জুলাই সনদ নিয়ে একটি মহল বিএনপিকে জড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: ফখরুল

সাংবাদিকরাই গ্রুপিং করে একজন আরেকজনকে সরিয়ে দিচ্ছেন

নয়াবার্তা প্রতিবেদক : জুলাই সনদ নিয়ে একটি মহল বিএনপিকে জড়িয়ে বিভ্রান্তি ছাড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘একটা মহল থেকে বলা হচ্ছে যে, বিএনপি জুলাই সনদ পালন করছে না। এটা পুরোপুরিভাবে একটা ভ্রান্ত ধারণা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।’

প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিরোধী নেতারা শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছেন।

আজ সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এই সভার আয়োজন করে।

ফখরুল বলেন, বিএনপিই হচ্ছে সেই দল, যারা সংস্কারের মধ্য দিয়ে এগিয়ে গেছে। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র নিয়ে এসেছেন জিয়াউর রহমান। সংসদীয় গণতন্ত্র নিয়ে এসেছেন খালেদা জিয়া। তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানের সন্নিবেশিত করেছে বিএনপি। রাজনৈতিক দিক থেকে এসব সংস্কার হয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে যাওয়া, প্রাইভেট সেক্টরকে সামনে নিয়ে আসা এই কাজগুলোও বিএনপি করেছে।

বিএনপির টাস্কটা হচ্ছে এমন যে, ধ্বংস হয়ে যাবে, ওখান থেকে বিএনপিকে আবার গড়ে তুলতে হবে। সেটাই করেছে বিএনপি। যতবার ধ্বংস হয়েছে, রাষ্ট্র ধ্বংস হয়েছে, রাজনীতি ধ্বংস হয়েছে, অর্থনীতি ধ্বংস হয়েছে, বিএনপি সেখান থেকে আবার শুরু করেছে। আজকেও কিন্তু একইভাবে…প্রেক্ষাপটটা আপনারা চিন্তা করেন, ১৭-১৮ বছরের একটা ফ্যাসিস্ট শাসন, তার পরে প্রায় দুই বছরের মতো একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসন, সেখান থেকে বিএনপি জনগণের ম্যানডেট নিয়ে একটা সরকার গঠন করেছে। এমন না যে জোর করে ক্ষমতা দখল করেছে। পুরোপুরি একটা নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে এসেছে, যোগ করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘যে জুলাই সনদের কথা বলা হচ্ছে, আমরা সবাই জানি, একটু দয়া করে সবাই খুলে দেখবেন, প্রতিটি পাতায় বলা হচ্ছে যে বিষয়গুলোতে একমত হবে না যে দলগুলো, যদি সেই দল কেউ সরাসরি নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করে, তাহলে তাদের ইশতেহারে যেটা ছিল সে অনুযায়ী তারা কাজ করবে। তো সেই জায়গাগুলো ভুল বোঝানো হচ্ছে কেন, যে বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় না? সমস্যা হচ্ছে গণভোট, যেটার কথা বারবার বলা হচ্ছে। সেই গণভোটে যে চারটা প্রশ্ন ছিল, সে চারটা প্রশ্নের মধ্যে তিনটা প্রশ্নে তো আমরা একমতই ছিলাম। একটা প্রশ্ন—সংবিধান সংস্কার কমিশন, তারা কারও সঙ্গে পরামর্শ না করেই আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে।’

‘আমি তখনই বিবৃতি দিয়েছিলাম যে, এটা একটা জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এই জিনিসটা কিন্তু আমরা অনেকেই ভুলে যাচ্ছি। আমরা কখনোই সেটা মেনে নেইনি। আমরা বারবার বলেছি যে, আমরা এইখানে একমত নই। ওইভাবেই তো ইলেকশনটা হয়েছে। সেভাবেই তো ম্যানিফেস্টো দিয়েছি আমরা। সেভাবেই তো জনগণ আমাদেরকে ভোট দিয়েছে এবং আমরা সরকারে এসেছি। সরকারে এসে আমরা চেষ্টা করছি, জুলাইয়ের ঘোষণার প্রতিটি অংশ, আমরা যেটাতে একমত হয়েছি, আমরা সেটা পালন করতে চাই এবং আমরা কাজ শুরু করেছি,’ বলেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতাদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আসুন আলোচনা করি, সংসদে আলোচনা করি। আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেই, কথা বলি কোন জায়গায় আলোচনা আছে। তখন যদি একমত না হন, বেরিয়ে যাবেন। এখন যে ভাষায় আমাদের সম্মানিত বিরোধীনেতারা কথা বলছেন বাইরে, পাঁচ বছর (রাষ্ট্র পরিচালনা) করতে দেবো না, এ ধরনের কথা বলতেন হাসিনা।’

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা যেভাবে ‘এক দিনের জন্যও শান্তিতে থাকতে দেবো না’ বা ‘পাঁচ বছর সরকার চালাতে দেবো না’ বলতেন, আজ বিরোধী দলের নেতারাও সেই একই ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছেন।

বিরোধীদলের কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করা, জনমত তৈরি করার চেষ্টাতেও আপত্তি নেই। এটাও গণতান্ত্রিক রীতি। কিন্তু সেটা এমন এক পর্যায়ে যেন না যায়, যে পর্যায়ে গিয়ে একটা সংঘাতের রূপ নেয়। এটা অত্যন্ত জরুরি বিষয়।

গণমাধ্যমে বিভিন্ন পদে নিয়োগে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাকে দুঃখজনকভাবে বলতে হবে যে, এর মধ্যে সাংবাদিকরাই জড়িত। বিএনপির কোনো গ্রুপ নাই। সাংবাদিকদের মধ্যে গ্রুপ তৈরি করে আপনারাই একজন আরেকজনকে সরিয়ে দিচ্ছেন। এই বিষয়গুলো তো সত্য কথা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকে মিডিয়া কার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত? মিডিয়া তো বিজনেস হাউস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বেশিরভাগ মিডিয়াগুলো তাদের বিজনেস হাউস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সেখানে তো আমাদের ভেতরে ঢোকার খুব একটা সুযোগ নাই।’

Share