ঝুটের হাজার কোটির ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক লড়াই

বিশেষ প্রতিবেদক : গাজীপুরের গাছা থানার ডেগের চালা এলাকায় একটি সুয়েটার কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে গত ১৩ আগস্ট দিনভর মুখোমুখি অবস্থানে ছিল বিএনপির স্থানীয় দুই পক্ষ। রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সশস্ত্র মহড়া, সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল, দোকানের শাটার নামিয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। হামলা-ভাঙচুরের শিকার হয় কয়েকটি বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ঘটনার ছবি তুলতে গিয়ে হামলার শিকার হন স্থানীয় এক সাংবাদিকও।

গাজীপুরের এ ঘটনা ঝুট ব্যবসাকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাতের একটি উদাহরণ মাত্র। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ঝুটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে সংঘাত, দখল ও চাঁদাবাজি ঘটছে। স্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক পরিচয় বদলালেও ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ কাঠামোয় খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। বরং এক পক্ষের জায়গায় অন্য পক্ষের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা থেকেই বিভিন্ন এলাকায় নতুন বিরোধ তৈরি হচ্ছে।

পোশাক ও বস্ত্র কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া ঝুট এখন আর নিছক বর্জ্য নয়। এটি বড় একটি অর্থনৈতিক পণ্য। কারখানা থেকে বের হওয়া কাটা কাপড়, অব্যবহৃত কাপড়, সুতা, তুলা, ত্রুটিযুক্ত পোশাক ও বিভিন্ন ধরনের ওয়েস্টেজ পুনর্ব্যবহার করে নতুন পোশাক, সুতা, কম্বল, মোজা, মাফলার, দড়ি, গৃহস্থালি পণ্য এমনকি শিল্পকারখানার পরিষ্কারকও তৈরি হচ্ছে। ফলে পোশাক শিল্পের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ঝুটকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিশাল এক অনানুষ্ঠানিক ব্যবসা। মূলত এই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ কে করবে তা নিয়েই শিল্পাঞ্চলগুলোয় এক ধরনের আতংকের পরিবেশ বিরাজ করে সব সময়।

বিভিন্ন গবেষণা ও শিল্পসংশ্লিষ্টদের হিসাবে দেশে বছরে প্রায় চার লাখ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ছয় লাখ টন পর্যন্ত ঝুট উৎপন্ন হয়। এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় দুই লাখ মানুষের জীবিকা জড়িত বলে শিল্পসংশ্লিষ্টদের ধারণা। গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, সাভার, বগুড়া, পাবনা, গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে এ ব্যবসার সরবরাহ ব্যবস্থা।

তবে এই বিপুল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশই এখনও আনুষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে। কারখানা থেকে ঝুট বের হওয়ার পর সেটি কার কাছে যাবে, কী দামে বিক্রি হবে এবং কে পরিবহন করবে—অনেক ক্ষেত্রেই এসব সিদ্ধান্ত বাজারের স্বাভাবিক প্রতিযোগিতায় নির্ধারিত হয় না। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, সংগ্রহকারী, মধ্যস্বত্বভোগী, গুদাম মালিক ও ব্যবসায়ীদের একটি বহুস্তরীয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ঝুটের সরবরাহ ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। এ কারণেই ঝুটের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করা স্থানীয় ক্ষমতার রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

ক্ষমতা বদলায়, বদলায় ঝুটের নিয়ন্ত্রণ
ঝুট ব্যবসার সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবের সম্পর্ক নতুন নয়। রাজধানীর মিরপুর, পল্লবী, কালশী, মাটিকাটা থেকে শুরু করে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভার ও আশুলিয়া— শিল্পাঞ্চলগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো এ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন শিল্প এলাকায় এ নিয়ন্ত্রণের হাতবদলের অভিযোগ সামনে আসে। শিল্প উদ্যোক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মী ও তাদের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা যেসব কারখানার ঝুট নিয়ন্ত্রণ করতেন, ক্ষমতার পরিবর্তনের পর সেসব জায়গায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে নতুন গোষ্ঠীগুলো নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা বিসিকের এক ব্যবসায়ীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখানে একটি মাঝারি পোশাক কারখানায় মাসে ২০ থেকে ২২ লাখ টাকার ঝুট তৈরি হয়। বাজারে যার মূল্য কেজিপ্রতি প্রায় ৪০ টাকা হলেও রাজনৈতিক প্রভাবশালী গোষ্ঠীকে অনেক ক্ষেত্রে বিনামূল্যে কিংবা নামমাত্র মূল্যে তা দিতে হয়। কোথাও কেজিপ্রতি দুই থেকে চার টাকা দেওয়াকে কেবল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখানো হয়। শিল্প উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শুধু পুরোনো নিয়ন্ত্রকদের সরিয়ে নতুন গোষ্ঠীর প্রবেশ ঘটেছে।

