মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যাপক হামলা, বাহরাইনে বাজল সাইরেন

নয়াবার্তা ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। শুক্রবার ও শনিবার জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন এবং সৌদি আরবে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটিতে এসব হামলা চালানো হয়। জুন মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার অংশ হিসেবে এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে।

শনিবার বাহরাইনে পঞ্চমবারের মতো বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের শান্ত থাকার এবং নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানায়। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের নৌবাহিনী কুয়েতের আল আহমাদি বন্দরে মার্কিন নৌবহরের জ্বালানি সহায়তা কেন্দ্র এবং বাহরাইনের শেখ ইসা বিমান ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম জানায়, বাহরাইনে বাতেলকো নামে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা তথ্যকেন্দ্র এবং কুয়েতে একটি সিগন্যাল ও যোগাযোগ কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, তারা জর্ডান ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ‘থান্ডার’ নামক অভিযানের ১৪তম ধাপের অংশ হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়। সেনাবাহিনীর দাবি, এই হামলায় মার্কিন বাহিনীর গোলাবারুদের গুদাম, জ্বালানি ট্যাংক এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে, শনিবার সৌদি আরবে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদক এক্সে দেওয়া পোস্টে একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানান। প্রায় চার মাসের মধ্যে উপসাগরীয় দেশটিতে এটি ইরানের প্রথম সরাসরি হামলা। এর আগে এপ্রিলের শুরুতে জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়েছিল তেহরান।

হরমুজ প্রণালীসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। জুন মাসে যুদ্ধ বন্ধ এবং একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে সেই চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা জোরদার করেছে।

Share