শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ, পরীক্ষা বাতিল; তারপরও আন্দোলন!

বিশেষ প্রতিবেদক : শিক্ষামন্ত্রী ভরা সংসদে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, ভুল প্রশ্নে ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, ভুল প্রশ্ন প্রণয়নে জড়িতদের শোকজ করেছেন, বিরূপ আবহাওয়ায় যারা পরীক্ষা দিতে পারেননি তাদের আবারও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন- পরীক্ষার্থীবান্ধব এত এত উদ্যোগের পরও আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শিক্ষা প্রশাসন, শিক্ষক, অভিভাবক, পরীক্ষার্থী এবং বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে- সত্যিই কি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের জন্য আন্দোলনের কোনো যৌক্তিকতা আছে, নাকি গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এই আন্দোলন গড়ে তোলা হচ্ছে? অবশ্য আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ বলছে, ‘আমরা মনে করি শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আবার যাদের পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে সংশয় আছে তারা আন্দোলনে এসেছে।’ শিক্ষকদের একটি বড় প্ল্যাটফর্ম সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদ মনে করছে, এই আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে। এইচএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে স্বার্থান্বেষী মহল বিশৃঙ্খলা করার অপচেষ্টা করছে।

বন্যার মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া এবং একটি ফোনালাপে শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিভিন্ন কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করে। এরপর তারা শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এলাকায় অবস্থান শেষে বিকেলে সংসদ ভবনের সামনের এলাকায় জড়ো হয়।

সেখানে পুলিশ লাঠিপেটা করে তাড়িয়ে দিলেও আবারও সন্ধ্যার পর অবস্থান নেয়। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে রাত ১০টায় ‘লংমার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচি ঘোষণা করে তারা এলাকা ত্যাগ করে।

বন্যার কারণে চট্টগ্রামের সব বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রাখার দিন বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত অন্যান্য বোর্ডে পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা শেষে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার (১৫ জুলাই) বেলা দেড়টা থেকে আন্দোলনকারীরা সায়েন্সল্যাব মোড়, ইসিবি চত্ত্বর ও উত্তরা বিএনএস সেন্টারের সামনে জড়ো হয়। সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নেওয়া পরীক্ষার্থীরা নীলক্ষেত হয়ে সচিবালয় অভিমুখে লং মার্চ শুরু করে শিক্ষা ভবনের সামনে পুলিশ বাধার মুখে পড়ে। পুলিশের সঙ্গে কথা বলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তারা শিক্ষা ভবন এলাকা ছেড়ে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয়।

শিক্ষা ভবনের সামনে আন্দোলন নিয়ে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। প্রধানমন্ত্রী এখানে (সচিবালয় এলাকা) অফিস করেন। এখানকার কোনো বিষয় আমরা ছোট করে দেখি না। যার কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা সড়কটি বন্ধ করে দিয়েছি।

শাহবাগে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের কয়েকজন রাত ১০টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের আর্টিমেটাম দিয়ে আন্দোলন স্থগিত করে শাহবাগ ছাড়ে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একজন ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী রাহাত আহমেদ বলে, ‘আমরা শিক্ষামন্ত্রীকে রাত ১০টা পর্যন্ত সময় দিচ্ছি। এই সময়ের মধ্যে তিনি পদত্যাগ না করলে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে সায়েন্সল্যাব মোড়ে জড়ো হয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশে পদযাত্রা করব।’

আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন
আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি বলছে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনও অনেকটা এলোমেলো এবং বিচ্ছিন্নভাবে হচ্ছে। কারণ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি সব স্পট থেকে তোলা হলেও অন্য দাবি-দাওয়াগুলোরও ভিন্নতা আছে। ফলে আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শাহবাগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী রাহাত বলে, ‘অনেক শিক্ষার্থী আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কেউ ছয় দফা দাবি তুলছে, আবার কেউ সরকারের পদত্যাগের কথা বলছে। কিন্তু আমরা সরকারের পতন চাই না। বর্তমান সরকার মাত্র চার মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছে। আমাদের দাবি শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন ধাপে ধাপে আনতে হয়। অল্প সময়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের চাপ সৃষ্টি করা ঠিক হয়নি। এ কারণেই আমরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি।’

শাহবাগে আরেক শিক্ষার্থী বলে, ‘কেন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাই? কারণ তারা আমাদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে চাচ্ছে। এই বছর ফলাফল খারাপ করাবে। পরের বছর আরেকটু ভালো করাবে। পরে তারা বলবে, আওয়ামী আমলে শিক্ষাব্যবস্থার অবস্থা খারাপ ছিল। এখন আমরা ভালো করেছি। আমাদের ভোট দিন।’

শিক্ষা ভবনের সামনে সিটি কলেজের ছাত্র মুরসালিন বলে, ‘শিক্ষামন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন, এ বিষয়ে কিছু বলার নেই। যারা আন্দোলন করছে তাদের ফলাফল নিয়ে সংশয় আছে। আমাদের (সিটি কলেজ), ঢাকা কলেজ ও নটরডেম কলেজের ছাত্রদের পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে সমস্যা নেই। যারা আন্দোলন করতে এসেছে তাদের ফলাফল নিয়ে সংশয় আছে বলেই এসেছে।’

শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশের বিষয়ে বীরশ্রেষ্ঠ আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের শিক্ষার্থী এ কে এম রিয়াজুল বলে, ‘উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় যে প্রশ্ন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে সেই প্রশ্ন নাকি দুই বছর আগে আওয়ামী লীগ সরকার করে গিয়েছে। এখন আমরা পরীক্ষা দিচ্ছি বিএনপি সরকারের আমলে, আর এই প্রশ্ন নাকি করেছে আওয়ামী লীগ সরকার দুই বছর আগে। এই বিষয়টি আমার কাছে বোধগম্য নয়। আমাদের এড়ানোর জন্য মন্ত্রী এই কথা বলেছেন।’

পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই আন্দোলনে ষড়যন্ত্র দেখার কথা বলছে শিক্ষকদের একটি বড় প্ল্যাটফর্ম সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদ। পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক প্রিন্সিপাল মো. সেলিম মিয়া, পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মো. দবিরুল ইসলাম ও অধ্যক্ষ নাজমুছ শাহাদাত আজাদী, সাংগঠনিক সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মো. মনিমূল হক এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা গভীর উৎকণ্ঠার সঙ্গে লক্ষ্য করছি ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার মাঝে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়াকে কেন্দ্র করে সারাদেশে স্বার্থান্বেষী মহলের বিশৃঙ্খলা করার অপচেষ্টা করছে। সরকারের ভেতরে বাইরে অনেক পক্ষ প্রতিপক্ষ থাকে। অনেকেই ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। আমরা দেখছি প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় একটা পর্যায়ে নেয়ার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছেন।’

শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, ‘কাজ করতে গেলে কিছু ভুলভ্রান্তি হতেই পারে। অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য তিনি ভুল স্বীকার করেছেন। তারপরেও বিশৃঙ্খলা থামছে না। আমরা এর মাঝে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকে রুখে দিতে মন্ত্রী মহোদয় বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন, যা তাকে আধিপত্যবাদী ও প্রতিক্রিয়াশীলদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।’

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, আজ দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের কর্মকাণ্ডে প্রমাণিত হয়েছে যে, ফ্যাসিস্ট ও আধিপত্যবাদী শক্তি সরাসরি ইন্ধন যুগিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী মিলন সাহেবকে থামাতে পারলে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না। কাজেই সেই ষড়যন্ত্র চলেছে সারাদিন।

পুলিশ যা বলছে
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, ‘ছাত্রদের নিজেদের মধ্যে সমন্বয়হীনতায় পরবর্তীতে নিজেরাই সড়ক ছেড়ে চলে যায়। এরপর আমরা সড়কের দেওয়া ব্যারিকেড সরিয়ে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেই।’

এই আন্দোলনে ছাত্র ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করেছে কিনা- জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এই আন্দোলন ছাত্ররা বা অন্য কেউ প্রবেশ করেছে কিনা সেটা আমরা যাচাই করতে পারিনি। তথ্য প্রমাণ ছাড়া এ বিষয়ে বলা ঠিক হবে না।’

শিক্ষা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা কী বলছে?
বুধবার চট্টগ্রাম বোর্ড ব্যতীত সারাদেশে ২ হাজার ৫৮৩টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে শিক্ষা প্রশাসন জানিয়েছে।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার জানান, আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য উন্নতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও যথেষ্ট উদ্দীপনা ও উৎসাহ নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। সম্প্রতি বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা গ্রহণে জটিলতা নিরসনে নির্বাচিত সরকার সময়োপযোগী ও শিক্ষার্থীবান্ধব কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এইচএসসি শুধু একটি পরীক্ষা নয়; এটি আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কারিগরদের ভবিষ্যৎ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। এ কারণে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরীক্ষা পরিচালনায় সচেষ্ট রয়েছে। সেই পথযাত্রায় শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম অগ্রাধিকার।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক বাংলানিউজকে বলেন, ‘পরীক্ষার্থীদের অনেক দাবি-দাওয়া থাকতে পারে। দাবি-দাওয়ার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী সংসদে কথা বলেছেন, আজও বিবৃতি দিয়েছেন।’

তবে আন্দোলনের অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কিনা সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি শিক্ষা সচিব।

সংসদে শিক্ষামন্ত্রীর ‘পরীক্ষার্থী-বান্ধব’ বিবৃতি
চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা বিষয়ে বুধবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন একটি বিবৃতি দেন।

এসময় তিনি বলেন, চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এ সারাদেশের ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। সম্প্রতি ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনস্থ পাঁচটি জেলা তথা- চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বাইরেও দেশের কিছু জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু পরীক্ষার্থী বৈরী আবহাওয়া ও বহুবিধ কারণে নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি।

প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট অনিবার্য কারণে যারা চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এর কোনো বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেনি, তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ইতোমধ্যে স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিন্ন পরীক্ষাপত্রে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত একই তারিখ ও সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। যেহেতু এইচএসসি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, তাই বিশেষ বিবেচনায় এই বিশেষ সুযোগ প্রদান করা হলো।

বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নে দায়ী ব্যক্তিদের ইতিমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এসময় তিনি বলেন, আমি আবারও আশ্বস্ত করছি পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে যে ভুল হয়েছে, তার জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীবান্ধব ৫ উদ্যোগ
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের পক্ষে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে শিক্ষার্থীবান্ধব পাঁচটি উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে।

১. সারাদেশের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ, এবং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে, বিপুলসংখ্যক সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষার্থীর স্বার্থকে প্রধান্য দিয়ে, সর্বসম্মতিক্রমে পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া সারাদেশে পরীক্ষা চালু রাখা হয়েছে।

২. কোথাও যাতায়াত বা জলাবদ্ধতার কারণে সমস্যা হলে প্রয়োজনে কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত, কিংবা পরীক্ষার সময় বৃদ্ধিসহ যে কোনো প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

৩. প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট অনিবার্য কারণে যারা চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কোনো বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেনি, সেই অনুপস্থিত শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ইতোমধ্যে স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিন্ন পরীক্ষাপত্রে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত একই তারিখ ও সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।

৪. পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের দুটি ভুল প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে ফুল মার্কস (পূর্ণ নম্বর) দেওয়া হবে।

৫. পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নে দায়ী ব্যক্তিদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

Share