চলতি বছরের জুলাইয়ে ময়মনসিংহের ভালুকায় দুটি বড় প্রতিষ্ঠান থানায় অভিযোগ করে। একটি কারখানার বাইরে থেকে ঝুট বহনকারী ট্রাক ছিনিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়। অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের অভিযোগে নতুন ভেন্ডরকে ঝুট অপসারণের দায়িত্ব দেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাকে প্রাণনাশের হুমকি এবং কারখানার সামনে বিস্ফোরণ ঘটানোর অভিযোগ করা হয়। শিল্প উদ্যোক্তাদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, নতুন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা তাদের কারখানায় গিয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে ঝুট দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন। কেউ কেউ সরাসরি বলেছেন, নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর বাইরে ঝুট বিক্রি করলে কারখানা থেকে কোনো ট্রাক বের হতে দেওয়া হবে না।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ঝুট বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় খাত, বর্তমানে যার বাজার প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের। তবে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণের কারণে এ খাতের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ঝুট ব্যবসাকে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় এনে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় নিয়ে আসা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিল্প-কারখানা ঘিরে চাঁদাবাজি ও প্রভাবশালীদের অনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।

নিজের কারখানার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তার কাগজ ও বোর্ড কারখানাতেও চাঁদাবাজির চাপ রয়েছে। পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং বাজারদরের তুলনায় কম দামে পণ্য বিক্রি করতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের পৃষ্ঠপোষকতায় লোক নিয়োগ ও বিভিন্ন ধরনের চাপ তৈরির ঘটনাও ঘটছে। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে সামনে শিল্প-কারখানাগুলোতে এ ধরনের সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

একসময় ফেলনা, এখন বড় অর্থনীতি
আশির দশকে তৈরি পোশাক শিল্পের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে কারখানাগুলোতে জমতে থাকা কাটা কাপড় ও অন্যান্য ওয়েস্টেজকে ঘিরে ধীরে ধীরে ঝুটের ব্যবসা তৈরি হয়। মিরপুরে আশির দশকের শুরুতে ঝুটের বাজার গড়ে উঠলেও নব্বইয়ের দশকে তা বড় আকার নেয়। জানা যায়, তখন কারখানাগুলো ঝুটকে মূলত জায়গা দখলকারী বর্জ্য হিসেবেই দেখত। নামমাত্র দামে এমনকি অনেক সময় বিনামূল্যেও এগুলো নিয়ে যাওয়া যেত। পরে ব্যবসায়ীরা বুঝতে পারেন, কাটা কাপড়ের রয়েছে পুনর্ব্যবহারের বড় বাজার।

মিরপুরের ঝুটপট্টি এ ব্যবসার অন্যতম পুরোনো কেন্দ্র হয়ে ওঠে। একসময় সেখানে টিনের ছোট ছোট ঘরে ঝুট বিক্রি হলেও এখন গড়ে ওঠে বড় বাজার। এখানে ঝুটের পাশাপাশি বোতাম, জিপার, ফিতা, দড়ি, লেবেল, কার্টনসহ গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজেরও বিশাল বাজার গড়ে ওঠে।

মিরপুরের ঝুটের ব্যবসায়ী রশিদ মাতব্বর বলেন, মিরপুর ঝুটপট্টি থেকে প্রতিদিন গড়ে ২০টি ট্রাকে প্রায় ১৬০ থেকে ১৭০ টন ঝুট দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ও ভারতমুখী হয়। প্রতি কেজি গড়ে ২৫ টাকা হিসাব করলে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪০ লাখ টাকা।

ঝুটের বড় অংশ যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পুনর্ব্যবহারকারী কারখানায়। উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুর, লালমনিরহাট, নওগাঁ, কুড়িগ্রাম, পাবনার ঈশ্বরদীসহ বিভিন্ন এলাকায় ঝুট থেকে সুতা, কম্বল, শীতবস্ত্র ও অন্যান্য পণ্য তৈরি হচ্ছে। পাবনায় ঝুটভিত্তিক টি-শার্ট শিল্পও গড়ে উঠেছে। এসব পণ্যের কিছু ভারত, নেপাল, ভুটান ও সীমিত পরিসরে মালয়েশিয়ায় যায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ঝুটের ব্যবহারও বহুমুখী। তুলা বা সুতা তৈরির জন্য এক ধরনের ঝুট ব্যবহৃত হয়। বড় আকারের অক্ষত কাপড়ের টুকরো পুনরায় পোশাক তৈরিতে ব্যবহার করা যায়। আবার গেঞ্জির কাপড়ের ছোট টুকরো শিল্পকারখানার পরিষ্কারক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সিনথেটিক ঝুট থেকেও পুনর্ব্যবহারযোগ্য তন্তু তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

