
নয়াবার্তা ডেস্ক : মাঝ আকাশে ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে মারামারি। এর মধ্যেই উড়োজাহাজ থেকে পাঠানো হলো জরুরি সংকেত। ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় মুহূর্তেই তৎপর হয়ে উঠল ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। পাঠানো হলো যুদ্ধবিমান, ডাকা হলো জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক। তবে শেষ পর্যন্ত জানা গেল, উড়োজাহাজ ছিনতাই হয়নি।
বুধবার প্রায় ১৮০ যাত্রী নিয়ে দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিব যাচ্ছিল ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স। সৌদি আরবের উত্তরাঞ্চলের আকাশে থাকা অবস্থায় উড়োজাহাজটি সম্ভাব্য ‘বেআইনি হস্তক্ষেপের’ সংকেত পাঠায়। এরপর জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে গতিপথ পরিবর্তন করা হয়।
সংকেতটি পাওয়ার পর উড়োজাহাজটি ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিমানটির দিকে যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়। যদিও যুদ্ধবিমান পাঠানোর বিষয়ে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটের তথ্য অনুযায়ী, পরে ফ্লাইদুবাই জানায়, ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে মারামারির সময় ছিনতাইসংক্রান্ত জরুরি সংকেতটি সক্রিয় হয়ে যায়।
ঘটনাটি ঘিরে ইসরায়েলের শীর্ষ পর্যায়েও শুরু হয় তৎপরতা। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জরুরি নিরাপত্তা পরামর্শে অংশ নেন। বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থাকে নিয়ে যৌথ কমান্ড সেন্টার স্থাপনের নির্দেশ দেয় পুলিশ।
পুলিশ কমিশনার ড্যানি লেভিও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। সে সময় তিনি জানান, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তবে কিছু সময় পরই ছিনতাইয়ের আশঙ্কা নাকচ করে দেয় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। জানানো হয়, উড়োজাহাজটি ছিনতাই হয়নি। দুই পাইলটের মধ্যে মারামারির সময় সক্রিয় হওয়া জরুরি সংকেত থেকেই ছিনতাইয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত পুরো ঘটনাকে ‘ফলস অ্যালার্ম’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
