য দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন।

এই দেশগুলোর নামের আদ্যক্ষর অনুযায়ী তৈরি তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে ঘূর্ণিঝড়গুলোর নামকরণ হয়। তালিকা অনুযায়ী পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়টির নাম হবে ‘অর্ণব’। এই নামটি বাংলাদেশের দেওয়া, যার অর্থ সাগর।

ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের প্রচলন হয় ২০০০ সালে। ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের কারণ সম্পর্কে ডব্লিউএমও বলছে, একই সময়ে কোনো অঞ্চলে একাধিক ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়া অসম্ভব কোনো ব্যাপার নয়। এ কারণে ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেওয়া হলে সম্ভাব্য বিভ্রান্তি এড়ানো সহজ হয়। বঙ্গোপসাগরের পাশাপাশি বর্তমানে আরব সাগরেও একটি লঘুচাপ সক্রিয় আছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, এটিরও ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা আছে। তিনি বলেন, ‘যে লঘুচাপটি আগে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে, সেটির নাম হবে অর্ণব।’ বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলে সেটির সম্ভাব্য অভিমুখ অন্ধ্র উপকূল হবে বলে মনে করেন এই আবহাওয়াবিদ।

তালিকা অনুযায়ী, এর পরেরটির নাম হবে ‘মুরাসু’। এই নামটি প্রস্তাব করেছে ভারত। তামিল ভাষায় ‘মুরাসু’ বলতে একটি ঐতিহ্যবাহী ঢোল—ডঙ্কাকে বোঝায়। ঐতিহাসিকভাবে রাজকীয় ঘোষণা দেওয়া, জনসাধারণের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া কিংবা কোনো সম্প্রদায়কে সতর্ক করার আগে ডঙ্কা বাজানো হতো।

Share