নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে অটল সরকার

আইএমএফের চাপ উপেক্ষা

আনোয়ারা পারভীন : আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যয়সংকোচনের পরামর্শের মধ্যেও সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে নিজেদের অবস্থানে সরকার অনড় রয়েছে। নীতিনির্ধারকরা বলছেন, দেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণ এখন সময়ের দাবি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে আইএমএফ দীর্ঘদিন ধরে সরকারি পরিচালন ব্যয় ও বেতন-ভাতা খাতে ব্যয় সীমিত রাখার পরামর্শ দিয়ে আসছে। তবে সরকারের মতে, বর্তমান বাস্তবতায় সেই পরামর্শ পুরোপুরি অনুসরণ করা সম্ভব নয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ জুলাই থেকে নবম পে স্কেল কার্যকরের প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, আইএমএফের সংস্কার প্রস্তাবকে সরকার গুরুত্ব দিলেও দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন অপরিহার্য।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত পে স্কেলে প্রথম থেকে দশম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।

অর্থ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই নতুন মূল বেতন কার্যকর করা হবে। অন্যদিকে বিভিন্ন ভাতা আগামী অর্থবছরে দুই ধাপে পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন পে স্কেল চালু হলে বর্তমানে দেওয়া ২ থেকে ৩ হাজার টাকার অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ ভাতা বাতিল হবে।

এ বিষয়ে সাবেক অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি সময়োপযোগী ও যৌক্তিক।

তার মতে, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনমান বজায় রাখতে এ উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, পে স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে মূল্যস্ফীতির সরাসরি উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক তৈরি হয়নি। তাই নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে অযথা উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।

সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় পরিকল্পিতভাবে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

Share