
বিশেষ প্রতিবেদক : রাতভর চলে ডিজে পার্টি। মাদকসেবনসহ পরিচালিত হয় মাদকের কারবার। এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সদর দপ্তরের এডিশনাল ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের রাজধানীর ভাটারা এলাকার ভাড়া দেওয়া বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। অভিযানে ওই বাড়ি থেকে ৮৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর এডিশনাল ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরকে রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখা থেকে সরিয়ে সদর দপ্তরের হেডকোয়ার্টার্স শাখায় সংযুক্ত করা হয়েছে। আজ ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে পদ থেকে সরানো হয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সই করা আদেশে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আব্দুল্লাহ আল জহিরকে হেডকোয়ার্টার্স শাখায় সংযুক্ত করা হলো। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, বাড়িটিতে নিয়মিত মাদকের আসর বসত। পাশাপাশি ডিজে পার্টিও চলত। বিভিন্ন বয়সী নারী ও পুরুষ সেখানে মাদক সেবনের জন্য যেতেন। পরে তথ্য পেয়ে অভিযান চালানো হয়েছে। বাড়িটি অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের। তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড রিপেয়ার শাখায় কর্মরত।
অভিযানের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত ডিআইজি অনলাইনের মাধ্যমে বাড়িটি ভাড়া দিয়েছিলেন। যাঁরা ভাড়া নিয়েছিলেন, তাঁরা বাড়িটি মাদকসংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করতেন। আটক ৮৫ জনের মধ্যে ২৬ জন নারী। তাদের মধ্যে আফগানিস্তানের একজন নাগরিকও রয়েছেন। ওই বাসা থেকে গাঁজা, ইয়াবা, মদসহ বিভিন্ন সামগ্রী ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম জব্দের কথা জানিয়েছে ডিবি। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার ইলিয়াস কবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসাটি একজন হোস্ট ও কো-হোস্টের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল। কো-হোস্ট মাহবুবুল আলমকে আটক করা হয়। বাসাটি এয়ারবিএনবির মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া হলেও সেখান থেকে অর্জিত আয়ের ৭০ শতাংশ জহির পেতেন বলে জানান তিনি।
ডিবির একটি সূত্র জানায়, আটক কো-হোস্টকে ছাড়িয়ে নিতে তদবির করেছিলেন ওই কর্মকর্তা। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
