কর ফাঁকির মামলায় ৮ বছরের জেল হতে পারে শাকিরার

নয়াবার্তা বিনোদন ডেস্ক : কলম্বিয়ান সংগীত তারকা শাকিরা ১৪.৫ মিলিয়ন ইউরো (১২.৯ মিলিয়ন ডলার) ট্যাক্স জালিয়াতির অভিযোগে স্পেনের একটি আদালতে বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। স্পেনের বার্সেলোনার একটি আদালত এ গায়িকাকে কর ফাঁকির অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করার নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও এখনো নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

দোষী প্রমাণিত হলে স্প্যানিশ প্রসিকিউটররা এ তারকাকে আট বছরের জেল এবং ২৩.৮ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করতে চান।

তবে ৪৫ বছর বয়সি শাকিরা বলেছেন, তিনি কোনো অন্যায় করেননি। বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন তিনি।

সম্প্রতি ‘এলে’ ম্যাগাজিনের স্প্যানিশ সংস্করণের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে শাকিরা বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী যে, আমার মামলা সমর্থন করার জন্য আমার কাছে যথেষ্ট প্রমাণ আছে এবং ন্যায়বিচার আমার পক্ষে যাবে।’

এর আগে শাকিরা প্রসিকিউটরদের দেওয়া একটি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং বিচারের মুখোমুখি হওয়ার পথ বেছে নিয়েছিলেন। এ ছাড়া শাকিরার আইনি দল একটি বিবৃতিতে বলেছে, তারা উপযুক্ত সময়ে যুক্তি উপস্থাপন করে তাদের কাজ করবে।

শাকিরার বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দৃষ্টিপাত রয়েছে ২০১২ ও ২০১৪ সালের সময়কালে শাকিরার আবাসিক অবস্থান। প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেন, তিনি স্পেনে বসবাস করছেন; কিন্তু তার বাসভবন অন্য কোথাও তালিকাভুক্ত করেছেন। জুলাই মাসে প্রসিকিউটররা একটি নথি জারি করেন। সেখানে উল্লেখ ছিল যে, শাকিরা ২০১২ সালে বার্সেলোনায় একটি বাড়ি কিনেছিলেন, যা তার এবং তার সাবেক সঙ্গী বার্সেলোনার ফুটবলার জেরার্ড পিকের পারিবারিক বাড়ি হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত। এদিকে শাকিরার আইনজীবীরা বলেছেন, ২০১৪ সাল পর্যন্ত তার আয়ের বেশিরভাগই আন্তর্জাতিক সফর থেকে এসেছে এবং তিনি স্পেনের বাইরে দীর্ঘ সময় ব্যয় করেছেন।

এ প্রসঙ্গে শাকিরা ‘এলে’ ম্যাগাজিনকে বলেন, ‘স্প্যানিশ ট্যাক্স কর্তৃপক্ষ দেখেছে যে, আমি একজন স্প্যানিশ নাগরিকের সঙ্গে ডেট করেছি এবং এ বিদ্বেষেই তারা আমার অর্থের পেছনে লেগেছে। এ ছাড়া অন্য কোনো কারণ নেই।’

শাকিরা ২০১৫ সালে করের উদ্দেশ্যে স্পেনকে তার বসবাসের স্থান হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তিনি ১৭.২ মিলিয়ন ইউরো ট্যাক্স প্রদান করেছেন এবং তার কোনো বকেয়া ঋণ নেই। তবে ২০১৯ সালে একটি পৃথক মামলায় শাকিরার সাবেক প্রেমিক পিকেকে কর ফাঁকি দেওয়ার অপরাধে স্পেনের জাতীয় আদালত ২.১ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা করেছিলেন। তিনি ২০০৮ থেকে ২০১০ সময়কালে কর ফাঁকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল।

সম্প্রতি এ তারকা জুটি বিচ্ছেদ করেছেন। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে।