মরক্কোর রাজনৈতিক ইতিহাস বদলে দিলেন যে নারী

নয়াবার্তা ডেস্ক : মরক্কোর রাজনীতিতে একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে ফাতিমা জাহরা আল মানসুরির হাত ধরে। আইনজীবী, নগর রাজনীতির অভিজ্ঞ নেতা, মন্ত্রী এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মী ফাতিমা ২০২৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো নারী সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পেলেন।

রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ তাকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দেন। এর আগে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে তার দল অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি—পিএএম—সবচেয়ে বেশি আসন পেয়ে নির্বাচনের শীর্ষ দল হিসেবে উঠে আসে। ফলে স্থানীয় রাজনীতি থেকে জাতীয় নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ফাতিমার দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা নতুন মাত্রা পায়।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পৌঁছানোর গল্পটি কেবল একটি নির্বাচনী ফলাফলের গল্প নয়। এর পেছনে আছে প্রশাসনিক পরিবারে বেড়ে ওঠা, আইন পেশায় প্রতিষ্ঠা, মারাকেশের নগর রাজনীতিতে উত্থান, বিতর্ক ও রাজনৈতিক চাপ সামলানো এবং ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে চলে আসার দীর্ঘ পথ।
ফাতিমা জাহরা আল মানসুরি ১৯৭৬ সালের ৩ জানুয়ারি মরক্কোর রেহামনা প্রদেশের একটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আবদেররহমান আল মানসুরি ছিলেন মরক্কোর প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।

তিনি মারাকেশের পাশা বা ডেপুটি গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরবর্তী সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে মরক্কোর রাষ্ট্রদূত হিসেবেও কাজ করেছেন। শৈশব থেকেই বাবার পেশাগত জীবন ফাতিমার ওপর প্রভাব ফেলেছিল। বিশেষ করে আদালতে বাবার যুক্তিতর্ক দেখার অভিজ্ঞতা তাকে আইন পেশার দিকে আকৃষ্ট করে। পরবর্তীকালে রাজনীতিতে প্রবেশের ক্ষেত্রেও বাবার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাকে অনুপ্রাণিত করেছিল বলে বিভিন্ন জীবনীমূলক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তার পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গে মরক্কোর রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক পরিমণ্ডলেরও যোগ রয়েছে। তার আত্মীয়দের মধ্যে রয়েছেন কর্নেল আবদুল্লাহ মানসুরি এবং মরক্কোর উপনিবেশবিরোধী ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত আহমেদ মানসুরি। পিএএমের প্রতিষ্ঠাতা ফুয়াদ আলি আল হিম্মামের সঙ্গেও তার পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। অর্থাৎ, ফাতিমার বেড়ে ওঠা এমন একটি পরিবেশে, যেখানে রাষ্ট্র, প্রশাসন, রাজনীতি ও আইন—সবকিছুর সঙ্গে পরিচয় তৈরি হওয়ার সুযোগ তার ছোটবেলা থেকেই ছিল।

ফাতিমার শিক্ষাজীবনের শুরু মারাকেশের একটি ফরাসি বিদ্যালয়ে। পরে তিনি আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য ফ্রান্সে যান। তার শিক্ষাজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল মরক্কোর মোহাম্মদ ভি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা এবং পরবর্তীতে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রে করপোরেট আইন বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা নেওয়া। আইনের প্রতি আগ্রহ অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে তৈরি হয়নি। বাবাকে আদালতে কাজ করতে দেখেই ছোটবেলা থেকে এই পেশার প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি আইন পেশায় যোগ দেন। মরক্কোতে নিজের একটি আইন প্রতিষ্ঠানও প্রতিষ্ঠা করেন। তার আইন ব্যবসার প্রধান ক্ষেত্র ছিল বাণিজ্যিক ও রিয়েল এস্টেট লেনদেন। এখানেই একজন আইনজীবী হিসেবে তার পেশাজীবনের প্রথম পরিচয় তৈরি হয়।

ফাতিমার রাজনীতিতে প্রবেশ ঘটে ২০০০-এর দশকে। তিনি অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টির (পিএএম) সঙ্গে যুক্ত হন এবং দলটির পৌর রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০০৯ সালে তার রাজনৈতিক জীবনে আসে বড় মোড়। সে বছর তিনি মারাকেশ সিটি কাউন্সিলে নির্বাচিত হন। এরপর মাত্র ৩৩ বছর বয়সে মারাকেশের মেয়র নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস তৈরি করেন। তিনি হয়ে ওঠেন শহরটির প্রথম নারী মেয়র। মারাকেশ মরক্কোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর—পর্যটন, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির দিক থেকে যার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এমন একটি শহরের নেতৃত্বে একজন তরুণ নারী হিসেবে ফাতিমার আবির্ভাব মরক্কোর স্থানীয় রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ছিল। ২০০৯ সালের ২২ জুন তিনি মেয়র নির্বাচনে ৫৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন; তার প্রতিদ্বন্দ্বী তৎকালীন মেয়র ওমর জাজুলি পান ৩৫ ভোট।

