
বিশেষ প্রতিনিধি : প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দিলেও অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নামাকে ভুল মনে করছেন না ইশরাক হোসেন। যে ঘটনার জেরে তাঁকে মন্ত্রিসভা ছাড়তে বলা হয়, সেই ঘটনার পক্ষেই গতকাল সোমবার সংবাদ সম্মেলনে যুক্তি দিয়েছেন তিনি। এর আগে পদত্যাগের নির্দেশের খবরকে ‘গুজব’ বলেছিলেন।
মাত্র তিন দিনের ঘটনাপ্রবাহে মন্ত্রিসভা ছাড়ার ঘোষণা দিতে হলো ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে। শনিবার বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন তিনি। সেই অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অসন্তোষ তৈরি হয়। পরদিন রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বলে সরকারসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে।
তবে পদত্যাগের নির্দেশের খবর প্রকাশের পর তা অস্বীকার করেন ইশরাক। তাঁর পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত গতকাল সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি। এরপর গতকাল সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, তারা ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র পেয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রীকে তিনি নিজেই পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাতে সম্মতি দিয়েছেন। তাঁর কারণে দল ও সরকার যাতে বিব্রত না হয়, সে জন্যই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অবশ্য পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও শনিবারের কর্মকাণ্ডের পক্ষে নিজের অবস্থান বদলাননি ইশরাক। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমি কোনো ভুল সেদিন করিনি।’ তবে তাঁর কর্মকাণ্ডে কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
অস্ত্র হাতে অভিযানে যা ঘটেছিল
গত শনিবার বিকেলে গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জের গুমটিঘর রেলগেট এলাকায় যান ইশরাক হোসেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ব্যক্তিগত ও সরকারি নিরাপত্তারক্ষী এবং স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।
ইশরাকের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমেই পিস্তল উঁচিয়ে কয়েকজনকে ধরার নির্দেশ দিচ্ছেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরাও কয়েকজনকে ধরতে দৌড় দেন। একজনকে গুলি করার হুমকি দিতে শোনা যায়। এক তরুণকে লাথি মারতেও দেখা যায়।
অভিযানের এক পর্যায়ে ছয়জনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ইশরাকের দাবি, ওই এলাকায় চার-পাঁচটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সেখান থেকে মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, নগদ অর্থ ও চুরি-ছিনতাই হওয়া মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে আটক ব্যক্তিদের সবাই মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গেন্ডারিয়া থানার পুলিশ জানিয়েছিল, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে সাদা পাউডার–জাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। পরীক্ষার পর সেটি হেরোইন কি না, নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ওই অভিযানে একজন প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র প্রদর্শন, তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের কাউকে গুলি করার হুমকি এবং একজনকে লাথি মারার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একই সঙ্গে একজন প্রতিমন্ত্রী নিজে এভাবে অভিযান পরিচালনা করতে পারেন কি না, তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়।
ইশরাক অবশ্য দাবি করেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুরোধে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সেখানে গিয়েছিলেন। তাঁর হাতে থাকা অস্ত্রটি বৈধ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত। মাদক কারবারিদের হামলার আশঙ্কায় আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন।
সরকারের অসন্তোষ, পদত্যাগের নির্দেশ
ইশরাকের এই কর্মকাণ্ডে সরকার ও বিএনপির ভেতরে অস্বস্তি তৈরি হয়। সরকার ও দলসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশ্ন ছিল, মাদক কারবারিদের দমনের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। একজন প্রতিমন্ত্রী প্রশাসনকে সক্রিয় করার পরিবর্তে নিজেই অস্ত্র হাতে কেন অভিযানে নামলেন?
বিশেষ করে শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি আবাসিক এলাকাসহ ১৩টি স্থান আকস্মিক পরিদর্শন করেন। এসব প্রতিষ্ঠানের সেবার মান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনা দেন তিনি; কিন্তু একই দিন ইশরাকের অস্ত্র হাতে অভিযানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সেটিই বেশি আলোচনায় আসে।
এমন পরিস্থিতিতে রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাককে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে সরকারসংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র প্রথম আলোকে জানায়।
ওই দিন রাত ১০টার দিকে ‘মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর’ শিরোনামে প্রথম আলো অনলাইন ব্রেকিং নিউজ প্রকাশ করে। এর ২২ মিনিট পর সাংবাদিকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ইশরাক লেখেন, ‘পদত্যাগের গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।’ এর চার মিনিট পর আরেকটি অডিও বার্তায়ও একই দাবি করেন তিনি। খবরটিকে ‘গুজব’ ও ‘উড়োখবর’ আখ্যা দিয়ে এর সত্যতা নেই বলে জানান।
এরপর রাত ১০টা ২৮ মিনিটে ইশরাকের প্রেস কর্মকর্তা প্রতিবাদলিপি পাঠান। সেখানে প্রথম আলোর সংবাদকে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর দাবি করে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। প্রতিবাদলিপিটি ইশরাকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও প্রকাশ করা হয়।
ওই রাতে আরও কয়েক দফা বার্তা দেন ইশরাক ও তাঁর প্রেস কর্মকর্তা। একপর্যায়ে ইশরাক জানান, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশ এলে মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে তা কার্যকর করা বাধ্যতামূলক। এ ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে।
এরপর গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে আটটার পর নিজের ফেসবুক পেজে নতুন ঘোষণা দেন ইশরাক। সেখানে তিনি জানান, দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন।
খবরকে ‘গুজব’ বলা নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা
