ধর্ষণের শিকার ৭ম শ্রেণির ছাত্রী, চিকিৎসা নিতে দেয়নি ধর্ষকের পরিবার

নিজস্ব জেলা প্রতিবেদক : কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ধর্ষণের শিকার হয়েছে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোরী (১২)। গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী উত্তর অনন্তপুর আলোচিত ফেলানীর মোড়ের মোল্ল্যাাটারী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এখানেই শেষ নয়, ধর্ষণে অভিযুক্তের পরিবার মীমাংসার নামে ৪৮ ঘণ্টা ওই কিশোর পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখে। করতে দেয়নি প্রাথমিক চিকিৎসাও। পরে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়।

নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরী স্থানীয় রামখানা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী।

অভিযুক্ত নাম নাজমুল ইসলাম (২২)। সে উপজেলার উত্তর অনন্তপুর মোল্লাটারী গ্রামের খবিজলের ছেলে।

শনিবার সরেজমিনে, গরিব পরিবারের কিশোরীটির বাবা-মা ভারতের দিল্লী শহরের একটি ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করেন। সেই সুবাদে সে খালায় বাস থাকতো। নাজমুল প্রায়ই তাকে উত্যক্ত। এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীর পরিবার একাধিকবার নাজমুলের পরিবারের কাছে অভিযোগ করেও কোনো কাজ হয়নি। উল্টো তারা শিক্ষার্থীর পরিবারের ওপর ক্ষিপ্ত হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে কিশোরীর খালা বাড়িতে না থাকার সুযোগে নাজমুল বাড়িতে ঢোকে। পরে একা পেয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে ওই কিশোরী অচেতন হয়ে গেলে পালিয়ে যায় নাজমুল। পরে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা করানোর চেষ্টা করে। কিন্তু এতে বাধা দেয় নাজমুল, তার বাবা খবিজল মিয়া, চাচা সাইফুল ইসলাম, জাহিদুল ও শহিদুল। তার চিকিৎসা ও থানায় মামলা না করতে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে।

এদিকে শুক্রবার রাত ১১ টার দিকে ওই শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থা বেগতিক দেখে গ্রামের লোকজন জড়ো হয়ে ৪৮ ঘণ্টা পর স্থানীয় আশরাফ আলী ব্যাপারীর বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে রাত সাড়ে ১১ টায় ফুলবাড়ী হাসপাতালে শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় গভীর রাতে তাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ রাজীব কুমার রায় জানান, শনিবার দুপুরে ওই শিক্ষার্থীর খালা ফুলবাড়ী থানায় বাদি হয়ে ধর্ষক নাজমুলসহ আরও একজনের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ভিকটিমের মেডিকেল চেকআপ করানো হবে।