বাজারের সম্ভাবনা বিলিয়ন ডলারে
জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেড ও বৈশ্বিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড এইচঅ্যান্ডএমের সহায়তায় পরিচালিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তা, সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণ অবকাঠামো তৈরি করা গেলে বাংলাদেশ বছরে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের পুনর্ব্যবহৃত টেক্সটাইল পণ্য রপ্তানির সুযোগ তৈরি করতে পারে। আরেকটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে, দেশে প্রতিবছর প্রায় চার লাখ টন পুনর্ব্যবহারযোগ্য ঝুট তৈরি হয়। এর মাত্র একটি ছোট অংশ দেশে পুনর্ব্যবহার করা হচ্ছে। একটি বড় অংশ পুড়িয়ে ফেলা হয় কিংবা কাঁচামাল হিসেবে অন্য দেশে চলে যায়।

শিল্প উদ্যোক্তাদের মতে, বর্তমানে কারখানা পর্যায়ে ঝুটের প্রকৃত সম্ভাব্য বাজারমূল্যের তুলনায় মালিকরা খুব সামান্য অর্থ পান। ঝুটকে স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণ থেকে বের করে এনে প্রাতিষ্ঠানিক রিসাইক্লিং ব্যবস্থার আওতায় আনা গেলে এ খাত থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি করা সম্ভব।

নিট পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ঝুট ব্যবসার দখল সাধারণত যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকে তাদের হাতেই থাকে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় এটিকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনা প্রয়োজন। বিশ্বজুড়ে সার্কুলার ফ্যাশনের বাধ্যবাধকতা বাড়ছে। ফলে রাজনৈতিক প্রভাবের পরিবর্তে পেশাদার ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ঝুটের ব্যবসা পরিচালনা করা দরকার।

কারখানা মালিকের স্বাধীনতা কোথায়?
ঝুট ব্যবসার বর্তমান কাঠামোয় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কারখানা মালিকরাই— এমন অভিযোগ তাদের। নারায়ণগঞ্জের এক গামেন্টস মালিক বলেন, অনেক কারখানা মালিক নিজের কারখানার ঝুট কার কাছে বিক্রি করবেন, সেটা নিজে ঠিক করতে পারেন না। এর পুরো নিয়ন্ত্রণ রাজনৈতিক নেতাদের কাছে। তারা ঠিক করে দেন কার কাছে ঝুট বিক্রি করতে হবে। অনেকসময় দাম ও তারা নির্ধারণ করে দেন।

সার্কেল ইকোনমি ও লেবার অ্যাট ইনফরমাল ইকোনমির গবেষণায়ও ঝুট সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রথম ধাপেই স্থানীয় ‘পাওয়ার ব্রোকার’ বা ক্ষমতাবান মধ্যস্থতাকারীদের প্রভাবের কথা উঠে এসেছে। কারখানা থেকে কে ঝুট সংগ্রহ করতে পারবে, প্রাথমিক দাম কত হবে এবং বাজারে কারা প্রবেশ করবে— এসব বিষয়ে তারা প্রভাব বিস্তার করেন। এরপর মধ্যস্বত্বভোগী, গুদাম মালিক ও ব্যবসায়ীদের কয়েকটি স্তর পেরিয়ে ঝুট চূড়ান্ত ব্যবহারকারীর কাছে যায়। এই কাঠামোর কারণে কারখানা পর্যায়ে পাওয়া দামের তুলনায় শেষ বাজারে ঝুটের মূল্য কয়েক গুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। অথচ মূল কাঁচামাল উৎপাদনকারী কারখানা তার প্রকৃত বাজারমূল্যের সুবিধা পায় না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্যকে কেন্দ্র করে সংঘাত-সহিংসতা দেশে দীর্ঘদিনের ঘটনা। অনেক ক্ষেত্রে সংঘাতের ঘটনায় মামলা হলেও সেগুলো বছরের পর বছর পড়ে থাকে। আবার প্রচুর অর্থের লেনদেনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবিত করা হয়।

তবে এ পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার সুযোগ রয়েছে জানিয়ে ড. তৌহিদুল হক বলেন, ঝুট ব্যবসাকে নীতিমালা ও শৃঙ্খলার মধ্যে আনা সম্ভব। এ জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি কাঠামো তৈরি করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে তা কার্যকর করতে হবে।

Share