মতিয়া চৌধুরীসহ আ.লীগ নেতারা চাপ দিয়ে যুদ্ধাপরাধ মামলায় সাক্ষ্য নেন : মুক্তিযোদ্ধা আবুল মনসুর

দাবি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল মনসুরের

শেরপুর প্রতিনিধি : শেরপুরে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় মতিয়া চৌধুরীসহ আ.লীগ নেতারা চাপ দিয়ে সাক্ষ্য নেন বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। ঐ মামলায় বিএনপির তিন নেতা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হন। আজ ১৭ আগস্ট সোমবার দুপুরে নকলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি তিন নেতার সাজা বাতিল করে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির তিন নেতাকে ‘নির্দোষ’ দাবি করে লিখিত বক্তব্য দেন নকলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল মনসুর।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নকলা বিএনপির তিন নেতা হলেন সাবেক পৌর মেয়র মোখলেছুর রহমান তারা, অ্যাডভোকেট একেএম আকরাম হোসেন ও নকলা হাজী জাল মামুদ কলেজের সাবেক প্রভাষক এসএম আমিনুজ্জামান ফারুক।

সংবাদ সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল মনসুর বলেন, ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগম নকলা উপজেলায় ৬০ জন আল-বদর ও রাজাকারের তালিকা নিয়ে আসেন। সেই তালিকায় বিএনপি নেতা ও সাবেক পৌর মেয়র মোখলেছুর রহমান তারা, অ্যাডভোকেট একেএম আকরাম হোসেন ও নকলা হাজী জাল মামুদ কলেজের সাবেক প্রভাষক এসএম আমিনুজ্জামান ফারুকের নাম অর্ন্তভুক্ত ছিল।

প্রথমে এসপি আমাকে স্বাক্ষর দেওয়ার জন্য ফোন করেন, পরে ডিসিও ফোন করেন। কিন্তু আমি স্বাক্ষর দিই নাই।
এরপর তৎকালীন এমপি বেগম মতিয়া চৌধুরী (প্রয়াত)-সহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আমাকে জোরপূর্বক চাপ প্রয়োগ করে লিখিত নিয়েছেন এবং সাক্ষ্য নিয়েছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল মনসুর বলেন, নকলাতে আমার জানামতে আল-বদর বলতে কেউ ছিল না। সাবেক মেয়র মোখলেছুর রহমান তারার ১৯৭১ সালে সার্টিফিকেট অনুযায়ী বয়স ছিল ১০ বছর ৪ মাস। বিএনপি নেতা একে এম আকরাম হোসেন ও এস এম ফারুকের বয়সও ১০ বছরের কম ছিল। এমনকি ওই ৬০ জনের তালিকার সত্যতারও ভিত্তি নেই। পরে ওই তিনজনের নামে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা যুক্ত করা হয়, যা ভিত্তিহীন। তারা তিনজনই ওই মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন। এতে তাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক মানসম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। সবাই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তারা কেউ রাজাকার বা আল-বদর বাহিনীর সদস্য হতে পারেন না।

তিনি আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কখনোই নিরপরাধ কোনো ব্যক্তিকে রাজনৈতিক বা মতাদর্শের কারণে হয়রানি করার শিক্ষা দেয় না।

আবুল মনসুর ওই মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, সত্য উদঘাটন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ সময় তিন নেতার স্বজন ও বিএনপি নেতারা জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের বয়স ছিল ১০-১২ বছর। আর মামলার অনেক সাক্ষীর বয়সও তখন ৭-৮ বছর ছিল। শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় তাদের সাজা দিয়ে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। অবিলম্বে ওই তিনজনের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

সংবাদ সম্মেলনে নকলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক মো. আব্দুল হক, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন বাদশা, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মহিউদ্দিন মুক্তার, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য এনামুল হক রিপন, নকলা পৌর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মুরাদুজ্জামান মাসুম, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক ছানোয়ার হোসেন অভি, মোখলেছুর রহমান তারার ছেলে মো. তানিম, একেএম আকরাম হোসেনের ছেলে রায়হান হোসেন রিবু, ধুকুড়িয়া এজেড টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রেজাউল আলমসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

Share