রোহিঙ্গা তরুণীরা বিয়ে করে সংসার পাততে মালয়েশিয়া যাচ্ছিল !

নিজস্ব জেলা প্রতিবেদক : বিয়ে করে সংসার পাততেই দল বেঁধে মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনের কাছে সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় উদ্ধার হওয়া বেশ কয়েক জন তরুণী।

এদের একজন টেকনাফের শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের খতিজা বেগম বলেন, ‘বাবা নেই, তাই যৌতুক দিয়ে বিয়ে করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিচিতদের মাধ্যমে জেনেছি মালয়েশিয়ায় স্থানীয় এবং প্রবাসীরা বিনা যৌতুকে তরুণীদের সম্মান দিয়ে বউ করে নেন। তাই সংসারী হতেই ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে মালয়েশিয়া পাড়ি দিচ্ছিলাম। কিন্তু ভাগ্য আমাদের সহায় হয়নি।’

মঙ্গলবার ভোরে এই ট্রলারডুবির ঘটনায় নারী-শিশুসহ অন্তত ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড। এ ঘটনায় জীবিত উদ্ধার হয়েছেন ৭২ জন। উদ্ধার এবং নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই নারী। যাদের সিংহভাগই আবার অবিবাহিত।

মধুরছরা ক্যাম্প থেকে ট্রলারে উঠা রোকসানা বেগম, জাদিমুরার হোসনে আরা, লম্বাশিয়ার ইয়াসমিন বললেন, ‘ক্যাম্পে জীবনটা বিষিয়ে উঠেছে। স্বজাতিরাই অসহনীয় আচরণ করেন। এখানে সময়টা অতিবাহিত হলেও বুড়িয়ে যেতে হচ্ছে। তাই ভবিষ্যতের সন্ধানে আমরা ঝুঁকি নিয়েছি।’

তবে এসব তরুণীর সঙ্গে কিছু বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তাও রয়েছেন। এদের মাঝে নুর বানু ও ছলেমা খাতুন বলেন, ‘কোনো একটা কাজে যোগ দিয়ে সন্তান ও নিজেদের সামনের দিনগুলো সুন্দর করার আশায় আমরা ট্রলারে মালয়েশিয়া পৌঁছাতে চেষ্টা করেছিলাম। এভাবে মাঝ সাগরে ট্রলার ডুবে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হবে কল্পনাও করিনি।’

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুর রব জানান, জীবিত উদ্ধার হওয়া বেশ কয়েক জন বলেছেন মালয়েশিয়া যেতে জন প্রতি ১০-২০ হাজার টাকা নিয়ে তাদের রাতের আঁধারে ট্রলারে তুলে দিয়েছে দালালচক্র। অন্তত বিয়ে করে নিরাপদ জীবনের আশায় মালয়েশিয়া যেতে ঝুঁকি নিয়েছিল তারা।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, ঘটনাটি মর্মান্তিক। উদ্ধার ভিকটিমদের তথ্যমতে দালালদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ। এত মৃত্যুর পরও রোহিঙ্গারা প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা না মানলে এ মর্মান্তিকতা রোধ করা অসম্ভব।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজদের উদ্ধারে বিমানবাহিনীর দুটি হেলিকপ্টার, নৌবাহিনীর ডুবুরি ও কোস্টগার্ডের প্রশিক্ষিত সদস্যরা অভিযান অব্যাহত রেখেছে।