পদত্যাগের নির্দেশের খবর প্রথমে ‘গুজব’ বলার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ইশরাক। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বিষয়টি নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর কথা ছিল; কিন্তু তাঁর এক সহকর্মী আগেই তথ্য প্রকাশ করে দেওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
ইশরাক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে গুজব বা অসত্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। গতকাল সকালে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত তাঁর কাছে এসেছে। তিনি বলেন, ‘গতকাল হইছে, না আজকে হইছে, তাতে কি আসে যায়? হইছে।’
কেন নিজে অভিযানে, সেই ব্যাখ্যাও দিলেন
সংবাদ সম্মেলনের শুরু থেকে শনিবারের ঘটনার দীর্ঘ বর্ণনা দেন ইশরাক। এরপর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। এ সময় মাদক দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকার পরও তিনি কেন নিজে অভিযানে গিয়েছিলেন, সেই প্রশ্ন ওঠে।
জবাবে ইশরাক বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো আগের স্বাভাবিক কার্যক্রমে পুরোপুরি ফিরতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে ছয়-সাত মাস পর তাঁরা নিজেরাই কিছু উদ্যোগ নিতে বাধ্য হয়েছেন। ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বিভিন্ন বাহিনীর কাছে বারবার ধরনা দিয়েও প্রত্যাশিত ফল পাননি বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন।
ইশরাক জানান, তাঁর নির্বাচনী এলাকার সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া এবং বংশাল ও কোতোয়ালি থানার আংশিক এলাকা নিয়ে ১১টি ওয়ার্ড রয়েছে। এসব এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, যানজটসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), ডিএমপির লালবাগ ও ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার এবং ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রতি মাসে অন্তত একবার বৈঠক করেন তাঁরা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাঁর নির্বাচনী এলাকার তিনটি থানা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে ইশরাক বলেন, তখন থানাগুলোতে কার্যত কিছুই ছিল না। তাঁরা পুলিশের বসার ব্যবস্থা ও আসবাবের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
ইশরাকের দাবি, অভিযানে যাওয়ার আগেও পুলিশকে জানানো হয়েছিল। নিজের নিরাপত্তার জন্য তিনি লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র সঙ্গে রেখেছিলেন। বিপদের আশঙ্কায় সেটি হাতে নেন। পরে অস্ত্রটি আর দৃশ্যমান অবস্থায় রাখেননি।
তবে পুলিশের আগের বক্তব্যের সঙ্গে ইশরাকের এই দাবির পার্থক্য রয়েছে। শনিবার ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, প্রতিমন্ত্রী আগে থেকে পুলিশকে জানাননি। তাঁরা পরে বিষয়টি জানতে পারেন। ইশরাকও শনিবার সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার ১০ মিনিট পর পুলিশকে আসতে বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক অভিযোগ করেন, গণমাধ্যমে তাঁর কর্মকাণ্ডের কিছু সত্য ঘটনার সঙ্গে অতিরঞ্জিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে। তাঁর কারণে প্রধানমন্ত্রীর ভালো কাজের আলোচনা আড়ালে পড়ে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
দল চাইলে মেয়র নির্বাচন করবেন
প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচন করবেন কি না, এমন প্রশ্নও করা হয় ইশরাককে। জবাবে তিনি বলেন, দল তাঁকে মেয়র পদে মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে অংশ নিতে শতভাগ প্রস্তুত আছেন। তবে দল অন্য কাউকে প্রার্থী করলে তাঁর পক্ষেও সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
পদত্যাগের পেছনে কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ইশরাক বলেন, নিজের দলের মধ্যে কোনো ষড়যন্ত্রের শিকার হননি। তবে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা তাঁর অস্ত্র হাতে অভিযানকে ‘সন্ত্রাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করায় তিনি ব্যথিত হয়েছেন।
ইশরাক বলেন, তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়েছিলেন। সেখানে ৩০০ গ্রাম হেরোইন, কয়েক বোতল মদসহ বিভিন্ন অবৈধ সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। নিজের কর্মকাণ্ডের পক্ষে স্থানীয় বাসিন্দাদের সমর্থনের কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, অভিযানের সময় এলাকার মানুষ হাততালি দিয়ে উল্লাস করেছেন। দীর্ঘদিন পর তাঁরা সাহস পেয়েছেন।
পদত্যাগের পর তদন্তের কী হবে
ইশরাক প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দিলেও শনিবারের অস্ত্র প্রদর্শন ও অভিযানে তাঁর ভূমিকার আইনি দিক নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা, ২০২৫’-এর ২৫(ক) উপ-অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আত্মরক্ষার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র বহন বা ব্যবহার করা যায়। তবে অন্যের ভীতি বা বিরক্তি উদ্রেক করতে পারে, এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন নিষিদ্ধ।
অন্যদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এ অভিযান, তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের জন্য নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বা সংসদ সদস্য হওয়ার কারণে কেউ পুলিশের মতো অভিযান পরিচালনার পৃথক ক্ষমতা পান না। ফলে ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শন আত্মরক্ষার প্রয়োজনেই হয়েছিল, নাকি এতে অস্ত্রের লাইসেন্সের শর্ত বা অন্য কোনো আইন লঙ্ঘিত হয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো তদন্তসাপেক্ষ।
এদিকে গতকাল সংবাদ সম্মেলনেও নিজের অবস্থানে অনড় থাকার কথা জানান ইশরাক। নেতা-কর্মীদের নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব ভবন থেকে নেমে গাড়িতে ওঠেন তিনি। এ সময় নেতা-কর্মীরা তাঁকে ঘিরে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে গাড়ির ছাদ খুলে হ্যান্ডমাইকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন ইশরাক।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক জানিয়েছেন, মন্ত্রিত্ব ছাড়লেও সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। যে কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্কের পর তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়, সেটিকে এখনো ভুল মনে করছেন না তিনি।
তবে ইশরাকের অভিযানে আইন লঙ্ঘিত হয়েছিল কি না, তা নির্ধারণের দায়িত্ব এখন পুলিশের তদন্তের ওপর।