তবে শুরু থেকেই তার মেয়র হওয়ার পথ মসৃণ ছিল না। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তার নির্বাচন নিয়ে আইনি বিতর্ক শুরু হয়। প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি আদালত প্রথমে তার নির্বাচন বাতিল করে। অভিযোগ ছিল, ভোটের ব্যালট আগেভাগে বিতরণ করা হয়েছিল এবং কিছু ভোটের রেকর্ড নষ্ট করা হয়েছিল। ফাতিমা অবশ্য এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেন। পরে সেপ্টেম্বরে প্রশাসনিক আপিল আদালত আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে তার নির্বাচনকে বৈধ ঘোষণা করে। এই ঘটনাটি তার রাজনৈতিক জীবনের শুরুতেই একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হয়ে ওঠে—নগর রাজনীতির ক্ষমতার লড়াই, আইনি চ্যালেঞ্জ এবং দলীয় দ্বন্দ্ব—সবকিছুর মধ্যেই তাকে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে হয়েছিল।

মেয়র হওয়ার পর ফাতিমা নিজেকে শুধু রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, একজন প্রশাসক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন। তার মেয়র হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি বলেছিলেন, তিনি ‘উদাহরণের মাধ্যমে শাসন’ করতে চান। নিজের মেয়রের বেতনও তিনি পৌর কর্মকর্তাদের খরচ মেটানোর জন্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জীবনীমূলক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি প্রতি সপ্তাহে নাগরিকদের সঙ্গে সভা করতেন। মারাকেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ছিল তার ঘোষিত অগ্রাধিকারের একটি। শহরের এমন প্রায় ২০ হাজার পরিবারের কথা তিনি তুলে ধরেছিলেন, যাদের পানীয় জল বা বিদ্যুতের পর্যাপ্ত সুবিধা ছিল না।

পর্যটননির্ভর মারাকেশের উন্নয়ন নিয়েও তার আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি ছিল। তার মতে, শহরের পর্যটননীতি শুধু পর্যটক ও হোটেল শিল্পকে কেন্দ্র করে থাকলে চলবে না; স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীকেও এর সুফল দিতে হবে। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই শহরের রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও তিনি দাবি করেছিলেন। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ফাতিমাকে দলীয় ও প্রশাসনিক চাপের মুখেও পড়তে হয়। ২০১১ সালে তিনি সিটি কাউন্সিলে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং নিয়োগ ও সংগঠনসংক্রান্ত সংস্কার নিয়ে চাপ এর পেছনে ভূমিকা রেখেছিল বলে সে সময় ধারণা করা হয়েছিল। এমনকি তিনি পিএএম ছেড়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগ করেননি। পরদিনই আবার মেয়রের কার্যালয়ে ফিরে আসেন। এই ঘটনাটি তার রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি দিক সামনে আনে—ক্ষমতার কাঠামোর ভেতরে থেকেও নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা।

রাজনীতিতে দীর্ঘ বিরতির বদলে ফাতিমা আরো শক্তভাবে ফিরে আসেন। ২০২১ সালের স্থানীয় নির্বাচনে পিএএমের সাফল্যের পর তিনি আবার মারাকেশের মেয়র নির্বাচিত হন। ফলে শহরটির সঙ্গে তার রাজনৈতিক সম্পর্ক আরো গভীর হয়। এরই মধ্যে তার পরিচয় আর শুধু মেয়র হিসেবে সীমাবদ্ধ ছিল না। জাতীয় রাজনীতিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিলেন। ২০২১ সালের ৭ অক্টোবর আজিজ আখানুশের নেতৃত্বাধীন সরকারে ফাতিমা আবাসন ও নগর পরিকল্পনার দায়িত্ব পান। এই মন্ত্রণালয়ের কাজ তার আগের মেয়র হিসেবে অভিজ্ঞতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত ছিল। নগর উন্নয়ন, আবাসন, পরিকল্পনা ও শহর পরিচালনার যে অভিজ্ঞতা তিনি মারাকেশে অর্জন করেছিলেন, জাতীয় পর্যায়ে মন্ত্রী হিসেবে সেই অভিজ্ঞতাই কাজে লাগানোর সুযোগ পান। ফলে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে স্থানীয় সরকার থেকে জাতীয় সরকারের দিকে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আরও দৃঢ় হয়।

অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি—পিএএম—মরক্কোর তুলনামূলক নতুন রাজনৈতিক দল। ২০০৮ সালে রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদের একজন উপদেষ্টার উদ্যোগে দলটি গঠিত হয়। সামাজিক আধুনিকায়ন এবং তুলনামূলক ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষে দলটি নিজেদের অবস্থান তৈরি করে। ফাতিমা ধীরে ধীরে এই দলের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। ২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচনে পিএএম সবচেয়ে বেশি (৯৭ টি) আসন অর্জন করে। মরক্কোর সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের নিম্নকক্ষে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া রাজনৈতিক দলের নেতা সরকারপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পান। তবে ৩৯৫ আসনের সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ১৯৮টি আসন প্রয়োজন। ফলে সরকার গঠনের জন্য জোট ও রাজনৈতিক সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই বাস্তবতার মধ্যেই ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ এল মানসুরিকে রাজপ্রাসাদে ডেকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দেন।

