
নয়াবার্তা প্রতিবেদক : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ দেশে আর কোনোদিন রাজনীতি করতে পারবে না। দলটির রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে এবং শিগগিরই আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান কেন্দ্রিক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের মধ্যে বড় একটি অংশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সদস্য ছিলেন। যার সংখ্যা সাড়ে চার শতাধিক।
আন্দোলনের নেপথ্যের সমন্বয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নিজ দলের নেতাকর্মীদের এই আত্মত্যাগের তথ্য সামনে এনে বলেছেন, প্রবাসে থেকেও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ২৪ ঘণ্টা নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার কাজ করেছেন। অরাজনৈতিক ব্যানারে আন্দোলনকে একটি পর্যায় পর্যন্ত এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক শক্তির সমর্থন ও তদারকি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। শিক্ষকদের আন্দোলনের প্রতি নৈতিক সমর্থন দেওয়ার পর ১৬ জুলাই থেকে আন্দোলন এক দফার দাবিতে রূপ নেয়।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে চলমান জুলাই জাতীয় সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সে সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্ঘুম রাত কাটিয়ে দলকে সংগঠিত করা হয়েছিল। অরাজনৈতিক পরিচয়ে পরিচালিত সেই আন্দোলন সফলভাবে পরিসমাপ্তি লাভ করে। তিনি বলেন, এটা পর্দার অন্তরালের কথা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে। তাদের দাফন হয়েছে দিল্লিতে। তারা আর বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না। শিগগিরই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার শুরু হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সংবিধান ও বিদ্যমান আইনের আওতায় তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর সুযোগ রয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং আইসিটি অ্যাক্টের মাধ্যমে এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পতন চূড়ান্ত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারিক অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি জানান, এ সংক্রান্ত অসংখ্য মামলা বর্তমানে তদন্ত ও বিচারিক পর্যায়ে রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে সাজার আদেশ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আবু সাঈদ হত্যা মামলাসহ মোট ৫টি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় হওয়ার তথ্যও তিনি সংশ্লিষ্ট সভায় প্রকাশ করেন।
অভ্যুত্থানের চেতনাকে রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক স্বার্থে ব্যবহার না করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে দেন। তিনি মন্তব্য করেন, অতীতে যারা রাজনৈতিক আদর্শ বিক্রি করেছে, তাদের পরিণতি ভালো হয়নি। ভবিষ্যতের সরকারগুলো যাতে স্বৈরাচারী আচরণ না করে, সেজন্য ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও স্মৃতিকে যথাযথভাবে ধারণ করার আহ্বান জানান তিনি।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে জাতির প্রত্যাশা অনেক। অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। সরকার পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীরা বিদেশে বসে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার’ ও ‘আমরা জুলাইযোদ্ধা’ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আহত জুলাইযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এছাড়া বক্তব্য দেন গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
