দিনের ভোটে নির্বাচিত সরকারের ওপর স্বাস্থ্যখাতের ১৭ বছর অব্যবস্থাপনা এসে পৌঁছেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিবেদক : দিনের বেলার গণতান্ত্রিকভাবে ভোটে নির্বাচিত সরকারের ওপর স্বাস্থ্যখাতের গত ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনা এসে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য সাবিকুন নাহারের এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জনমঙ্গলজনক কোনো কাজে নিজেদের নিয়োজিত না করার ফলে স্বাস্থ্যখাত এমনভাবে উপেক্ষিত হয়েছে।

যদি স্বাস্থ্যখাতের কথা বলতে চাই, আমাকে এক ঘণ্টা সময় দিলেও শেষ হবে না। কোথাও কোনো নিয়োগ হয়নি।
অপরিকল্পিতভাবে যন্ত্রপাতি আমদানি করা হয়েছে, যা প্যাকেটবন্দি অবস্থায় এখন ভাঙারির দোকানে যাচ্ছে। ১৮ কোটি টাকা করে দুটি রেডিওথেরাপি মেশিন খুলনা ও ফরিদপুরে পড়ে আছে, যেগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য ১১ কোটি টাকা।
বাঙ্কার তৈরি না করেই এগুলো আমদানি করা হয়েছে। অনেক জায়গায় এক্স-রে মেশিন আনা হয়েছে, কিন্তু টেকনিশিয়ান নেই। ল্যাবরেটরির মেশিন আনা হয়েছে, কিন্তু ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান নেই।

তিনি বলেন, এই অব্যবস্থাপনা আমাদের এই গণতান্ত্রিকভাবে দিনের বেলার ভোটে নির্বাচিত সরকারের ওপর এসে পৌঁছেছে। কাজেই তাদের কথাগুলো আমাদের শুনতে হচ্ছে। তবে এটুকু আশ্বস্ত করতে পারি, উনি যে ৬৮টি শূন্য পদের কথা বলেছেন, ‘ইট ইজ হান্ড্রেড পার্সেন্ট ট্রু’। গত ১৭ বছরে কোনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি। যেখানে যেখানে কিছু বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে, সেখানে নিজেদের লোক নেওয়ার জন্য এমন সব শর্ত (ক্লজ) রাখা হয়েছে যে, প্রায় প্রতিটির বিপরীতেই রিট মামলা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এগুলো এখন আমরা ধীরে ধীরে সমাধান করছি। যেমন, ৪ হাজার ১০০ নার্স নিয়োগের বিরুদ্ধে একটি রিট মামলার কারণে আমরা নার্স নিয়োগ দিতে পারিনি। মাত্র সাত দিন আগে অ্যাটর্নি জেনারেলের সহযোগিতায় সেই রিট মামলাটি খারিজ করাতে পেরেছি। ফলে আমাদের এই ৪ হাজার ১০০ নার্স এখন কাজে যোগ দিতে পারছেন। এটা না হলে আরও ২ হাজার ৭০০ নার্স চাকরিচ্যুত হয়ে যেতেন। আমরা স্পেশাল বিসিএসের মাধ্যমে অনতিবিলম্বে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিতে যাচ্ছি। বিগত সরকার অনেককে ডেপুটেশনে বিভিন্ন জায়গায় পাঠিয়েছে। অনেকে বিদেশেও চলে গেছেন। মাত্র চার মাস হয়েছে আমরা ক্ষমতায় এসেছি। আমরা খুঁজে খুঁজে বের করে কিছুজনের চাকরি বাতিল করছি, কিছুজনকে কলব্যাক করে আগের কর্মস্থলে ফিরিয়ে এনে নতুনভাবে চিকিৎসক পদায়ন করছি। এরই মধ্যে ইন-সিটু (in-situ) বলে একটি বিষয় আছে—পদোন্নতি হয়েছে, কিন্তু আগের পদেই কাজ করছেন। এমন কয়েকশ চিকিৎসককে আমরা প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জন করে বিভিন্ন হাসপাতালে পদায়ন করছি।

স্বাস্থ্যখাতের অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমি ও আমার প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করে সব সংসদ সদস্যকে একটি চিঠি দিয়েছি। প্রত্যেক উপজেলা হাসপাতালের সভাপতি সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য। তাদের নিজ নিজ হাসপাতাল পরিদর্শন করে আমাদের জানানোর জন্য অনুরোধ করেছি। আমাদের সীমিত সম্পদের মধ্যে যতটুকু সম্ভব, আমরা প্রতিটি হাসপাতালের উন্নয়নের চেষ্টা করছি। আশা করি, আগামী কিছুদিনের মধ্যে প্রতিটি হাসপাতালকে নতুন রূপে গড়ে তুলতে পারব।

Share