এই নিয়োগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—মরক্কোর ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নারী সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পেলেন। এর আগে মরক্কোর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও মন্ত্রণালয়ে নারীরা দায়িত্ব পালন করেছেন। বিদায়ী সরকারেও একাধিক নারী মন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর পদটি এতদিন পুরুষদের দখলেই ছিল। ফাতিমার নিয়োগ তাই তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের পাশাপাশি মরক্কোর রাজনৈতিক ইতিহাসেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ঘটনা। আরব বিশ্বের ক্ষেত্রেও এই নিয়োগের আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। তিউনিসিয়ার নাজলা বুদেনের পর এল মানসুরি আরব বিশ্বের দ্বিতীয় নারী সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেলেন। প্রধানমন্ত্রী মনোনীত হওয়ার পর এক বক্তব্যে ফাতিমা রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদকে নারীদের ‘সবচেয়ে বড় সমর্থক’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া তার জন্য বড় সম্মানের বলে জানান। তবে নিজের রাজনৈতিক পরিচয়কে ‘লৌহ নারী’ ধরনের কোনো শক্ত ইমেজের মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে তিনি আগ্রহী নন। নারীর অধিকার, উত্তরাধিকার আইনসহ মরক্কোর কিছু স্পর্শকাতর সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে তার বক্তব্যও সাধারণত সতর্ক ও পরিমিত।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফাতিমার সামনে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ। প্রথমত, নির্বাচনে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় তাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার গঠন করতে হবে। নির্বাচনের আগে পিএএম বিদায়ী জোটের অন্যতম শরিক ন্যাশনাল র‍্যালি অব ইন্ডিপেন্ডেন্টসের সঙ্গে নতুন করে জোট করতে অনাগ্রহ দেখালেও পরে ফাতিমা জানান, সরকার গঠনের আলোচনায় কোনো ‘লাল দাগ’ থাকবে না এবং অতীতের অধ্যায় পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে হবে। দ্বিতীয়ত, মরক্কোর সামনে রয়েছে ২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি। স্পেন ও পর্তুগালের সঙ্গে যৌথভাবে এই বিশ্বকাপ আয়োজন করবে মরক্কো। আয়োজনকে কেন্দ্র করে দেশটিতে বিপুল অবকাঠামোগত বিনিয়োগ ও উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। তৃতীয়ত, তরুণদের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অসন্তোষও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তরুণদের উদ্বেগ সাম্প্রতিক সময়ে মরক্কোর রাজনীতিতে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ফলে ফাতিমার সরকারকে একই সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, সামাজিক প্রত্যাশা এবং বড় অবকাঠামো প্রকল্প—সবকিছু সামলাতে হবে।

রাজনৈতিক জীবনের বাইরে ফাতিমার ব্যক্তিজীবন সম্পর্কে প্রকাশ্য তথ্য তুলনামূলকভাবে সীমিত। তিনি চৌকরি বেরাদার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তাদের দুই সন্তান রয়েছে। একজন আইনজীবী হিসেবে পেশাগত জীবন, মেয়র ও মন্ত্রী হিসেবে রাজনৈতিক দায়িত্ব এবং পারিবারিক জীবন—এই তিনটি ক্ষেত্রকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়েছেন তিনি। তার জীবনের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো আইন পেশার সঙ্গে রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ধারাবাহিক সম্পর্ক। আইনজীবী হিসেবে কাজ করার সময় যে যুক্তি, প্রশাসনিক কাঠামো ও আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে তার পরিচয় তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী রাজনৈতিক জীবনে সেগুলোই তাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। ২০১৪ সালে ফোর্বসের আফ্রিকার প্রভাবশালী ২০ নারীর তালিকায় তার নাম শীর্ষে থাকার তথ্যও তার আন্তর্জাতিক পরিচিতির একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

ফাতিমা জাহরা আল মানসুরির রাজনৈতিক যাত্রাকে এক লাইনে ব্যাখ্যা করা কঠিন। তিনি আইনজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন—কিন্তু পরে স্থানীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেছেন। মাত্র ৩৩ বছর বয়সে মারাকেশের মেয়র হয়েছেন। তারপর নির্বাচনী আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করেছেন। আবার মেয়র হয়েছেন, জাতীয় সরকারের মন্ত্রী হয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত পিএএমের নেতৃত্ব দিয়ে দেশের সরকারপ্রধানের পদে পৌঁছেছেন। তার গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক সম্ভবত এখানেই—মরক্কোর রাজনীতিতে নারীদের উপস্থিতি যেখানে বহু বছর ধরেই ছিল, সেখানে সরকারপ্রধানের পদে একজন নারীর পৌঁছাতে অপেক্ষা করতে হয়েছে এতদিন। ২০২৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সেই অপেক্ষার অবসান ঘটেছে।

Share